গর্ভাবস্থায় আবেগের পরিবর্তন এবং করণীয় - মায়া

গর্ভাবস্থায় আবেগের পরিবর্তন এবং করণীয়

আর্টিক্যালটিতে যা থাকছে-

  • গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য
  • মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য
  • মানসিক বিশৃঙ্খলার ঝুঁকিতে আছেন কারা?
  • কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন?
  • গর্ভাবস্থায় মানসিক সুস্থতা পরিচালনার জন্য কিছু টিপস

মায়ার প্লাটফর্মে আমরা প্রতিনিয়ত আ সংক্রান্ত প্রশ্ন পেয়ে থাকি। আজকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছি।

গর্ভাবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য

বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০% গর্ভবতী মহিলা এবং ১৩% নারী যারা সদ্য প্রসব করেছেন তাদের মানসিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় , প্রাথমিক পর্যায়ে বিষণ্ণতা দিয়ে শুরু হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এটা আরো বেশি, অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় ১৫.৬% এবং শিশু জন্মের পর ১৯.৮%।

গুরুতর ক্ষেত্রে মায়েদের কষ্ট এতটাই বেশি হতে পারে যে তারা আত্মহত্যাও করতে পারে। উপরন্তু, আক্রান্ত মায়েরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারেন না। এর ফলে, শিশুদের বৃদ্ধি এবং উন্নয়নও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। 

মাতৃত্বকালীন মানসিক রোগের চিকিৎসা করা যায়।তাই এ নিয়ে অবহেলার কোন সুযোগ নেই।

মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য

সাম্প্রতিক একটি মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে উন্নয়নশীল দেশের প্রায় ২০% মায়েরা প্রসবের পর ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনে ভোগেন। এটা আগের পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশি, যা বেশিরভাগ উচ্চ আয়ের দেশ থেকে আসছে।

এর প্রভাব শুধু মায়েদের উপরই নয়, শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশের উপরও প্রভাব বিস্তার করে।

গর্ভবতী এবং প্রসব পরবর্তী মহিলাদের মধ্যে আত্মহত্যা এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সাইকোসিস এর কারণে আত্মহত্যা কম হয় কিন্তু তবুও এটি বেড়ে গিয়ে আত্মহত্যা  পর্যন্ত হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে এর কারণে নবজাতকের ক্ষতিও হতে পারে।

বিষণ্ণতা অনেক কষ্টদায়ক এবং জীবনে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিশুর  চাহিদার প্রতি সাড়া কমিয়ে দেয়।

প্রমাণ নির্দেশ করে যে মায়েদের বিষণ্ণতার চিকিৎসা নবজাতকের বৃদ্ধি এবং বিকাশে বেশি সহায়ক হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ডায়রিয়া এবং অপুষ্টির সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে।

মানসিক বিশৃঙ্খলার ঝুঁকিতে আছেন কারা?

প্রায় সকল নারী গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পর প্রথম বছরে মানসিক বিশৃঙ্খলায় ভুগতে পারেন, কিন্তু দারিদ্র্য, অভিবাসন, চরম মানসিক চাপ, সহিংসতার সংস্পর্শ (গার্হস্থ্য, যৌন এবং লিঙ্গ ভিত্তিক), জরুরী এবং সংঘাতমূলক পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, এবং সামাজিক সমর্থনের অভাবে সাধারণত ঝুঁকি বাড়ে। 

তবে, কিছু কিছু বিষয় আপনাকে গর্ভাবস্থায় উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • অতীত মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
  • আপনার প্রতি সবার সাপোর্ট কম এমনটা ভাবা  
  • একটি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া, যেমন – দাম্পত্য সম্পর্ক বা পারিবারিক সম্পর্ক  
  • অতীতে বা বর্তমানে কোন অত্যাচারের মধ্য দিয়ে গেলে   
  • ওষুধ কিংবা মাদকের প্রভাব 

কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন?

সকল গর্ভবতী মা এবং তাদের সঙ্গীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা পর্যবেক্ষণ করা ভাল। আপনার সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে এমন লক্ষণগুলির দিকে খেয়াল রাখুন, এবং আপনার প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকুন।

যদিও গর্ভাবস্থার শারীরিক ও মানসিক নানা উথান পতন আছে,তথাপি নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো অনুভব করলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন: 

  • আপনি ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে খারাপ অনুভব করেছেন (উদাহরণস্বরূপ মনখারাপ বা উদ্বিগ্নতা)  
  • নেতিবাচক চিন্তা এবং অনুভূতি আপনার স্বাভাবিকভাবে কাজ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে শুরু করেছে 
  • আপনি বিষণ্ণতার লক্ষণ দেখাচ্ছেন, যেমন- আগ্রহ হারানো, অথবা হতাশা অনুভব করছেন অথবা মানিয়ে নিতে অক্ষম হচ্ছেন 
  • আপনি সবচেয়ে বেশি বা সব সময় উদ্বিগ্ন থাকছেন 
  • প্যানিক অ্যাটাক শুরু হলে, অথবা খুব বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লে বা কমপালসিভ আচরণ বিকাশিত হলে 

আপনি যদি আপনার মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা নিয়ে চিন্তিত থাকেন তবে আপনার সঙ্গী বা অন্য কারো সাথে কথা বলুন। প্রয়োজনে কাউন্সিলিং করান।

যে কোন মানসিক সমস্যায় পরিচয় গোপন রেখে মায়াতে প্রশ্ন করে বিনামুল্যে মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ নিন।

গর্ভাবস্থায় ও প্রসব পরবর্তী সময়ে মানসিক সুস্থতা পরিচালনার জন্য কিছু টিপস

গর্ভাবস্থায় আপনার মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা পরিচালনা করতে সাহায্য করার জন্য আপনি অনেক কিছু করতে পারেন।যেমন- 

  • নিজের থেকে বেশি আশা করবেন না – আপনি কি করতে পারেন সে সম্পর্কে বাস্তববাদী হোন; যখন দরকার হবে তখন বিশ্রাম নিন।
  • এ সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন না করার চেষ্টা করুন, যেমন বাড়ি পরিবর্তন বা চাকরি পরিবর্তন করা, যদি না আপনাকে বাধ্য হয়ে করতে হয়।
  • শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন (ব্যায়াম প্রোগ্রাম শুরু করার আগে আপনার ডাক্তার বা মিডওয়াইফের সাথে পরামর্শ করুন)।
  • নিয়মিত, স্বাস্থ্যকর খাবার খান। 
  • যাদের সাথে থাকলে মন শিথিল থাকে এবং নিজের সম্পর্কে ভালো বোধ করেন তাদের সাথে সময় কাটান।
  • মানসিক চাপ মোকাবেলা করার জন্য ওষুধ বা অ্যালকোহল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
  • অন্যান্য গর্ভবতী পিতামাতার সাথে সংযোগ তৈরি করতে পারেন যাতে আপনি একে অপরকে সমর্থন করতে পারেন।
  • সাহায্য পেলে তা গ্রহণ করুন; আপনার যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না।

রেফারেন্সসমূহ 

https://www.who.int/mental_health/maternal-child/maternal_mental_health/en/

Thinking healthy: a manual for psychological management of perinatal depression 2015

Prevalence and determinants of common perinatal mental disorders in women in low- and lower-middle-income countries: a systematic review

Interventions for common perinatal mental disorders in women in low- and middle-income countries: a systematic review and meta-analysis

mhGAP Intervention Guide for mental, neurological and substance use disorders in non-specialized health settings

Literature review of risk factors and interventions on Postpartum Depression pdf, 1.19Mb

Improving maternal mental health pdf, 625kb

Maternal mental health and child health and development in low and middle income countries; Report of the meeting held in Geneva, Switzerland, 30 January – 1 February pdf, 1.01Mb

https://www.pregnancybirthbaby.org.au/mental-wellbeing-during-pregnancy

Leave a Reply

Categories