গ্যাসের ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায় - মায়া

গ্যাসের ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায়

গ্যাসের ব্যথা সমস্যার মুখোমুখি হন নি এমন মানুষ কমই আছেন।

অন্ত্রে আটকে থাকা গ্যাস খুবই অস্বস্তিকর হতে পারে। এর কারণে পেটে তীক্ষ্ণ ব্যথা, ক্র্যাম্পিং,পেট টাইট হয়ে থাকা এমনকি ফুলে যাওয়ার কারণও হতে পারে।

বেশিরভাগ মানুষ দিনে ১৩ থেকে ২১ বার গ্যাস পাস করে। যখন গ্যাস আটকে থাকার জন্য, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য দায়ী হতে পারে।

গ্যাসের ব্যথা থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়

গ্যাসের ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য গ্যাস বের করে দিতে হবে এবং গ্যাস যেন না হয় সেভাবে জীবনযাপন করতে হবে।

নিচে গ্যাস বের হওয়ার এবং গ্যাস যাতে না হয় তার ২০টি কার্যকর ঘরোয়া সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হল-

গ্যাস ছেড়ে দিন

গ্যাসধরে রাখার ফলে পেটফোলা, অস্বস্তি এবং ব্যথা হতে পারে। এই লক্ষণগুলি এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হল গ্যাস ছেড়ে দেওয়া।

মল ত্যাগ

অন্ত্রের নড়াচড়া গ্যাস উপশম করতে পারে। মল ত্যাগ করলে সাধারণত অন্ত্রে আটকে পড়া যে কোন গ্যাস বের হয়ে যায়।

ধীরে ধীরে খাওয়া

খুব তাড়াতাড়ি খাওয়া বা চিবানোর সময় একজন ব্যক্তি খাদ্যের সাথে সাথে বাতাসও গ্রহণ করতে পারে, যার ফলে গ্যাস সম্পর্কিত ব্যথা হতে পারে।

দ্রুত খান যারা তারা প্রতিটি বাইটে ৩০ বার করে চিবানোর চেষ্টা করুন । এভাবে খাদ্য চিবিয়ে খেলে তা হজমে সাহায্য করে আর ফুলে যাওয়া এবং বদহজম সম্পর্কিত বেশ কিছু সমস্যাও প্রতিরোধ করতে পারে।

চুইং গাম খাওয়া এড়িয়ে চলুন

একজন মানুষ যখন চুইংগাম চিবায় তখন আর সাথে সাথে সে কিছু বাতাসও গিলে ফেলে যা পরে গ্যাস ও পেটে ব্যাথার কারণ হতে পারে।

চিনি ছাড়া চুইংগামে ব্যবহৃত কৃত্রিম সুইটনারও পেট ফোলা ও গ্যাসের কারণ হতে পারে।

স্ট্র কে না বলুন

স্ট্র দিয়ে খাওয়ার সময় বাতাস গিলে ফেলা একটি সাধারণ ব্যাপার । আবার, বোতল থেকে সরাসরি পান করলেও একই ঘটনা ঘটতে পারে, এটি অনেক সময় বোতলের আকার এবং আকৃতির উপর নির্ভর করে।

গ্যাসের ব্যথা এবং ফোলা এড়াতে, গ্লাস থেকে চুমুক দিয়ে পান করা ভাল।

ধূমপান পরিহার করুন

ঐতিহ্যবাহী বা ইলেকট্রনিক সিগারেট যাই ব্যবহার করা হোক না কেন, ধূমপানের ফলে পরিপাক নালীতে বাতাস প্রবেশ করে।

ধূমপানের সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে, এটি ত্যাগ করাই আপনার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।

কার্বোনেটেড ড্রিংকস পরিহার করুন

কার্বোনেটেড ড্রিংকস যেমন- স্পার্কলিং ওয়াটার, সোডা পানের ফলে পাকস্থলীতে প্রচুর গ্যাস যায় যা পেট ফোলা ও ব্যথার কারণ হতে পারে।

বিশেষ কিছু খাবার পরিত্যাগ করুন

বিশেষ কিছু খাবার খেলে গ্যাসের ব্যথা হতে পারে। তবে ব্যক্তি ভেদে এসব খাবার ভিন্ন হতে পারে।

তবে, নিম্নলিখিত খাবারগুলো বেশি দায়ী হতে পারে-

  • আর্টিফিশিয়াল সুইটনার
  • ক্রুসিফেরাস সবজি যেমন- ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি
  • দুগ্ধজাতীয় খাবার
  • ফাইবার ড্রিংকস এবং সাপ্লিমেন্ট
  • তেলে ভাজা খাবার
  • পেঁয়াজ এবং রসুন
  • উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার
  • ডালজাতীয় শস্য যেমন- শিম,
  • মসলাদার খাবার
  • অতিরিক্ত ঝাল খাবার

যার যে ধরণের খাবারে সমস্যা হয় তা নিজেই সনাক্ত করার চেষ্টা করুন। আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের মত অপ্রয়োজনীয় খাবারগুলো তালিকা থেকে বাদ দিন।

ডালজাতীয় শস্যগুলো যেহেতু পুষ্টিকর তাই খাদ্যতালিকা থেকে একেবারে বাদ না দিয়ে সীমিত আকারে খেতে পারেন কিংবা অন্যভাবে রান্না করতে পারেন।

চা পান

কিছু ভেষজ চা পান করলে আপনার হজমে সাহায্য করতে পারে এবং দ্রুত গ্যাসের ব্যথা কমাতে পারে। সবচেয়ে কার্যকর চা এর মধ্যে রয়েছে:

  • তারা মসলার চা
  • ক্যামোমাইল চা
  • আদা চা
  • পুদিনা চা

তারা মসলা হালকা শিথিলকারক হিসেবে কাজ করে এবং যদি ডায়রিয়া গ্যাসের কারণ হয়ে থাকে তাহলে তা এড়িয়ে চলা উচিত। কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে আটকে থাকা গ্যাসের ব্যথা কমাতে এটি সহায়ক।

মৌরি বীজ খাওয়া

মৌরীর বীজ গ্যাসের জন্য একটি প্রাচীন সমাধান। এক চা চামচ বীজ চিবানো একটি জনপ্রিয় প্রাকৃতিক প্রতিকার।

তবে, গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরা এটি এড়িয়ে চলবেন কারণ এটি নিয়ে জটিলতা সংক্রান্ত কিছু বিতর্ক রয়েছে।

লবঙ্গ তেল

লবঙ্গ তেল প্রাচীনকাল থেকে পরিপাকে সমস্যা , পেট ফোলা, গ্যাসের ব্যথা, এবং বদহজম সংক্রান্ত চিকিত্সায় ব্যবহার করা হয়। এর আলসার-ফাইটিং প্রপার্টিও থাকতে পারে।

খাওয়ার পর লবঙ্গ তেল খাওয়া পরিপাক এনজাইম বৃদ্ধি এবং অন্ত্রে গ্যাসের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

গরম সেঁক

যখন গ্যাসের ব্যথা আঘাত করে, একটি গরম পানির বোতল বা গরম প্যাড পেটে ধরে রাখুন। উষ্ণতা অন্ত্রের পেশী শিথিল করে, গ্যাস অন্ত্রের মধ্য দিয়ে যেতে সাহায্য করে। তাপ এছাড়াও ব্যথা অনুভূতি কমাতে পারে।

পরিপাক সমস্যার সমাধান

যাদের হজমের সমস্যা আছে তাদের আটকে পড়া গ্যাস অনুভব করার সম্ভাবনা বেশি। যাদের (আইবিএস) বা প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ আছে, উদাহরণস্বরূপ, প্রায়ই পেট ফুলে যাওয়া তারা গ্যাসে ব্যথা অনুভব করেন।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং ওষুধের মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা আছে তারাপ্রায়ই গ্যাস ব্যথা অনুভব করেন তাদের ল্যাকটোজ এড়িয়ে চলার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

আপেল সিডার ভিনেগার

আপেল সিডার ভিনেগার পাকস্থলীতে এসিড উৎপাদনে বাঁধা দেয় এবং পরিপাক এনজাইম উৎপাদনে সাহায্য করে। এটি গ্যাস ব্যথা দ্রুত উপশম করতেও সাহায্য করতে পারে।

এক গ্লাস পানিতে এক টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার যোগ করুন এবং গ্যাসের ব্যথা এবং ফোলা প্রতিরোধের জন্য খাবার আগে এটি পান করুন।

এটা পান করার পর পানি দিয়ে মুখ ধোয়া গুরুত্বপূর্ণ, যেহেতু ভিনেগার দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে।

প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট

প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট পেটে উপকারী ব্যাকটেরিয়া যোগ করে। তারা সংক্রামক ডায়রিয়া সহ বেশ কিছু পরিপাক সমস্যার চিকিত্সা করতে ব্যবহৃত হয়।

কিছু গবেষণা পরামর্শ দেয় যে প্রোবায়োটিক সেবনে পেটফোলা, অন্ত্রের গ্যাস, পেটে ব্যথা, এবং আইবিএস এর অন্যান্য উপসর্গ উপশম করতে পারে।

বিফিডোব্যাকটেরিয়াম এবং ল্যাকটোব্যাসিলাস সাধারণত সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

ব্যায়াম

মৃদু ব্যায়াম পেটের পেশী শিথিল করতে পারে, পরিপাক তন্ত্রের মাধ্যমে গ্যাস সরাতে সাহায্য করতে পারে। খাওয়ার পর হাঁটা বা যোগব্যায়াম করা বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম

গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস সবার জন্য কাজ নাও করতে পারে। অতিরিক্ত বাতাস গ্রহণ অন্ত্রে গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে।

যাইহোক, কিছু মানুষ মনে করেন যে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল আটকে পড়া গ্যাসের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যথা এবং অস্বস্তি দূর করতে পারে।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ আবশ্যক?

আটকে পড়া গ্যাস বেদনাদায়ক হতে পারে, কিন্তু অনেক সহজ প্রতিকার দ্রুত উপসর্গ উপশম করতে পারে।

তবে, যাদের দীর্ঘদিন তীব্র গ্যাসে ব্যথা আছে তাদের অবিলম্বে ডাক্তার দেখানো উচিত, বিশেষ করে যদি ব্যথার সাথে থাকে:

যদিও প্রত্যেকেই মাঝে মাঝে আটকে পড়া গ্যাসের চাপ অনুভব করে, কিন্তু নিয়মিত ব্যথা, ফোলা, এবং অন্যান্য গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল উপসর্গ গুলি একটি চিকিৎসনীয় অবস্থা বা খাদ্য সংবেদনশীলতার উপস্থিতি নির্দেশ করতে পারে।

গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মায়া অ্যাপটি ইন্সটল করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন অথবা সরাসরি ভিডিও কলে পরামর্শ নিতে পারেন।

Leave a Reply

Categories