সম্পর্ক তে ফাটল ধরাতে পারে এমন ৭ টি নীরব 'তৃতীয় পক্ষ' - মায়া

সম্পর্ক তে ফাটল ধরাতে পারে এমন ৭ টি নীরব ‘তৃতীয় পক্ষ’

সম্পর্ক ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। প্রত্যেকেই আমরা কোন না কোন সম্পর্কের সাথে জড়িত তা সে পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ইত্যাদি যাই হোক না কেন। আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হচ্ছে একজন পুরুষ এবং নারীর মধ্যে “ভালোবাসার সম্পর্ক”।

কিন্তু অনেকের জীবনেই এই সুন্দর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। কিছুদিন চলার পর দাম্পত্য জীবনের ইতি টানতে বাধ্য হন কাগজের কালিতে।   

একটি সুন্দর সম্পর্ক ভেঙ্গে না যাওয়ার জন্য এমন আচরণ পরিহার করুন যা কাম্য নয়।

আমরা অনেক সময় সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য একজন তৃতীয় ব্যক্তির অনুপ্রবেশ কেই দায়ী করে থাকি।   

কিন্তু সম্পর্কে ফাটল ধরার পিছনে সব সময় তৃতীয় ব্যক্তি নয় আপনার নিজস্ব কিছু আচরণও দায়ী হতে পারে।  

নিচের লেখাটি পড়ে দেখুন এবং জেনে নিন 

১। নিরাপত্তাহীনতা

নিরাপত্তাহীনতা মানে আত্মবিশ্বাসের অভাব বা নিজের সম্পর্কে উদ্বেগ। এর ফলে প্রায়ই একজন আত্মসংশয় অনুভব করে এবং এর বিনিময়ে, মনে করে যে অন্যজন যথেষ্ট ভাল নয়। এটা দম্পতিদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা।

নিরাপত্তাহীনতা স্বাভাবিকভাবেই এক পক্ষের অন্য পক্ষের প্রতি বিশ্বাসের ঘাটতি সৃষ্টি করবে এবং তা অযৌক্তিক আচরণের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এবার নিজের আচরণ পরীক্ষা করে দেখুন । নিজেকে প্রশ্ন করুন- 

  • আপনি কি আপনার চেহারা নিয়ে চিন্তিত?
  • আপনার সঙ্গী কোথায় যায় অথবা কার সাথে তার দেখা হয় তা নিয়ে উদ্বিগ্ন?
  • আপনি কি আপনার সঙ্গীকে অযৌক্তিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন?

যদি আপনি তা করেন, তাহলে আপনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আপনার সঙ্গীর সাথে কথা বলুন এবং দেরি হওয়ার আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে নিন।

২। অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা

অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানে সমর্থন এবং মনোযোগের জন্য কারো উপর অতিরিক্ত নির্ভর করা। একজন অতিরিক্ত নির্ভরশীল ব্যক্তি সবসময়ই আশা করে যে অন্য জন তার জন্য সবসময় পাশে থাকবে।

সঙ্গীকে অবশ্যই তার পাশে থাকতে হবে, তবে তাদের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের জায়গাটুকুও থাকা উচিৎ। 

এটি অন্য পক্ষকে দূরে ঠেলে দেওয়ার কারণ হতে পারে। আপনার সঙ্গীর মনে হতে পারে আপনি তার সাথে প্রতিপালকের মত আচরণ করছেন। 

আপনি যদি মনে করেন যে আপনি বা আপনার সঙ্গী এই ধরনের আচরণ করছেন তাহলে আপনার সঙ্গীর সাথে কথা বলুন।

এ নিয়ে কথা বললে কেবল আপনার ভবিষ্যত হৃদয়ভাঙ্গা থেকে বাঁচাতে পারবেন।

৩। যোগাযোগের অক্ষমতা

এখানে যোগাযোগ মানে আপনার সঙ্গীর সাথে কথা বলার মাধ্যমে আপনার চিন্তা এবং মতামতের তাকে জানানো।

সবাই জানে যে যোগাযোগ একটি সুস্থ সম্পর্কের চাবিকাঠি। তবে, সবার তার সঙ্গীর সাথে যোগাযোগ করার ক্ষমতা নেই।

যোগাযোগের অক্ষমতা অনেক কারণ থেকে উদ্ভূত হতে পারে – রাগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, যোগাযোগের অনিচ্ছা।

যোগাযোগে অক্ষমতা , বিশেষ করে  গুরুতর বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, যোগাযোগ পুরোপুরি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণ হতে পারে, ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে।

স্পষ্টত বললে, হয় তুমি কথা বলো, নয়তো তুমি কেটে পড়।হুম, যেকোন সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে বড় উপায় হল আলোচনা করা। 

৪। নিজের সম্পর্কে নিম্নধারণা 

নিজের সম্পর্কে নিম্নধারণা বা ইনফিউরিটি কমপ্লেক্স একটি জটিল মানসিক সমস্যার বিষয়।

অবচেতন মনে নিজের সম্পর্কে ভালো ধারণার অভাব ও আত্মবিশ্বাসের অভাবে এ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

এর মূলে , আত্মসম্মানের অভাব যা ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বিকশিত হতে পারে (যেমন চেহারা বা বুদ্ধিমত্তার অভাব) এবং বারবার একইরকম নেতিবাচক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়া দায়ী হতে পারে। 

একজন ইনফিউরিটি কমপ্লেক্সে ভোগা ব্যক্তি তাদের সবকিছুতে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেবে।

এর ফলে সে নিজেকে অতিরিক্ত পারফেকসনিস্ট বা স্বাভাবিকের চেয়ে নিম্ন পর্যায়েও নিয়ে যেতে পারে ।

যদি আপনি মনে করেন যে এর কোন সমস্যা আপনার আছে তবে আত্মসম্মান বাড়ানোর প্রয়াস করুন।অনিশ্চিত হলে, আপনার উদ্বেগের ব্যাপারে সঙ্গীর সাথে কথা বলুন।

৫। সবসময় একটি নিখুঁত সম্পর্ক চাওয়া 

এই জগতে কোন নিখুঁত সম্পর্ক নেই। এটা সবসময় মনে রাখবেন। কারণটা ব্যাখ্যা করছি।

কোন মানুষই নিখুঁত নয় এবং আপনার সঙ্গীও একজন মানুষ এটা মেনে নিয়েই কিন্তু আপনি সম্পর্কে জড়িয়েছেন। 

আর নিখুঁত সম্পর্ক কিন্তু শুধুমাত্র নিখুঁত মানুষই দিতে পারে। 

আমাদের প্রত্যেকেই কোন না কোন ভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং তাই নিজের ত্রুটি নিয়ে অন্যকে পারফেক্ট আশা করাটা দুরাশাই বটে।

তাই, নিজের সঙ্গীকে ভালবাসুন তার সব ত্রুটিগুলোকে স্বীকার করে। 

৬। নার্সিসিস্টিক চরিত্র থাকা 

নার্সিসিস্টিক হওয়া মানে শারীরিক এবং মানসিক উভয় ক্ষেত্রেই নিজের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা থাকা। নার্সিসিস্টিক পার্টনার হওয়া মানে নিজেকে ছাড়া আপনার সঙ্গীর জন্য আপনার মনে কোন জায়গা নেই।

আপনার সঙ্গীকে ক্রমাগত আপনার দাম্ভিকতা ও আত্ম-ভাবমূর্তির সাথে লড়াই করতে হবে।

এটা আপনার সঙ্গীর জন্য অযৌক্তিক হতাশার কারণ হতে পারে। তিনি নিজেকে অবহেলিত এবং অপ্রশংসিত বোধ করবেন। 

আপনি যদি আপনার সমস্যাটি বুঝতে পারেন, তাহলে আজই আপনার সঙ্গীর প্রশংসা করা শুরু করুন।

৭। সববিষয়ে অন্যকে খুশি করার আপ্রাণ চেষ্টা

আপনি যদি সবসময় আপনার সঙ্গীকে সন্তুষ্ট করার জন্য খুব চেষ্টা করেন, এর মানে হতে পারে যে আপনার একটি ইনফিউরিটি কমপ্লেক্স আছে, অথবা আপনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। 

আপনি হয়ত মনে করতে পারেন যে আপনার সঙ্গীকে খুশি করা একটি ভাল জিনিস, কিন্তু এটা আসলে অন্য ভাবে কাজ করে।

যখন আপনি সবকিছুতে আপনার সঙ্গীকে খুশি করতে শুরু করবেন, তখন তিনি আপনার গুরুত্ব হারাতে শুরু করবেন।শীঘ্রই, আপনার সঙ্গী আপনাকে আপনার নিজের মত করে দেখতে শুরু করবেন।

সমস্যার সূত্রপাত হবে তখন, যখন আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার সঙ্গী আর আপনার মতামত বা চিন্তা গুরুত্ব দিচ্ছে না, এমনকি আপনাকেও।

এটা যাতে না ঘটে, তার জন্য নিজের মতো করে বাঁচতে শিখুন। সবাইকে, বিশেষ করে আপনার সঙ্গীকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে খুশি করা বন্ধ করুন। 

মনে রাখবেন যে, উপরোক্ত ৭ “তৃতীয় পক্ষ” প্রায়ই আপনার সুস্থ ও সুন্দর সম্পর্ক ধ্বংস করার জন্য পরোক্ষভাবে কাজ করে। 

আপনি কি মনে করেন সে সম্পর্কে ও নিজের আচরণ সম্পর্কে সজাগ থাকুন।কোন সমস্যা হলে নির্দ্বিধায় সঙ্গীর সাথে কথা বলুন। 

সম্পর্কে জটিলতা দেখা দিলে মায়াতে প্রশ্ন করে মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সকল তৃতীয় পক্ষ থেকে দূরে থাকুন যেন সম্পর্কের চারগাছটি পরিপক্ক হয়ে একদিন চিরসবুজ বটবৃক্ষে পরিণত হতে পারে। 

Leave a Reply

Categories