জেনোফোবিয়া বা যৌন মিলনে ভীতির কারণ ও প্রতিকার - মায়া

জেনোফোবিয়া বা যৌন মিলনে ভীতির কারণ ও প্রতিকার

জেনোফোবিয়া , যা কোইটোফোবিয়া নামেও পরিচিত অর্থাৎ যৌন মিলনের ভয়। যাদের এই ভয় আছে তারা সকল যৌন কর্মকে ভয় পায়, অথবা শুধুমাত্র যৌনমিলনকে ভয় পায়।

এ শব্দটি কখনও কখনও ইরোটোফোবিয়া বা যৌনতার ভয়ের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু দুটি বিষয় আসলে ভিন্ন।

জেনোফোবিয়া বিশেষভাবে যৌন মিলনের ভয় বর্ণনা করে, অন্যদিকে ইরোটোফোবিয়া সাধারণত যৌনতার সাথে সম্পর্কিত যে কোন ভয়কে সংজ্ঞায়িত করে।

জেনোফোবিয়া এর কারণসমূহ

সকল ভীতির মত, তীব্র আঘাতের পর জেনোফোবিয়া বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এর পিছনের কারণগুলো হল-

  • ধর্ষণ কিংবা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া
  • অতিরক্ষ্ণশীল মনোভাব
  • কখনও কখনও নিরাপত্তাহীনতাবোধ
  • শারীরিক জটিলতা

উপরন্তু, জেনোফোবিয়া কখনও কখনও কোন শনাক্তযোগ্য কারণ ছাড়াই স্বাধীনভাবে সংঘটিত হয়। নিচে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচিত হল –

ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন হতে সৃষ্ট ভীতি

ধর্ষণ নির্যাতিতার শরীর এবং মনের একটি মৌলিক লঙ্ঘন। ধর্ষণের পর, প্রায় সকলেই একটি তীব্র মানসিক প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়, যদিও সবার প্রতিক্রিয়া একরকম হয় না।

তবে, বেশীরভাগ মানুষ ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের পর শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যায়। যথা-

  • তীব্র ভয় বা ট্রমা
  • রিঅর্গানাইজেশন বা পুনর্গঠন
  • রিজলুশন বা পুরোপুরি সমাধান

ধর্ষণের নিদারুণ কষ্ট থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাটা অনেক কঠিন। কেউ কেউ কখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে না।

পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের মত, ধর্ষণ ট্রমা সিন্ড্রোম আকস্মিক ভাবে মানসিক রোগ বিকাশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

যদিও ফোবিয়া বা ভীতি যেকোন সময় বিকশিত হতে পারে, তবে পুনর্গঠন পর্যায়ে ফোবিয়া প্রায়ই ঘটে, যেহেতু বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা তাদের জীবন পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন।

ধর্ষণের ট্রমা উপসর্গগুলো কাটিয়ে উঠার যাত্রাটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং পুরোপুরি সমাধান করতে ব্যাক্তিভভেদে ভিন্ন ভিন্ন সময় লাগতে পারে।

সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুশাসন

সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় অনুশাসন আমাদের রক্ষণশীল করলেও এ থেকে কোন ভয়ের শিক্ষা দেওয়া হয় না। তাই,ভয়ের কারণও নেই।

কিন্তু, যখন মানুষ এক ধরণের বিশ্বাসের অনুসারী হয় এবং অনুশীলন করেন অন্য ধরণের নীতি তখন ভীতি বিকশিত হতে পারে।

এক্ষেত্রে, দীর্ঘস্থায়ী অপরাধবোধ, আত্মসংশয়, অথবা পুরনো প্রথা ভাঙ্গার কারণে ভয়, ভীতির ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ

অনেক ব্যক্তি, বিশেষ করে যারা কম যৌন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, তারা হয়ত সঙ্গীকে খুশি করতে পারবেন না ভেবে ভয় পেতে পারেন।

যদিও এই ভয় সাধারণত হালকা এবং স্ব-সীমিত,তবে আরো গুরুতরও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ থেকে জেনোফোবিয়া হতে পারে।

যৌন রোগের ভয়

যৌন মিলন এইচআইভি সহ অসংখ্য রোগের ঝুঁকি বহন করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এইসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যেমন- কনডম ব্যবহার, একাধিক ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্ক এড়িয়ে চলা এবং এসটিডি পরীক্ষা করা ।

কোন ব্যক্তি যদি নোসোফোবিয়া, হাইপোকন্ড্রিয়া, সাইবারকনন্ড্রিয়া, মাইসোফোবিয়া বা এ সম্পর্কিত অন্যরোগে ভোগেন, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকির ভয় কাটিয়ে উঠা কঠিন হতে পারে।

অনেকের কাছে সংক্রমণের সামান্য সম্ভাবনাও যৌনমিলনে ভীতির সঞ্চার ঘটাতে পারে।উপরন্তু, কিছু মানুষ যৌনসম্পর্কে যন্ত্রণাদায়ক ভেবে ভয় পায়।

শারীরিক সমস্যা থেকে উদ্ভুত ভয়

শারীরিক সমস্যার কারণে উদ্ভুত ভয়কে ফোবিয়া বলা যাবে না যতক্ষণ না তার ভয় রোগের বিপত্তির সমানুপাতিক হারের বেশি হয় ।

বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন থেকে শুরু করে কিছু হার্টের সমস্যা, যৌন মিলনকে কঠিন, অসম্ভব, অথবা এমনকি সম্ভাব্য বিপজ্জনক করে তোলে।

এই পরিস্থিতিতে সাবধানতা এবং এমনকি ভয়ও বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।

তা সত্ত্বেও, কিছু মানুষ ঝুঁকির মাত্রার থেকে অনেক বেশি ভয় পায়। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ডাক্তার যদি হার্ট অ্যাটাকের পর আপনাকে স্বাভাবিক কার্যকলাপে ফিরে যেতে বলেন, তাহলে আপনার প্রথম যৌন মিলনে কিছুটা আতঙ্ক অনুভব করা স্বাভাবিক।

তবে, এই পরিস্থিতিতে যৌন কার্যকলাপ পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি উপযোগী হবে না।

যে কোন শারীরিক অবস্থার মোকাবেলা করার সময় সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করুন, এবং অস্বাভাবিক গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী যে কোন ভয়ের জন্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

জেনোফোবিয়া এর চিকিত্সা

জেনোফোবিয়া ব্যক্তি বৈবাহিক, শারীরিক ও মানসিক অবস্থার জন্য ক্ষতিকর । এজন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞের কাউন্সিলিং নিতে হবে।

উপরন্তু, যারা যৌনমিলনের সময় ব্যথা বা অন্যান্য় শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হন তাদের অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

জেনোফোবিয়ার সাথে লড়াই করা কখনোই সহজ নয়। অনেকে লজ্জা বা স্ব্ংকোচ বোধ করেন এবং গভীরভাবে ব্যক্তিগত ভীতি শেয়ার করতে অনিচ্ছুক থাকেন।

তবে জেনে রাখুন সঠিক চিকিৎসায় এধরনের ভীতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব। শেয়ার করার সাহসটুকু সঞ্চয় করতে পারলে হয়ত অনেক বড় মানসিক যন্ত্রণা উপশমের উপায় খুঁজে পেতে পারেন।

জেনোফোবিয়া মোকাবেলা করার উপায়

যৌনতা মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, এবং জেনোফোবিয়া তার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু মানুষ যৌন জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন না , যৌন অভিজ্ঞতার বাইরেও বেঁচে থাকার অন্য অর্থ এবং পরিপূর্ণতা খুঁজে বের করেন।

যাইহোক, যারা ভীতি থেকে যৌনতা পরিহার করেন , তারা প্রায়ই নিজেকে অসম্পূর্ণ এবং নিঃসঙ্গ বোধ করেন।

জেনোফোবিয়া এছাড়াও বৈবাহিক সম্পর্কে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, বিশেষত যদি আপনার সঙ্গীর যৌনতার প্রতি আগ্রহের মাত্রা আপনার থেকে আলাদা হয়।

আপনি যদি মনে করেন যে আপনি জেনোফোবিয়ায় ভুগছেন, তাহলে অবশ্যই একজন মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে সহায়তা নিন

এক্ষেত্রে মায়াতে আপনার পরিচয় গোপনই থাকবে তাই নিঃসঙ্কোচে আপনি আপনার মনের কথা তুলে ধরে সহায়তা নিতে পারেন।

Leave a Reply

Categories