পর্নোগ্রাফি আসক্তির নেতিবাচক প্রভাব এবং এর থেকে মুক্তির উপায় - মায়া

পর্নোগ্রাফি আসক্তির নেতিবাচক প্রভাব এবং এর থেকে মুক্তির উপায়

পর্নোগ্রাফি আসক্তি আপনার ব্যক্তিগত ও বৈবাহিক জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। কারও কারও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং দায়িত্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার যদি পর্নোগ্রাফি আসক্তি থাকে, তাহলে আপনার আচরণ কমপালসিভ অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রেই হতে পারে এটি আপনাকে বাধ্য করছে।

পর্নোগ্রাফি আসক্তির সঙ্গে, আপনি অন্যদের সাথে মিথস্ক্রিয়া বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার পরিবর্তে অশ্লীল ভিডিও দেখার জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেন।

এই আচরণ অব্যাহত থাকলে তা আপনার পেশাজীবন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কের অবনতির পাশাপাশি আপনার সুস্থতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মায়ার মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে পর্নোগ্রাফি আসক্তির ক্ষতিকর দিক ও মুক্তির উপায় জানতে বিস্তারিত পড়ুন-

পর্নোগ্রাফি কি আসক্তি?

কিছু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন যে মাদক দ্রব্য বা অ্যালকোহল আসক্তির সাথে পর্নো আসক্তিকে এক কাতারে শ্রেণীবদ্ধ করা উচিত কিনা।

তাদের যুক্তি মূলত মস্তিষ্কের কার্যকলাপের পরিবর্তন থেকে উদ্ভূত যা অভ্যাসগত ড্রাগ ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা যায়।

২০১৫ সালে বিহেভিওর সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, একটি ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) মস্তিষ্কের কার্যকলাপের পরিবর্তন (বিশেষ করে, P300 নামে একটি প্রতিক্রিয়াশীল ঘটনা) সনাক্ত করতে পারে। পর্নোগ্রাফি দেখার ৩০০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে এই প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।

গবেষণায় যুক্তি দেখানো হয় যে একই প্রতিক্রিয়া ঘটে যখন একজন ড্রাগ ব্যবহারকারী মাদক দ্রব্যগ্রহণ করে।

পর্নো আসক্তির উপসর্গ

যদি আপনি নিয়মিত পর্ণো মুভি দেখে থাকেন এবং আপনার আচরণগত নিম্নোক্ত উপসর্গগুলো লক্ষ্য করেন তবে আপনি এতে আসক্ত মনে করতে পারেন :

  • পর্ণো না দেখাবস্থায়ও এসব চিন্তা যদি আপনাকে গ্রাস করে।
  • আপনি কর্মক্ষেত্রে বা জনসম্মুখে আপনার সেলফোনে পর্নো দেখেন যেখানে অন্য কেউ দেখে ফেলতে পারে।
  • আপনি নিজে যদি পর্নোগ্রাফি দেখার জন্য লজ্জিত, দোষী বা বিষণ্ণ বোধ করেন।
  • পর্ণো দেখার ফলে আপনার পেশাজীবন, ব্যক্তিগত সম্পর্কে কি বিরুপ প্রভাব পড়বে তা জানা সত্বেও এ থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে।
  • পর্নোগ্রাফি জড়িত না থাকলে আপনি যদি আপনার সঙ্গীর সাথে যৌন তৃপ্তি লাভ না করেন।
  • আপনি আপনার পর্ণো আসক্তির কথা সবার কাছে গোপন রাখেন।
  • পর্নো দেখা বন্ধ করতে বললে আপনি বিষণ্ণ বোধ করেন।
  • পর্নো দেখার সময় যদি আপনি সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
  • আপনি পর্নো দেখা বন্ধ করার চেষ্টা করা সত্ত্বেও সফল না হয়ে থাকেন।

পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক প্রভাব

পর্নো আসক্তি আপনার জীবনে একটি ধ্বংসাত্মক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। নিজের রোমান্টিক ও যৌন সম্পর্কের অবনতির পাশাপাশি তা নৈতিক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাড়াতে পারে।

পর্নো আসক্তির কারণে হতে পারে:

  • সম্পর্কের অবনতি
  • নিম্ন যৌন তৃপ্তি
  • নিজের প্রতি ঘৃণাবোধ
  • বিকৃত ও অতিপ্রাকৃত যৌন ইচ্ছা যা স্বাভাবিক জীবনে সম্ভব নয়

আপনি যদি এ আসক্তির কারণে দায়িত্বে অবহেলা করেন, কাজে অমনোযোগী হন কিংবা কর্মস্থলে পর্নো দেখেন ( যা কর্মস্থলে শৃঙ্খলার পরিপন্থী) তবে তা আপনার আর্থিক সংকটের কারণ এবং আপনার ক্যারিয়ারের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে।

পর্নোগ্রাফি আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

পর্নোগ্রাফি অনেকসময় জীবনকে দুর্বিষহ করে ফেলে। মানুষ নিজেকে অপরাধী ভাবতে থাকে কিন্তু এ থেকে বের হয়ে আসতে পারে না।

অন্য কারও সাথে শেয়ার করতেও দ্বিধাবোধ করেন। এ আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে আপনি নিম্নোক্ত উপায় অবলম্বন করে দেখতে পারেন:

  • আপনার সকল ডিভাইসে ইলেকট্রনিক পর্ণো এবং বুকমার্ক মুছে ফেলুন।
  • আপনার সব হার্ড-কপি পর্ণো ডিসকার্ড করুন।
  • পাসওয়ার্ড না দিয়ে অন্য কেউকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে অ্যান্টি-পর্ণ সফটওয়্যার ইনস্টল করিয়ে নিতে পারেন যেন চাইলেও পাসওয়ার্ডের অভাবে আপনি সাইটগুলোতে ঢুকতে না পারেন।
  • একটি পরিকল্পনা করুন – যখন আপনি তীব্র আসক্তি অনুভব করবেন তখন কি করলে আপনি এটি ভুলে থাকতে পারবেন সেসব কাজের একটি তালিকা তৈরী করুন।
  • যখন আপনার পর্নো দেখতে মন চাইবে, নিজেকে মনে করিয়ে দিন কিভাবে এটি আপনার জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। চাইলে লিখেও রাখতে পারেন।
  • বিশেষ কোন বিষয় বা মুহূর্তে যদি আসক্তি আসে তবে সেগুলো এড়ানোর চেষ্টা করুন।
  • যোগব্যায়াম, মেডিটেশন করুন নিয়মিত। নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
  • সর্বোপরি নিজের নৈতিক জ্ঞানের উন্মেষ ঘটান যেন আপনার মন শান্ত থাকে।

উপরোক্ত পন্থা অবলম্বন করে আপনি উপকৃত হবেন আশাকরি। তবে, অবস্থার উন্নতি না হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে অবহেলা করবেন না।

যদি নিজেকে ভালবাসেন, নিজের পরিবার ও সমাজকে ভালবাসেন তবে পর্ণো আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসুন।

তরুণ সমাজকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্যও এ আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

প্রয়োজনে নিঃসঙ্কোচে পরিচয় গোপন রেখে ফ্রিতে মায়ার মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মায়া সবসময় আপনার পাশে রয়েছে বন্ধুর মত।

Leave a Reply

Categories