মেনোপজ বা রজবন্ধ নির্দেশিকা যা সব নারীর জানা জরুরী - মায়া

মেনোপজ বা রজবন্ধ নির্দেশিকা যা সব নারীর জানা জরুরী

মেনোপজ শব্দটির সাথে সবাই পরিচিত নয়। এর অর্থ নারীদের মাসিক ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যাওয়া। সাধারণত ৪৫-৫৫ বছর বয়সে সব নারী মেনোপজে পৌঁছান। এ সময় হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মেনোপজের পর নারীদেহে কিছু পরিবর্তন আসে, বেশ একটা লম্বা সময় ধরে কিছু শারীরিক সমস্যার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে হয়।

এ সময় অধিকাংশ নারী শারীরিক এবং মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে কিন্তু কারও সাথে তার ঘটে যাওয়া সমস্যাগুলো কাউকে বলতে পারেনা বা সহজভাবে মেনে নিতে পারেন না।

পরিবারের সদস্যরাও অনেক সময় বুঝতে পারে না তাদের মা , বোন, স্ত্রী এর সাথে কি ঘটছে। যদিও এসময় তাদের পাশে থাকাটা খুব জরুরী একটি বিষয়।

মায়ার ডা সাদিয়া ইসলাম এর কাছে থেকে জানতে চেয়েছিলাম এ সম্পর্কে বিস্তারিত। আপনি পুরো লেখাটি পড়ে জেনে নিন।

মেনোপজ কি?

মেনোপজ হল নারীর ঋতুচক্র এবং ফার্টিলিটির সমাপ্তি। এটা ঘটে যখন:

  • আপনার ডিম্বাশয় আর ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন ফার্টিলিটির জন্য প্রয়োজনীয় দুটি হরমোন তৈরি করে না।
  • আপনার পিরিয়ড ১ বছরের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে।

মেনোপজ স্বাভাবিকভাবেই বয়সের সাথে সাথে ঘটে। কিন্তু এটা অস্ত্রোপচার, রোগের চিকিৎসা বা অসুস্থতা থেকেও উদ্ভূত হতে পারে। এই সব ক্ষেত্রে এটাকে কারণের উপর নির্ভর করে প্ররোচিত বা ইনডিউসড মেনোপজ, সার্জিক্যাল মেনোপজ বা প্রাথমিক ডিম্বাশয়ের অপ্রতুলতা বলা যেতে পারে।

মেনোপজ শুরু হয় কখন?

৪০-৪৫ বছর বয়স পার হলেই দেখা যায় নারীদের রজঃস্রাব অনিয়মিত হয়ে একসময় তা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু ৪০ বছর বয়স হওয়ার আগেই এটা ঘটতে পারে। এটাকে বলা হয় অকাল মেনোপজ। কোন বয়সে আপনার মনোপজ শুরু হবে তা বেশিরভাগই আপনার জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়।

মেনোপজ এর উপসর্গ

যখন এটা স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়, প্রথম লক্ষণ হিসেবে অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে। একবার ঋতুচক্র অনিয়মিত হয়ে গেলে, এটা প্রায় ৪ বছরের মধ্যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। আপনি এই উপসর্গগুলো লক্ষ্য করতে পারেন:

  • মুড সুইং
  • কম সেক্স ড্রাইভ
  • হট ফ্ল্যাশ বা হঠাৎশরীরের উপরের অংশে গরম লাগা, ত্বকে র‍্যাশ উঠা, ঘেমে উঠা
  • ঘাম
  • রেসিং হার্ট
  • মাথা ব্যথা
  • যোনির শুষ্কতা ও ব্যথা
  • বেদনাদায়ক যৌনসম্পর্ক
  • ঘুমাতে সমস্যা
  • হাড় ক্ষয়

মেনোপজ এর ধাপসমূহ কি কি?

প্রক্রিয়াটি তিনটি পর্যায়ে ধীরে ধীরে ঘটে:

পেরিমেনোপজ

এ ধাপে ঋতুচক্রের অনিয়ম দেখা দিলেও আপনি মা হতে পারবেন। বেশীরভাগ নারী ৪৫- ৪৭ বছর বয়সে এই পর্যায়ে পৌঁছে। আপনি হট ফ্ল্যাশ অনুভব করতে পারেন।

মেনোপজ

এ ধাপে ঋতুস্রাব বা মাসিক বন্ধ হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে আপনি নিশ্চিতভাবে জানতে পারবে না এক বছরের আগে। হট ফ্ল্যাশ, যোনি শুষ্কতা, ঘুমের সমস্যা, এবং অন্যান্য উপসর্গ এই পর্যায়ে স্বাভাবিক।

পোস্টমেনোপজ

ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার ১ বছর অতিবাহিত হলে তখন থেকে বাকি জীবন এ ধাপের অন্তর্ভুক্ত। মনে রাখবেন যে মেনোপজের কারণে কোন ঋতুস্রাব এর ১ বছরের বেশি সময় পরে, যোনি রক্তপাত স্বাভাবিক নয়, তাই আপনার যদি এমন হয় তবে শীঘ্রই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

উপসর্গগুলো কমাতে চিকিৎসা কি?

জীবনযাত্রার পরিবর্তন

একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট এবং নিয়মিত শরীরচর্চা আপনার উপসর্গগুলি কমাতে এবং জীবনযাত্রাকে সহজ করবে। ধূমপানের মত যে কোন পুরানো, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসকে ঝেড়ে ফেলার এটাই একটা দারুণ সময়। হট ফ্ল্যাশ কমাতে, হালকা এবং আরামদায়ক পোষাক পরিধান করুন। ক্যাফেইন এবং মশলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন। আপনি যদি যৌন সক্রিয় থাকেন, তাহলে তা আপনার যোনির আস্তরণ সংরক্ষণ করতে সাহায্য করতে পারে।

হরমোনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি

সাধারণত হরমোনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির (এইচআরটি) মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এই চিকিৎসা যে শতভাগ কাজ করবে তার নিশ্চয়তা নেই।

অন্যান্য

এ সময় শারীরিক ও মানসিক স্ট্রেস কমাতে মেডিটেশন, যোগব্যায়াম ও ম্যাসাজ করতে পারেন।

মেনোপজ নিয়ে সমাজে নানাবিধ ভ্রান্তধারণা প্রচলিত রয়েছে। সঠিক বিষয়টি জানুন এবং সচেতন হউন। এ সময় আপনার প্রিয়জনের পাশে দাঁড়ান।

মেনোপজ বা মাসিক সংক্রান্ত যেকোন সমস্যায় নিঃসঙ্কোচে মায়ার ডাক্তারকে প্রশ্ন করুন বা ভিডিও কলে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply

Categories