রেস্টুরেন্ট এ বসে খাওয়ায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি:সিডিসি - মায়া

রেস্টুরেন্ট এ বসে খাওয়ায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি:সিডিসি

রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে খেতে আমরা সবাই খুব পছন্দ করি। বিশেষত যারা ঢাকায় বসবাস করেন তাদের যথাযথ বিনোদনের জায়গা না থাকায় রেস্টুরেন্ট ই শেষ ভরসা।

লকডাউনের পর সব রেস্টুরেন্ট আবার স্বাভাবিক নিয়মে চালু হয়েছে এবং মানুষজন ও হাপিয়ে উঠে সেদিক পানে ছুটছেন।

যেহেতু, খাবারের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ায় না তাই, মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাব দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু, সম্প্রতি সিডিসি প্রদত্ত এক গবেষণা রিপোর্টে তার উল্টো চিত্র দেখা গিয়েছে। সমীক্ষাটি বলছে রেস্টুরেন্টে খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।

সি ডি সি রিপোর্ট অনুযায়ী যেসব ব্যক্তি কোভিড-১৯ পজিটিভ তারা নেগেটিভদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং তারা অসুস্থতার ১৪ দিন আগে রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়েছেন।

এই গবেষণায় ৩১৪ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের জুলাই মাসে কোভিড-১৯ এর জন্য পরীক্ষা করা হয়েছিল কারণ তাদের উপসর্গ ছিল।

১৫৪ টি পজিটিভ এবং ১৬০টি নেগেটিভ পরীক্ষা করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা, নর্থ ক্যারোলিনা, ওহাইও, টেনেসি, ইউটাহ এবং ওয়াশিংটন জুড়ে ১১টি ভিন্ন ভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে এই পরীক্ষা চালানো হয়।

সিডিসি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা রোগীদের মাস্ক পরা এবং তাদের বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর পর্যালোচনা করেন যার মধ্যে রয়েছে তারা সম্প্রতি কোন রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছিলেন কিনা, কোন বারে অথবা জিমে গিয়েছিলেন কিনা।

৪২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক যারা কভিড-১৯ পজিটিভ , তারা রিপোর্ট করেছে তারা কমপক্ষে একজন কোভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে এসেছিল, যারা নেগেটিভ এসেছিল তাদের ১৪ শতাংশের তুলনায় — এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বেশীরভাগই (প্রায় ৫১%) ছিল পরিবারের সদস্য।

গবেষকরা আরও দেখেছেন যে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৭৪% কোভিড-১৯ পজিটিভ এবং ৭১% নেগেটিভ ব্যক্তিই জনসম্মুখে মাস্ক পরিধান করেছিল।

কোভিড-১৯ পজিটিভ ও নেগেটিভের মধ্যে কেনাকাটার ক্ষেত্রে , একটি বাড়িতে ১০ জনের কম লোকের সাথে জড়ো হওয়া, অফিসে যাওয়া, জিমে যাওয়া, সেলুনে যাওয়া, গণ পরিবহন ব্যবহার করা অথবা ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দেওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে, তাদের মধ্যে কোন উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল না।

যাইহোক, যারা কোভিড-১৯ পজিটিভ, তারা অসুস্থ বোধ শুরু করার দুই সপ্তাহের মধ্যে কোন একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার খেয়েছিল।

গবেষণার সীমাবদ্ধতাসমূহ

এই গবেষণা কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, রোগীদের একটি বৃহত্তর দলের মধ্যে একই ধরনের গবেষণা পরিচালনা করলে ফলাফল একই হয় কিনা তা জানার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন।

একটি রেস্টুরেন্টে খাবার মূল্যায়নের প্রশ্নে ইনডোর বনাম আউটডোর ডাইনিং-এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়নি।

“রেস্টুরেন্টে সংক্রমণের সাথে বায়ু সঞ্চালনের সম্পর্ক রয়েছে। বায়ু প্রবাহের দিক, ভেন্টিলেশন এবং বায়ুপ্রবাহের তীব্রতা ভাইরাস ট্রান্সমিশনকে প্রভাবিত করতে পারে, যদিও সামাজিক দূরত্ব এবং মাস্ক ব্যবহার বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে।


“খাওয়া এবং পান করার সময় মাস্ক কার্যকরভাবে পরিধান সম্ভব না, অন্যদিকে কেনাকাটা এবং অন্যান্য অসংখ্য অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম মাস্ক পরেই করা যায়।

রেস্টুরেন্ট এ খাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও করনীয় সমূহ

রেস্টুরেন্ট এবং বারের জন্য সিডিসির নির্দেশিকায় সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ ঝুঁকি পর্যন্ত ডাইনিং অপশন তালিকাভুক্ত করা হয়েছে:

  • সর্বনিম্ন ঝুঁকি: খাবার রেস্টুরেন্ট থেকে নিয়ে যাওয়া , ডেলিভারি, টেকআউট এবং কার্বসাইড পিকআপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
  • আরো ঝুঁকি: অন-সাইট ডাইনিং আউটডোর সিটিং এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। বসার জন্য টেবিলগুলো অন্তত ৬ ফুট দূরে জায়গা নিশ্চিত করা।
  • আরো বেশি ঝুঁকি: ইনডোর এবং আউটডোর উভয় স্থানে অন-সাইট ডাইনিং। টেবিলগুলো অন্তত ৬ ফুট দূরে জায়গা করে দিতে আসন সংখ্যা সীমিত করে দেওয়া ।
  • সর্বোচ্চ ঝুঁকি: ইনডোর এবং আউটডোর উভয় স্থানে অন-সাইট ডাইনিং। আসনসংখ্যা না কমানো এবং ৬ ফুট দূরত্ব নিশ্চিত না করা।

সুতরাং, রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়ার চেয়ে বাড়ির খাবার সবচেয়ে নিরাপদ। তবে, মাঝে মাঝে রেস্টুরেন্টে গেলেও ঐ রেস্টুরেন্টে স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে কিনা তা খেয়াল করুন।

একান্তই রেস্টুরেন্টে খেতে ইচ্ছা করলে বাড়িতে অর্ডার করে খাওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে খাবার ডেলিভারি কোম্পানি গুলোকে ডেলিভারি ম্যানদের আরও বেশি স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে। এবং রেস্টুরেন্ট গুলোকে হাইজিন মেনে খাবার প্রস্তুত ও প্যাকেজিং করতে হবে।

সবাই সুস্থ থাকুন এবং শারীরিক সমস্যায় মায়াতে প্রশ্ন করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র,

সি এন এন

Leave a Reply

Categories