পা ফোলা ? অবহেলা না করে জেনে নিন জরুরী কিছু তথ্য - মায়া

পা ফোলা ? অবহেলা না করে জেনে নিন জরুরী কিছু তথ্য

পা ফোলা অনেকের কাছেই একটি সাধারণ সমস্যা মনে হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে বা অনেকসময় গর্ভাবস্থায় পা ফোলা স্বাভাবিক।

তবে, পা ফোলা এর জন্য দায়ী সব কারণ আপনার জন্য সুখকর নাও হতে পারে।

আমাদের শরীরের বেশিরভাগই পানি। এটা রক্ত, পেশী, অঙ্গ, এমনকি আমাদের হাড়ের মধ্যেও থাকে।

পানি শরীরের জন্য জরুরী হলেও ,মাঝে মাঝে আমাদের শরীর অনেক বেশি পানি ধরে রাখে।এটিই পা ফোলা সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে মায়ার মেডিক্যাল টিম লিড ডা. তানজিনা শারমিনের মতে-

পা ফোলা বিষয়টিকে অবহেলা করা মোটেও ঠিক নয়। অনেক গুরুতর রোগের উপসর্গ হিসেবে আপনার পা ফুলতে পারে। আবার একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলেও অনেকসময় পা ফুলে যায়। যদি স্বাভাবিক কারণে পা না ফুলে তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

পা ফোলা এর জন্য কি কি বিষয় দায়ী হতে পারে?

বিভিন্ন কারণে পা ফুলতে পারে। এর জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দায়ী হতে পারে-

ডায়েট

আপনার খাদ্যতালিকায় সোডিয়াম এর পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হলে শরীর পানি ধরে রাখতে পারে।

সোডিয়ামের অন্যতম উৎস হল খাবার লবণ কিংবা প্রসেসড ফুড যেমন- ক্যান এর মাছ বা সবজি, চিপস, ক্র্যাকারস ইত্যাদি ।

জীবনযাত্রার ধরণ

মাধ্যাকর্ষণ আপনার শরীরে রক্তকে নিম্নমুখী চাপ দেয়। যা আপনার পা এবং পায়ের রক্তনালীর ভেতরের চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং সেই টিস্যুগুলিতে তরল পদার্থ লিক করে।

পেশাগত কারণে বেশিক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে আপনার টিস্যু পানি ধরে রেখে পায়ের গোড়ালি ফুলতে পারে।

দীর্ঘ সময় যাত্রা করলেও অনেক সময় পায়ে পানি আসে যা স্বাভাবিক।

হরমোন

পিরিয়ডের আগের দিনগুলোতে একজন নারীর ফুলে পা ফোলা স্বাভাবিক। এটা সাধারণত কয়েকদিন পরে চলে যায়।

এছাড়া, জন্ম নিয়ন্ত্রণ বা হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপির জন্য গৃহীত হরমোনের কারণেও শরীর পানি ধরে রাখতে পারে।

কতিপয় ঔষধ গ্রহণ

কতিপয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে পানি ধরে রাখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে:

  • উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ
  • ব্যথা রিলিভার আইবুপ্রফেন, NSAID সমৃদ্ধ
  • এন্টিডিপ্রেসেন্ট
  • কেমোথেরাপির ওষুধ

আপনি যদি এজাতীয় ঔষধ সেবন করে থাকেন এবং আপনার পা ফুলে যায় তবে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। সে প্রয়োজনে এর বিকল্প কিছুর পরামর্শ দিতে পারে।

হার্টের সমস্যা

দুর্বল হার্ট পাম্পিং এর জন্য ভালো নয়। এর ফলে শরীর পানি ধরে রাখতে পারেন এবং পা ও পেট ফুলে যেতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • দুর্বলতা
  • মাথা ফাঁকা অনুভব করা
  • দ্রুত হৃদস্পন্দন
  • ক্লান্তি অনুভব
  • শ্বাসকষ্ট

ফুসফুসে পানি জমার কারণে সিভিয়ার হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা রয়েছে।

শিরা

যদি আপনার শিরার ভেতরের ভাল্বগুলো তাদের মত বন্ধ না হয়, তাহলে আপনার সমস্ত রক্ত আপনার হৃৎপিণ্ডে পাম্প হবে না। এর ফলে আপনার পায়ের পাতা ফুলে যেতে পারে।

অন্যান্য উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • পায়ে ব্যথা
  • বর্ধিত শিরা
  • ত্বকের রং পরিবর্তন
  • ত্বকে ফুসকুড়ি
  • ত্বকের আলসার

পা ফোলার যখন অন্যান্য গুরুতর রোগের উপসর্গ

পা ফোলা বা শরীরে পানি আসার পিছনে অন্যান্য গুরুতর রোগ ও দায়ী হতে পারে:

গুরুতর ভেইন থ্রম্বোসিস:

যদি আপনার একটি পা বা পায়ে ফোলা থাকে, তাহলে আপনার রক্ত জমাট বাধার সমস্যা থাকতে পারে। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ব্যথা, উষ্ণতা এবং লালভাব। সার্জারি থেকে সেরে ওঠার সময় অথবা লম্বা জার্নির সময় রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। এটা খুবই বিপদজনক হতে পারে, এবং আপনাকে যথাশীঘ্র ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

ফুসফুসের এডিমা:

যাদের দীর্ঘস্থায়ী হার্টের সমস্যা আছে তাদের ফুসফুসের ভেতরে তরল পদার্থ জমতে পারে। এর লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যাঘাত; দ্রুত, অগভীর শ্বাস;; এবং কাশি। এর জন্য জরুরী চিকিৎসার প্রয়োজন।

প্রি-এক্লাম্পসিয়া:

গর্ভাবস্থার শেষের দিকে মহিলাদের পা এবং পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু হাত এবং মুখ ফুলে যাওয়া প্রি-এক্লাম্পসিয়া নামে একটি বিপজ্জনক রক্তচাপের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। মাথা ব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি বা পেটে ব্যথা থাকলে অতি দ্রুত ডাক্তারকে ফোন করুন।

পা ফোলা এর অন্যান্য সম্ভাব্য কারণসমূহ

অন্যান্য সম্ভাব্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • কিডনি, লিভার, এবং ডিম্বাশয় এর ক্যান্সার
  • কিডনির অসুখ
  • লিভার সিরোসিস
  • অপুষ্টি জনিত তীব্র প্রোটিনের অভাব
  • লিম্ফেডিমা, একটি বিরল অবস্থা যা হতে পারে যদি ক্যান্সার চিকিত্সার সময় লিম্ফ নোড ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণ করা হয়

প্রতিকার

পা ফোলার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কিছু ক্ষেত্রে, ফোলার জন্য ইমারজেন্সি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

যদি এটা আপনার ঋতুচক্র বা লবণাক্ত খাবার এর জন্য হয়, তাহলে তা একাই চলে যাবে।

যদি এটা অন্য কোন চিকিৎসা অবস্থার লক্ষণ হয়, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

সব ক্ষেত্রেই ওষুধের পাশাপাশি ডাক্তার আপনাকে নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো দিতে পারেন:

  • খাবারে লবণ কমিয়ে দিন: দিনে ২,৩০০ মিলিগ্রামের বেশি সোডিয়াম খাবেন না।
  • ওষুধ: ডাক্তার আপনাকে ডিইউরেটিক বা পানির পিল দিতে পারেন। এগুলো প্রস্রাবের মাধ্যমে আপনার শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম এবং তরল পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।
  • পা উঁচুতে রাখুন: আপনার পা এবং গোড়ালি থেকে পানি সরানোর জন্য দিনে বেশ কিছুসময় আপনার হৃদপিন্ডের সমান্তরালের উপরে পা উঁচু করে শুয়ে থাকুন।
  • সংকোচন মোজা পরুন: বিশেষ ধরণের মোজা আছে যা পায়ে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান।

পা ফোলা সংক্রান্ত সমস্যায় পরামর্শের জন্য মায়া অ্যাপটি ইন্সটল করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এ সমস্যাটি মোটে অবহেলা করবেন না।

Leave a Reply

Categories