গর্ভাবস্থায় ত্বকে স্ট্রেচ মার্ক, আঁচিল ও ব্রণের সমস্যা ? - মায়া

গর্ভাবস্থায় ত্বকে স্ট্রেচ মার্ক, আঁচিল ও ব্রণের সমস্যা ?

স্ট্রেচ মার্ক গর্ভাবস্থায় ত্বকের একটি সাধারণ সমস্যা। এছাড়াও অনেকের এ সময় ত্বকে আঁচিল, কালো দাগ ও ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়।

স্ট্রেচ মার্ক একজন গর্ভবতীকে প্রায় সারাজীবন ই বয়ে বেড়াতে হয়।

তবে, কারও কারও ক্ষেত্রে স্ট্রচ মার্কের সাথে চুলকানি, ফুলে যাওয়া সহ আরও নানা সমস্যা দেখা দেয়।

মায়ার ডাক্তার সাদিয়া ইসলাম স্বর্ণার কাছ থেকে গর্ভাবস্থার ত্বকের এসব সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত জানতে পুরো লেখাটি পড়ুন।

স্ট্রেচ মার্ক

গর্ভাবস্থায় ত্বকে স্ট্রেচ মার্ক হওয়াটা খুব স্বাভাবিক।

প্রায়ই পেট, নিতম্ব, স্তন বা উরু জুড়ে স্ট্রেচ মার্ক দেখা যায়। স্ট্রেচ মার্ক প্রাথমিকভাবে একটি লালচে-বেগুনি দেখায় এবং সময়ের সাথে সাথে তা সাদা ও ফিকে হয়ে যায়।

কারও কারও ক্ষেত্রে ত্বকের ফাটা স্থান গুলো চুলকাতে পারে।

স্ট্রেচ মার্ক এর প্রতিকার

যদিও স্ট্রেচ মার্ক প্রসবের পর কমে যায় তবে তা কখনই পুরোপুরি চলে যায় না।

স্ট্রেচ মার্কের পোস্টপার্টাম চিকিৎসা প্রায়ই অকার্যকর, যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে লেজার এবং প্রেসক্রিপশন ক্রিম ব্যবহার করে এটি প্রতিহত করা যায়।

যাইহোক, ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে ত্বক হাইড্রেট রাখার মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় স্ট্রেস মার্ককে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ত্বকে আঁচিল

গর্ভাবস্থায় ত্বক এ আঁচিল হয় অনেকেরই। এই আঁচিলগুলো সাধারণত ঘাড়, বুক, পিঠ, কোমর, এবং স্তনের নিচে হয়।

আঁচিল সাধারণত বিপজ্জনক বা ক্ষতিকারক নয়। যদি তারা এমন কোন স্থানে হয় যেখানে, পোশাক পরিবর্তন করতে গিয়ে ঘষা খায় তবে সেখান থেকে রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে।

এসব ক্ষেত্রে ডাক্তার অপারেশনের মাধ্যমে এগুলো অপসারণ করতে পারেন।

ব্রণের সমস্যা

গর্ভাবস্থায় ব্রণ বাড়তে পারে বা খারাপ হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ব্রণের সমস্যার জন্য অনেক অনেক ধরণের চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। তবে, যে কোন ধরণের ঔষধ খাওয়ার পূর্বে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

ব্রণের চিকিৎসার জন্য ত্বকের পরিচ্ছন্নতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

  • কুসুম গরম পানিতে মুখ ধোয়া
  • দৈনিক দুইবার মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা
  • চুল মুখ থেকে দূরে রাখা
  • প্রতিদিন চুল শ্যাম্পু করা
  • ব্রণ খোঁচানো এড়িয়ে চলা
  • তেলমুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা

গর্ভাবস্থায়, ওভার-দ্য কাউন্টার (ওটিসি) পণ্য যা টপিক বেনজোয়েল পারক্সাইড, স্যালিসাইলিক এসিড, অ্যাজেলাক এসিড বা গ্লাইকোলিক এসিড সমৃদ্ধ ব্যবহার করা নিরাপদ।

তবে গর্ভাবস্থায় সব ওষুধ ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। গর্ভাবস্থায় যেসব ঔষধ এড়িয়ে চলবেন তার মধ্যে রয়েছে:

  • হরমোন থেরাপি, এর ফলে অনাগত সন্তানের জন্মগত অসঙ্গতির একটি বর্ধিত ঝুঁকি রয়েছে
  • আইসোট্রেটিনোইন, এক ধরনের ভিটামিন এ, এছাড়াও রেটিনোল বলা হয়, যা অনাগত সন্তানের তীব্র জন্মগত অসঙ্গতি, বর্ধন ও বিকাশে ব্যাঘাত সহ মৃত্যুর কারণ হতে পারে
  • টেট্রাসাইক্লিন, এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক যা একটি শিশুর দাঁতের রঙের পরিবর্তন করে, সেই সাথে ভ্রূণের হাড় বৃদ্ধির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে যদি কেউ গর্ভাবস্থার চতুর্থ মাসে এটি গ্রহণ করে
  • টপিক্যাল রেটিনয়েড, এক ধরনের ভিটামিন এ

স্ট্রেচ মার্ক ও ব্রণের সমস্যা গর্ভাবস্থায় ত্বকের একটি সাধারণ পরিবর্তন। তবে, এটি গুরুতর সমস্যা বা অসুবিধা করলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

মায়া অ্যাপটি ইন্সটল করে প্রশ্ন করুন এবং হাতের মুঠোয় বিনামুল্যে পেয়ে যান স্বাস্থ্যসেবা।

Leave a Reply

Categories