লকডাউনের পর থেকে অনিয়মিত মাসিক নিয়ে চিন্তিত? - মায়া

লকডাউনের পর থেকে অনিয়মিত মাসিক নিয়ে চিন্তিত?

অনিয়মিত মাসিক? লকডাউনের পর থেকেই? জেনে রাখুন আপনি একা নন। কারও কারও ক্ষেত্রে অনিয়মিত মাসিক নিয়মিত ব্যাপার হলেও অনেকই এ সমস্যার সাথে নতুনভাবে পরিচিত হচ্ছেন।

আমি এ সমস্যায় পড়ার পর প্রথম মনে হল আমি কি প্রেগন্যান্ট? এটা কি প্রিমনোপজের লক্ষণ? নাকি মহামারী আতঙ্ক বা স্ট্রেস এর ফসল?

আমি মায়ার ডাক্তার সাদিয়া ইসলামের কাছে প্রশ্ন করলাম এবং জানলাম এর পিছনের কারণ। বিস্তারিত পড়ে আপনিও জেনে নিন।

মহামারীর সাথে অনিয়মিত মাসিকের সম্পর্ক কি?

মাসিক মিস হওয়া বা ঋতুচক্রের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি বা হ্রাস, রক্তপাতের মাত্রা এবং ঋতুস্রাব সম্পর্কিত ব্যথার মাত্রার পরিবর্তন এসব সমস্যায় ভুগছেন অনেকে।

সর্বোপরি, মহামারী আমাদের স্বাভাবিক রুটিন কে পরিবর্তন করে দিয়েছ এবং আমাদের উদ্বেগের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে।

বিভিন্ন মানসিক চাপ আপনার ঋতুচক্রকে প্রভাবিত করতে পারে, যেমন-

  • কাজের সময়সূচী (অথবা কাজের অবস্থা)
  • ব্যায়ামের রুটিন
  • ঘুমের প্যাটার্নের পরিবর্তন
  • খাদ্যাভাসের পরিবর্তন
  • সর্বোপরি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়ার পর থেকে আমরা উপরের সবধরনের পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে গিয়েছি।

বাসার কাজের চাপ, বাচ্চার অনলাইন স্কুল, বাড়ীতে বসে অফিস এসব কিছুই আমাদের স্ট্রেস লেভেল বাড়িয়ে দিয়েছে।

মানসিক চাপ ও অনিয়মিত মাসিক

আমরা অনেকেই ভাবি মাসিক বা ঋতুচক্র মানেই সেটি আমাদের জরায়ু সংক্রান্ত বিষয়। কিন্তু এর সাথে যে আপনার মস্তিষ্ক ও জড়িত তা আমরা জানিনা।

মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস, যা পিটুইটারি গ্রন্থি পরিচালনা করে এবং বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে কিছু ডিম্বাশয়ে ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন তৈরি করে।

এই দুটি হরমোন গর্ভাবস্থার জন্য শরীর প্রস্তুত করতে জরায়ুর আস্তরণ ঘন করে। একটি সুনির্দিষ্ট সময়ে ডিম্বাশয়ে ডিম্বস্ফোটন হয়। এই ডিম ফ্যালোপিয়ন টিউব দিয়ে জরায়ুতে চলে আসে এবং ৩-৪ দিন অবস্থান করে।

এ সময় ডিম্বাণু যদি পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত না হয়, তবে তা নষ্ট হয়ে যায়। এই সময় জরায়ুগাত্রের স্তর এন্ডমেট্রিয়াম ভেঙ্গে পড়ে।

এই ভগ্ন ঝিল্লি, সঙ্গের শ্লেষ্মা ও এর রক্ত বাহ থেকে উৎপাদিত রক্তপাত সব মিশে তৈরি তরল বর্জ হিসাবে নারীর শরীর দিয়ে বের হয় যা আমরা মাসিক বা ঋতুচক্র বলে জানি।

এই ক্ষুদ্র হাইপোথ্যালামাস আপনার মাসিক ছাড়াও, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ এবং খাওয়াদাওয়ার পরিমাণ , পানীয় এবং ঘুম নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

এটি মানসিক চাপের প্রতি সাড়া দেয়। যখন হাইপোথ্যালামাস দ্বারা প্রাপ্ত তথ্য পরিবর্তিত হয়, ঋতুচক্র সহ সমগ্র শরীর প্রভাবিত হতে পারে।

এছাড়াও নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আপনার অনিয়মিত মাসিকের কারণ হতে পারে-

  • নতুন কোন ভিটামিন, ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নেওয়া
  • জন্ম নিয়ন্ত্রনের পিল খাওয়ার সময়ের পরিবর্তন
  • কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার ফলে অনেক অসুস্থতা
  • ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া
  • PCOS

অনিয়মিয় মাসিক সংক্রান্ত সমস্যায় অবহেলা করলে কি হতে পারে জানেন?

  • পেল্ভিক ইনফ্লামেটরি সংক্রান্ত নানান রোগ
  • PCOD
  • শরীর ব্যথা
  • অস্বাভাবিক দুর্বলতা

অনিয়মিত মাসিক নিয়ে সঙ্কোচ না করে মায়া অ্যাপটি ইন্সটল করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply

Categories