ইমপ্ল্যান্ট এর মত জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কি ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী ? - মায়া

ইমপ্ল্যান্ট এর মত জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কি ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী ?

হরমোনাল ইমপ্ল্যান্ট জন্ম নিয়ন্ত্রণের একটি দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি। অন্যান্য জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মত ইমপ্ল্যান্ট পদ্ধতিরও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

এই পদ্ধতি নিলে ওজন বেড়ে যায় কিনা বা এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কি? সে সম্পর্কে আমরা মায়ার প্লাটফর্মে অনেক প্রশ্ন পেয়ে থাকি।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পুরো লেখাটি পড়ুন।

ইমপ্ল্যান্ট কি?

জন্ম নিয়ন্ত্রণ ইমপ্ল্যান্ট একটি ম্যাচস্টিক আকারের পাতলা, প্লাস্টিক রড যা, একজন ডাক্তার নারীর বাহুতে সেট করে দিয়ে থাকেন।

যে সব মহিলারা ৩ বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করতে চান তাদের জন্য এটি একটি বিকল্প জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি।

এর মাধ্যমে অল্প মাত্রায় প্রজেস্টিন হরমোন নারীর শরীরে প্রবেশ করানো হয় যা গর্ভনিরোধে সহায়তা করে।

ইনপ্ল্যান্টের ফলে কি ওজন বৃদ্ধি পায়?

ইমপ্ল্যান্টের জন্য ব্যবহৃত প্রজেস্টিন, একটি জন্ম নিয়ন্ত্রণ হরমোন, আপনার ডিম্বানু থেকে শুক্রাণু দূরে রাখে। অনেকে মনে করে এর ফলে ওজন বেড়ে যায়।

প্রকৃতপক্ষে, ওজন বৃদ্ধি মহিলাদের ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার বন্ধ করার অন্যতম প্রধান কারণ।

কিন্তু ইমপ্ল্যান্ট এবং ওজন বৃদ্ধির মধ্যে কোন শক্তিশালী সম্পর্ক খুজে পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় দেখা যায় যে, গড়ে একজনের ওজন ৩ পাউন্ড বা তার কম বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে, তার জন্য শুধুমাত্র ইমপ্ল্যান্টকে প্রত্যক্ষভভাবে দায়ী নয়।

সবধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াই ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। ওজন বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।

ওজন বৃদ্ধির অন্যান্য কারণ

ডাক্তাররা বয়স বাড়ার সাথে সাথে মহিলাদের ওজন বাড়ার পিছনে অন্যান্য অনেক কারণ জড়িত বলে মনে করেন। যেমন-

  • কাজে সক্রিয়তা কমে যাওয়া: বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনি কম সক্রিয় হয়ে যান। আপনি কম নড়াচড়া করেন, বিশেষ করে যদি আপনি কর্মক্ষেত্রে থাকাকালীন দিনের বেলায় বসে থাকেন। এর ফলে ওজন বেড়ে যেতে পারে আর আপনি এর জন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণকে দায়ী করতে পারেন।
  • খাদ্যাভাস: বয়সের সাথে সাথে একটিভিটি কমে গেলেও অনেক সময় আপনি খাদ্যাভাসের পরিবর্তন করেন না।আপনি যে পরিমাণ ক্যালরি বার্ন করেন তার চেয়ে বেশি গ্রহণ করলে আপনার ওজন এমনিতেই বেড়ে যাবে।
  • স্বাস্থ্য সমস্যা: নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ, ক্লান্তি, এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম থাকলে আপনার ওজন বেড়ে যেতে পারে।

জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য ইমপ্ল্যান্ট করার পর যদি আপনি ওজন বৃদ্ধি লক্ষ্য করেন তাহলে আপনার ডাক্তারকে বলুন।

তারা পরীক্ষা করে দেখতে পারে এর জন্য দায়ী কোন বিষয়গুলো।

এছাড়া, প্রয়োজনে তারা আপনাকে অন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শও দিতে পারেন।

ইমপ্ল্যান্ট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সমূহ

ইমপ্ল্যান্টের অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে, যেমন:

  • আপনার পিরিয়ডের পরিবর্তন
  • পিঠে ব্যথা
  • পেটে ব্যথা
  • মাথা ঘুরানো
  • কম যৌন উত্তেজনা
  • মাথা ব্যথা
  • মুড সুইং
  • বিষণ্ণতা
  • যোনিতে ব্যথা
  • যোনির শুষ্কতা
  • বদহজম।
  • স্তন ব্যথা

এছাড়াও আপনি আপনার ইমপ্ল্যান্টের চারপাশে সামান্য ক্ষত,ব্যথা বা রক্তপাত লক্ষ্য করতে পারেন। এটা স্বাভাবিক, কিন্তু এই উপসর্গগুলি বেড়ে গেলে অবশ্যই আপনার ডাক্তারকে জানান।

কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন?

নিচের উপসর্গগুলো পরিলক্ষিত হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন-

  • স্তনে লাম্পস বা গোটা অনুভূত হলে
  • আপনার পায়ে রক্ত জমাট বাঁধার মত লক্ষণ, যেমন আপনার নিচের পায়ে ব্যথা এবং ফোলাভাব, উষ্ণ বা লালচে চামড়া দেখা দিলে
  • চামড়া এবং চোখ হলুদাভ হয়ে গেলে
  • ইমপ্ল্যান্টের চারপাশে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে
  • দীর্ঘ সময় ধরে এবং বেশি পরিমাণে যোনিতে রক্তপাত হলে

ইমপ্ল্যান্ট করার পর উপরোক্ত লক্ষণগুলো স্বাভাবিক নয়। এগুলোর সঠিক সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে জটিল কোন রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

তাই, নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা না করে মায়া অ্যাপটি ইন্সটল করুন এবং হাতের মুঠোয় পেয়ে যান স্বাস্থ্যসেবা। এখনও বসে থাকবেন? নাকি সচেতন হবেন?

Leave a Reply

Categories