সাদা স্রাব নিঃসরণের কারণ এবং দুর্গন্ধ হলে করণীয় - মায়া

সাদা স্রাব নিঃসরণের কারণ এবং দুর্গন্ধ হলে করণীয়

সাদা স্রাব বিষয়টির সাথে সব মেয়েরাই কম বেশি পরিচিত। মাসিক শুরু হওয়ার পর প্রতিটি মেয়েরই স্বাভাবিক নিয়মে সাদা স্রাব যায়।

এ সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম মায়ার এক্সপার্ট ডা সাদিয়া শারমিন স্বর্ণা এর কাছে। বিস্তারিত জানতে পুরো লেখাটি পড়ুন।

সাদা স্রাব কি?

লিউকোরিয়া বা সাদা স্রাব নারীদের জন্য একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এটি স্বচ্ছ তরল শ্লেষ্মার মত একটি পদার্থ যা যোনি হতে নিঃসরিত হয়ে একে পিচ্ছিল ও আর্দ্র রাখে।

বয়ঃসন্ধিকাল থেকে একজন নারীর মনোপোজের আগ পর্যন্ত এ স্রাব নিঃসরণ হয়। ঋতুচক্রের এই ধাপকে লুটাল ফেজ বলা হয়।

যখন ইস্ট্রোজেন হরমোন বেশি হয়, স্রাব স্বচ্ছ, স্ট্রেচি বা পাতলা হয়। এ সময়কে গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত সময় বলে বিবেচণা করা হয়।

যখন হরমোন প্রোজেস্টেরন আপনার শরীরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় তখন মিউকাস ঘন বা সাদা হয়ে যায়। অর্থাৎ, আপনার গর্ভধারণের উপযোগিতা কমে যাবে এবং মাসিক আসন্ন।

এটি কি স্বাভাবিক ঘটনা?

একজন নারীর প্রতিদিন ১ চা চামচ পরিমাণে ঘন বা পাতলা মিউকাস ন্যায় গন্ধহীন সাদা স্রাব যেতে পারে।

এর রং সাধারণত সাদা, স্বচ্ছ বা বাদামী হতে পারে।

সাদা স্রাব একটি স্বাভাবিক ঘটনা যদি না-

  • ব্যথা হয়
  • এর রং লালচে বা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্যরকম হয়
  • চুলকায়
  • দুর্গন্ধ হয়

সাদা স্রাব কেন যায়?

মাসিকের আগে সাদা স্রাব যাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

প্রজনন তন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ :

মাসিকের আগে স্রাব অনেকটা ডিমের সাদা অংশের মত পাতলা, স্বচছ এবং পিচ্ছিল ও গন্ধহীন থাকে। এটি আপনার প্রজনন তন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজ করা নির্দেশ করে।

জন্ম নিয়ন্ত্রণ:

হরমোনাল জন্ম নিয়ন্ত্রণ আপনার হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করে, যা স্রাব বৃদ্ধি করতে পারে। এটি এ ধরণের জন্ম নিয়ন্ত্রণের একটি স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

গর্ভাবস্থা:

মাসিকের আগে বেশি পরিমাণে স্রাব গেলে অনেক সময় এটি গর্ভাবস্থার পূর্বলক্ষণ নির্দেশ করে। কোনটি স্বাভাবিক সময়ের স্রাব এর কোনটি গর্ভাবস্থা নির্দেশক তা বলা বেশ কঠিন। তবে, এটি সাধারণত “স্বাভাবিক” এর চেয়ে ঘন এবং ক্রিমি হয়।

যৌন সংক্রামক রোগ (এসটিআই বা এসটিডি):

গনোরিয়া, ক্লামাডিয়া, এবং ট্রাইকোমোনা হচ্ছে সেসব এসটিআই যার কারণে এ ধরণের নিঃসরণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে, স্রাব আরো হলুদ, দুর্গন্ধ যুক্ত এবং পুজ-এর মত হবে। প্রজনন অঙ্গে চুলকানি হতে পারে।

ইস্ট ইনফেকশন(ক্যান্ডিডিসিয়াস):

এ ধরণের ইনফেকশনের কারণ এখনও অজ্ঞাত। যাইহোক, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ইস্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, এবং পিরিয়ড এর আগে এর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এ সময় স্রাবের রং এবং ঘনত্বের পরিবর্তন হয়। ইস্ট ইনফেকশনে সাধারণত আপনার যোনি এবং ভালভাতে চুলকানি এবং জ্বালাপোড় হয়।

ব্যাকটেরিয়া ভ্যাজাইনোসিস:

এটি একধরণের সংক্রমণ যা আপনার যোনিতে ব্যাকটেরিয়ার প্রাকৃতিক ভারসাম্য পরিবর্তিত হলে দেখা দেয়।

এ সংক্রমণের কারণ অজানা হলেও, এটি ধূমপান, যোনি পরিষ্কারের কতিপয় ভুল পদ্ধতি এবং একাধিক যৌন সঙ্গী থাকার সাথে সম্পর্কিত। ব্যাকটেরিয়া ভ্যাজাইনোসিস হলে স্রাব আঁশটে গন্ধ যুক্ত ও ধূসর সাদা রঙের হবে।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিব?

যখন আপনার স্রাব অস্বাভাবিক হবে এবং পাশাপাশি নিম্নোক্ত লক্ষণ দেখা দিবে তখন দেরি না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন :

  • প্রজনন অঙ্গে যন্ত্রণা, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি
  • প্রজনন অঙ্গে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি
  • ফোলা ভাব
  • ঘনত্ব বা টেক্সচারের অস্বাভাবিক পরিবর্তন
  • লালচে ভাব
  • চুলকানি
  • দুর্গন্ধ

আপনি যদি সেক্সূয়ালি একটিভ হন এবং সাদা স্রাবের অস্বাভাবিকতা দেখেন তবে অবশ্যই মায়া অ্যাপটি ইন্সটল করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

কারণ, উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যতীত যৌনবাহিত রোগ আপনার বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে।

Leave a Reply

Categories