বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগ কমাতে যেসব খাবার সহায়ক:কোভিড-১৯ - মায়া

বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগ কমাতে যেসব খাবার সহায়ক:কোভিড-১৯

খুব বিষণ্ণতা বোধ করছেন? অল্পতেই রেগে যাচ্ছেন? মনের মধ্যে সবসময় ভয় আর উদ্বেগ কাজ করছে? নিজের খাদ্যতালিকায় একটু নজর দিন।

গবেষণায় দেখা যায় যে, একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা যেমন- ফল , শাকসবজি, হোল গ্রেইন শস্য, মাছ এবং অপ্রক্রিয়াজাত লাল মাংস ইত্যাদি বিষণ্ণতা প্রতিরোধ করতে পারে।

একটি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা যেমন- প্রক্রিয়াজাত এবং পরিশোধিত খাদ্য- শিশু এবং কিশোর সহ সবার মধ্যে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিডেমিওলজিস্ট ফেলিস জ্যাকার নেতৃত্বে গবেষকরা দেখেছেন বিষণ্ণতায় ভোগা ব্যক্তিদের খাদ্যের উন্নতি তাদের মেজাজ উন্নত করতে সাহায্য করে ।

তারা এই গবেষণার জন্য বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ৬৭ জনকে বেছে নিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের ইতোমধ্যে এন্টিডিপ্রেসেন্ট, কয়েকজন সাইকোথেরাপি নিচ্ছেন এবং কেউ কেউ উভয় চিকিৎসাই করাচ্ছেন।

এদের অর্ধেক কে একজন ডায়েটিশিয়ানের কাছ থেকে পুষ্টিকর খাবারের পরামর্শ দেয়া হয়।

বাকি অর্ধেককে একের পর এক সামাজিক সমর্থন দেয়া হয় বিষণ্ণতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য।

প্রায় ১২ সপ্তাহ পরে, তাদের পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা অনুসরণকারীরা সামাজিক সমর্থন পাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি সুখে রয়েছেন।

যেসব খাবার বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে

কার্বোহাইড্রেট

কম কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খেলে বিষণ্ণতার সুত্রপাত হয়।

যেহেতু মস্তিষ্কে ভাল অনুভূতি সৃষ্টিকারী রাসায়নিক সেরোটোনিন এবং ট্রাইপ্টোফান উৎপাদন কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাদ্য দ্বারা শুরু হয়।

সুতরাং, কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) খাদ্য যেমন কিছু ফল এবং শাকসবজি, হোল গ্রেইন শস্য, পাস্তা, ইত্যাদি উচ্চ জিআই খাদ্যের চেয়ে মস্তিষ্কের রসায়ন, মেজাজ ভালো করতে এবং শক্তি বৃদ্ধিতে একটি মাঝারি কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

কিন্তু, উচ্চ জিআই সমৃদ্ধ খাবার যেমন- প্রাথমিকভাবে মিষ্টি , তাৎক্ষণিক ও সাময়িক স্বস্তি প্রদান করে ।

প্রোটিন

প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণ এবং এ থেকে প্রাপ্ত অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

মস্তিষ্কের অনেক নিউরোট্রান্সমিটার অ্যামাইনো এসিড থেকে তৈরি করা হয়।

নিউরোট্রান্সমিটার ডোপামিন অ্যামিনো এসিড টাইরোজিন থেকে তৈরি করা হয় এবং নিউরোট্রান্সমিটার সেরোটোনিন ট্রাইপ্টোফান থেকে তৈরি হয়।

যদি এই দুটি অ্যামাইনো এসিডের কোন একটির অভাব থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নিউরোট্রান্সমিটারের পর্যাপ্ত সংশ্লেষণ হবে না, যা বিষণ্ণতার কারণ।

আবার, অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিড তৈরি হলে মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং মানসিক প্রতিবন্ধকতাও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ফিনাইলকেটনুরিয়া নামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।

অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ অ্যারিজোনা কলেজ অফ পাবলিক হেলথ, এর এক গবেষণায় দেখা যায় যে,

অতাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিডের অনুপাতে ভারসাম্যহীনতা, এবং/অথবা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের অভাব, কম প্লাজমা কোলেস্টেরলের সাথে সম্পর্কিত যা ক্রমবর্ধমান বিষণ্ণতার জন্য দায়ী হতে পারে।

ভিটামিন

বিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন বি-১২, ফোলেট ইত্যাদি ভিটামিন গুলোর অভাবে মানুষের মানসিক অবস্থার অবনতি হতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলোর অভাব পূরণ সাপেক্ষে মানুষের মানসিক অবসাদের উন্নতি হয়েছে।

কম মাত্রার ফোলেট এর সঙ্গেএন্টিডিপ্রেসেন্ট থেরাপির খারাপ ফলাফলের একটি শক্তিশালী প্রিডিসপোজিং ফ্যাক্টর রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। একটি নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে যে ৫০০ মিলিগ্রাম ফলিক এসিড এন্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করেছে।

বিষণ্ণতা প্রতিরোধে খনিজ পদার্থসমূহ

বিষণ্ণতাও উদ্বেগের মত মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণগুলো সৃষ্টির পিছনে খাদ্যতালিকার বিভিন্ন খনিজ পদার্থের অভাব বিরাজমান। ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্টিওপরোসিস, ক্রোমিয়ামের অভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি দেখা যায়।

মানসিক স্বাস্থ্যের উপর আয়োডিনের প্রভাব অনস্বীকার্য। গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের অভাব হলে শিশু বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মাতে পারে। এছাড়াও আয়োডিনের অভাবে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হতে পারে।

আয়রণের ঘাটতি হলে শিশুদের মধ্যে মনোযোগের ঘাটতি বা অতি সক্রিয়তা দেখা যায়। গর্ভাবস্থায় আয়রণের ঘাটতির ফলে এসময় নারীরা বেশি বিষণ্ণতা ও উদ্বিগ্ন বোধ করেন।

এছাড়াও, বিষণ্ণতা প্রতিরোধে সেলেনিয়াম ও লিথিয়ামের প্রভাব বিভিন্ন গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে।

জিংক খাবারের রুচি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।অনেকগুলো ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে, যারা বিষণ্ণতায় ভুগছেন তাদের জিংকের ঘাটতি রয়েছে। জিংক এন্টিডিপ্রেশেন্ট থেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করার পাশাপাশি ব্রেইনের কোষগুলোকে ফ্রি- র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এজন্য, কোভিড-১৯ রোগীদের জিংক সাপ্লিমেন্ট প্রেসক্রাইব করা হয়।

সুতরাং, খাদ্যতালিকায় সঠিক খাবার তালিকাভুক্ত করার মাধ্যমেও আপনি আপনার বিষণ্ণতা প্রতিরোধ করতে পারেন।

সঠিক খাদ্যতালিকা পেতে মায়া অ্যাপটি ইন্সটল করুন এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

Leave a Reply

Categories