মিষ্টি খাবার বাসনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ৩টি পদক্ষেপ - মায়া

মিষ্টি খাবার বাসনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ৩টি পদক্ষেপ

মিষ্টি খাবার আপনার শরীরের জন্য মিষ্টি নাও হতে পারে। আমরা ভোজন রসিক বাঙ্গালীরা বরাবরই মিষ্টি প্রিয়। খাওয়ার পর পাতে একটু মিষ্টি না হলে চলে না। চিনি ছাড়া কি আর চা জমে?

উৎসব আয়োজনে, সুখবর দেওয়ার বাহানায় এমনকি মন খারাপ দূর করার জন্যও আমরা মিষ্টি খেতে পছন্দ করি।

মাঝে মাঝে আমাদের ক্ষুধার লাগার পাশাপাশি মিষ্টি খাওয়ার তীব্র বাসনা জাগে যা, উপেক্ষা করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

কিন্তু উপেক্ষা করা এত কঠিন কেন জানেন? কারণ, এই মিষ্টি খাবার বাসনা আপনার শরীর থেকে নয় বরং মস্তিষ্ক থেকে নিজেকে পুরস্কৃত করার তাগিদ থেকে আসে।

অনেক দিন পর মিষ্টি খেতে ইচ্ছা হলে হালকা মিষ্টিমুখ করে থেমে গেলে সমস্যা নেই। তবে, পরিমাণটা বেশি হলেই ঝামেলা।

মায়ার পুষ্টিবিদ মনীরা আক্তারের থেকে ৩ টি ধাপে কিভাবে আপনি মিষ্টি খাবারের বাসনাকে নিয়ন্ত্রণে করবেন তা জেনে নিন। 

১ম ধাপ- ক্ষুধার্ত থাকলে পেটভরে স্বাস্থ্যকর খাবার খান

ক্ষুধা লাগা আর মিষ্টি খাবার আকাঙ্ক্ষা এক জিনিস নয়। এটি মস্তিষ্ক প্রসূত।

তবে, যখন একই সাথে আপনি ক্ষুধা এবং মিষ্টি খাবার ভোগের বাসনা অনুভব করবেন তখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন।

তাই, নিজের কাছে সবসময় কিছু স্বাস্থ্যকর বিকল্প হালকা খাবার যেমন- বিভিন্ন বাদাম, খেজুর, কিসমিস ইত্যাদি প্রস্তুত রাখুন যেন ইচ্ছা করলে খেতে পারেন। আর খেজুর এমন একটি খাবার যা আপনার মিষ্টির খুবই ভাল বিকল্প হতে পারে।

ক্ষুধা লাগলে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন- মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি খাবার আপনার পেট অনেকক্ষণ ভর্তি রাখতে সহায়তা করে।

ওজন কমাতে ও সুস্থ্য থাকতে চাইলে যে কোন ধরণের মিষ্টি , ডেজার্ট, জাংক ফুড, রীচ ফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকার কোনই বিকল্প নেই। কারন আপনি যত বেশি মিষ্টি জাতীয় খাবার খাবেন আপনার মিষ্টি খাবার খাওয়ার চাহিদা ততই বাড়তে থাকবে।

২য় ধাপ- মিষ্টি খাবার বাসনাকে দূরে রাখতে গরম পানি দিয়ে গোসল করুন

কুসুম গরম পানি দিয়ে  গোসল করলে অনেকের মিষ্টি খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষাটা কমে যায়।

গোসলের পানি অবশ্যই অতিরিক্ত গরম হওয়া যাবে না আবার একদম ঠাণ্ডাও হওয়া যাবে না। সহ্য করার মত গরম পানি কাঁধে ও পিঠে ঢেলে গোসল করুন।

গোসলের পর দেখবেন আপনি মানসিকভাবে অনেক প্রশান্তি অনুভব করছেন এবং আপনার মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমে গিয়েছে।

৩য় ধাপ- বাইরে গিয়ে হালকা হাঁটাহাঁটি

বাইরে গিয়ে হালকা হাঁটাহাঁটি কিংবা দৌড়াদৌড়ী আপনার মিষ্টি খাবার আকাঙ্ক্ষা যেমন কমবে তেমনি আপনি শারিরীক ও মানসিকভাবে উপকৃত হবেন।

বাইরে হাঁটাহাঁটি করলে আপনি ২ ভাবে উপকৃত হবেন। প্রথমত, আপনি খাবার থেকে দূরে চলে যাবেন।

দ্বিতীয়ত হাঁটাহাঁটি করলে তা মস্তিষ্ক থেকে অ্যানডরফিনস (Endorphin) কিংবা অন্যান্য উপকারী কেমিক্যাল নিঃসরণে সহায়তা করবে।

বাইরে বের হওয়া সম্ভব না হলে ঘরেই পুস-আপ, স্কোয়াটের মত ওজন নিয়ন্ত্রণের ব্যায়াম গুলো করতে পারেন।

মিষ্টি খাবার আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য করণীয়সমূহ

উপরের ধাপগুলো অনুসরণ করলে আপনার মিষ্টি খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আশা করি  অনেকটা কমে যাবে।

তবে, আকাঙ্ক্ষাগুলো শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বেশি ভালো। এজন্য, ঘরে জাংক ফুড, মিষ্টি জাতীয় খাবার না রেখে হাতের কাছে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন।

এছাড়াও, নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করে দেখু্ন ভালো ফল পাবেন আশাকরি-

  • পানি পান-  পানি স্বল্পতা বা ডিহাইড্রেশনের ফলে অনেক সময় মিষ্টি খাবার আকাঙ্ক্ষা বাড়ে।
  • ফল খান- এক টুকরো ফল অনেকের চিনির আকাঙ্ক্ষা মেটাতে সহায়তা করতে পারে। যেমন- কলা, আপেল, কমলা দুর্দান্ত কাজ করে। 
  • কৃত্রিম সুইটেনারগুলি এড়িয়ে চলুন- আপনি যদি মনে করেন যে কৃত্রিম সুইটেনার আপনার ক্রেভিংস এর জন্য দায়ী তবে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • বেশি প্রোটিন খান-  প্রোটিন সব সময়ই তৃপ্তিদায়ক। এবং এই তৃপ্তি আপনার অন্যান্য ক্রেভিংস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। 
  • আঁশ জাতীয় খাবার খান- আঁশজাতীয় খাবার খেলে পেট অনেকক্ষন ভরা  থাকবে। যা মিষ্টি খাবার বা অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছাকে অবদমিত রাখবে।  
  • বন্ধুর সহায়তা নিন- ক্রেভিংসের সময় আপনার বিশ্বস্ত কারও সাথে কথা বলে আপনার পরিস্থিতি বুঝিয়ে বলুন। নিশ্চয় তার উৎসাহে আপনার মিষ্টি খাবার আকাঙ্ক্ষা কমে যাবে। 
  • পর্যাপ্ত ঘুম- ভালো ঘুমের মত প্রশান্তিদায়ক জিনিস আরনেই। এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভালো। শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি আপনাকে অন্যান্য ক্রেভিংস থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। 
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন-  অতিরিক্ত মানসিক চাপ আপনার সুগার ক্রেভিংস এর কারণ হতে পারে। তাই, এটি এড়িয়ে চলুন। 
  • নির্দিষ্ট কিছু বিষয় এড়িয়ে চলুন- নির্দিষ্ট কিছু কিছু বিষয় যার সান্নিধ্যে আসলে আপনার সুগার ক্রেভিংস বেড়ে যায় সেগুলো এড়িয়ে চলুন। যেমন- বিভিন্ন খাবারের রেসিপি দেখা, রেস্টুরেন্ট বা ফাস্টফুডের দোকান ইত্যাদি। 
  • না খেয়ে থাকবেন না– না খেয়ে নিজেকে অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত রাখবেন না। বড় মিলের মাঝে হালকা খাবার খাবেন। 

সবশেষে বলব, আপনি যদি বেশ কিছুদিন নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন দেখবেন এই মিষ্টি খাবারের প্রতি একটা সময় আর তেমন আগ্রহ বোধ করবেন না। 

ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থতা সংক্রান্ত আরও কিছু জানতে মায়া অ্যাপ ইন্সটল করে পরামর্শ নিন। 

Leave a Reply

Categories