প্রসবের পর বাড়তি ওজন কমানোর ৬ টি উপায় - মায়া

প্রসবের পর বাড়তি ওজন কমানোর ৬ টি উপায়

বাড়তি ওজন প্রসব পরবর্তী সময়ে নারীর হতাশার একটি বড় কারণ।সন্তান নিয়ে ব্যস্ততার ফাঁকে কখনও যদি আয়নায় নিজেকে দেখার সময় পান তবে মনটা ভার করে ফেলেন। ইস! কোনভাবে যদি ওজন কমিয়ে আগের মত হওয়া যেত!! ভাবনাটা প্রায়ই মাথায় ঘুরপাক খায়। তবে বসে বসে ভাবলেই কিন্তু ওজন কমবে না। এর জন্য আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে। মায়ার এক্সপার্টের ৬টি পরামর্শ অনুযায়ী অনুশীলণ করে পরিবর্তনটা যাচাই করুন-

ওজন কমানোর পূর্বে শরীর সুস্থ হওয়ার সময় দিন

মা হওয়া অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। মা হওয়ার পর পর ই আপনার শরীর ডায়েটিং কিংবা ভারী ব্যায়ামের জন্য প্রস্তুত থাকে না। এর জন্য আপনার শরীরকে একটু সময় দিন। এত কষ্ট করে যাকে পৃথিবীতে আনলেন সে মাতৃত্বকে উপভোগ করুন কিছুদিন। হুট করেই ওজন কমবে না এর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এবং ব্যালেন্সড খাদ্যাভাস বজায় রাখুন।

হাটা শুরু করুন

প্রসবের পর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব হাঁটাচলা করা শুরু করুন। আপনি হাঁটাচলা করলে আপনার ক্যালরি বার্ন করা শুরু হবে। একটি ফিটনেস ট্রাকার এর সাহায্যে প্রতিদিন কত ক্যালরি আপনি বার্ন করছেন তা ট্র্যাক করুন। সুস্থ ও শক্তি ফিরে পাবার সাথে সাথে প্রতিদিন একটু একটু করে পরিশ্রমের বা হাঁটাচলার মাত্রা বাড়িয়ে দিন।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম

সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের কোন বিকল্প নেই। আপনার বাচ্চা যদি আপনাকে রাতে ঘুমাতে না দেয় তবে সে যখন ঘুমাবে তখনই আপনি একটু ঘুমিয়ে নিতে দ্বিধা বোধ করবেন না। এমনকি ব্যায়াম করার জন্যও না। কারণ শুরুতে আপনার সুস্থতা পুনরুদ্ধার করাটা ওজন কমানোর চেয়েও বেশি জরুরী।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক খাদ্যাভাস গড়ে তুলুন

গর্ভবতী থাকালীন আপনার হয়ত খাওয়াদাওয়ার উপর আপনার তেমন কোন নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কিন্তু প্রসবের পর অভ্যাসে লাগাম টেনে ধরুন। পুষ্টিকর খাবারের দিকে মনযোগ দিন এবং বাজে খাবারের ইচ্ছা পরিত্যাগ করুন। নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করুন-

  • সারা দিন জুড়ে অল্প অল্প পরিমাণে বারবার, সুষম খাবার খাওয়ায় মনোযোগ দিন
  • প্রাতঃরাশ হ’ল আপনার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাবার
  • ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের ভাল উত্সগুলির অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করুন
  • অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করা ছাড়াই আপনাকে পেট ভরাট রাখতে খাদ্যতালিকায় বেশি বেশি আঁশযুক্ত খাবার যোগ করুন
  • বাদাম এবং অ্যাভোকাডোর মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি অন্তর্ভুক্ত করুন
  • হাতে প্রচুর তাজা ফল এবং শাকসবজি বেশি করে খান

নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন

অনেকেই ফিট থাকতে গর্ভাবস্থায় ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম করে থাকেন। আপনি যদি এমনটা নাও করে থাকেন তবে চিন্তার কিছু নাই। আপনার ডাক্তার অনুমতি দিলে আস্তে আস্তে ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রসবের পর ব্যায়াম করার সময় নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন-

  • ব্রিজ এবং প্ল্যাঙ্ক এর মত ব্যায়ামগুলো আপনার তলপেট ও এর আশেপাশের এলাকা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে
  • শক্তি এবং নমনীয়তা বৃদ্ধির জন্য ইয়োগা ও পিলেটস করুন
  • কার্ডিও কেন্দ্রিক অনুশীলন ধীরে ধীরে আবার শুরু করুন যেমন- সাঁতার, বাইক চালানো, ট্রেডমিল ওয়ার্কআউট ইত্যাদি আপনার হৃদস্পন্দনকে বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত কাজ করবে
  • নরমাল ডেলিভারীর মায়েরা ভার উত্তোলন শুরু করতে পারেন। সারা শরীর কেন্দ্রিক ভার উত্তোলন করলে দ্রুত শরীরে শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং চর্বি ঝরাতে সহায়তা করে। তবে, সি-সেকশন করা মায়েরা এ বিষয়ে আগে ডাক্তারের পরামর্শ ও অনুমতি নিবেন

মনে রাখবেন, এই প্রক্রিয়ায় সঠিক ফলাফল পেতে আপনাকে ধৈর্য সহকারে দীর্ঘদিন অনুশীলন করতে হবে। দেরি হলেও ভালো ফল পাবেন আশাকরি। যে কোন সমস্যায় মায়ার এক্সপার্টদের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

Leave a Reply

Categories