বিশ্বের জনসংখ্যা কয়েক শতাব্দীর মধ্যে প্রথম হ্রাস পাবে: নতুন সমীক্ষা !!! - মায়া

বিশ্বের জনসংখ্যা কয়েক শতাব্দীর মধ্যে প্রথম হ্রাস পাবে: নতুন সমীক্ষা !!!

বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা পরবর্তী শতাব্দীর মধ্যে হ্রাস পাবে বলে আধুনিক সভ্যতার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ ঘটনা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এবং জীবনযাত্রায় বিপ্লবীয় পরিবর্তন সাধন করতে চলেছে।  

বিশ্বের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় 8.৮ বিলিয়ন। দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই সংখ্যাটি পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৬৪ সালে প্রায় ৯.৭ বিলিয়ন লোকের উপরে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবে ২১০০ সালে এ হার কমে প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন এ নেমে আসবে।

স্টেইন এমিল ভলসেট, স্বাস্থ্য মেট্রিক্স ইনস্টিটিউটের শীর্ষস্থানীয় গবেষক লেখক এবং গ্লোবাল হেলথের অধ্যাপক এমনটাই বলেছেন। 

জাপান, থাইল্যান্ড, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রায় ২৩ টি দেশে জনসংখ্যার হার প্রায় ৫০% হ্রাস পাবে, অধিক বয়স্ক লোক এবং কম শিশু জন্মহারের জন্য দেশগুলোকে চিহ্নিত করা হবে।  

এমনকি চীনের মত বহু জন্মহারের দেশেও জনসংখ্যা যেখানে ২০১৭ সালে ১.৪ বিলিয়ন ছিল তা কমে ২১০০ সালে ৭৩২ মিলিয়নে নেমে আসবে। 

বিশ্বব্যাপী জন্মহার হ্রাস পাওয়ার মাঝেও কিছু কিছু দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বাড়বে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর আফ্রিকা, মধ্য প্রাচ্য, এবং সর্বাধিক সুস্পষ্টভাবে সাব-সাহারান আফ্রিকা যা এই শতাব্দীতে ২০১৭ সালে ১.০৩ বিলিয়ন থেকে ২১০০ সালে ৩.০৭ বিলিয়ন অর্থাৎ তিন গুণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের স্কুল অফ মেডিসিনের আইএইচএমইর গবেষকরা গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ স্টাডি ২০১৭ এর তথ্য ব্যবহার করে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আগামী ৮০ বছরে কীভাবে মৃত্যুহার, শিশু জন্মদানের ক্ষমতা এবং মাইগ্রেশন বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার উপর প্রভাব ফেলবে। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং জলবায়ু পরিবর্তন পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে মৃত্যুহারকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে তাও এই গবেষণায় আমলে নেয়া হয়।

জনসংখ্যা ও জীবনযাত্রায় মৃত্যুহারের প্রভাব

বিশ্ব পেছনের কারণগুলি জটিল এবং অনেকটা অস্পষ্ট। তবে, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জন্মনিরোধকের সহজলভ্যতার কিছু পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে এর পিছনে। ব্যাপারটা এমন যে গড়ে একজন নারী তার জীবদ্দশায় কয়টি সন্তান জন্মদান করছে তার উপর পুরো পৃথিবীর জনসংখ্যা নির্ভর করবে। জনসংখ্যার সংখ্যা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নূন্যতম বিবেচিত হার হল  নারী প্রতি ২.১ টি জীবিত সন্তান জন্ম দান। ২০১৩ সালে মোট উর্বরতার হার (fertility rate) ২.৭ থেকে ২১০০ সালে ১.৬ এ বিশ্বব্যাপী অবিচ্ছিন্নভাবে হ্রাস পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। 

এ পরিবর্তনের পাশাপাশি, আমরা ভৌগলিক শক্তিতে ও জীবনযাত্রায় অনেকগুলি মৌলিক পরিবর্তন আসবে। কর্মক্ষম বয়স্ক ব্যাক্তির সংখ্যায় আশংকা জনক হারে পরিবর্তন আসায় তা ঐ দেশের অর্থনৈতিক এবং ভু- রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন আসবে। 

একাধিক পরাশক্তির এই পৃথিবীতে কারা রাজত্ব করবে তা দেখা বাকি রয়েছে, তবে চীন অর্থনীতিতে জিডিপি হিসেব অনুযায়ী  আমেরিকাকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, তাদের অনুমানগুলি সঠিক হলে, ২০৯৮ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  শীর্ষস্থানটি পুনরায় দাবি করবে। 

“একবিংশ শতাব্দী আমাদের মানব সভ্যতার গল্পে একটি বিপ্লব দেখতে পাবে,” ল্যানসেটের প্রধান সম্পাদক ডঃ রিচার্ড হর্টন এক বিবৃতিতে বলেছেন।

“আফ্রিকা এবং আরব বিশ্ব আমাদের ভবিষ্যতের রূপকার হবে, যখন ইউরোপ এবং এশিয়া তাদের প্রভাবকে আরও কমিয়ে দেবে। শতাব্দীর শেষের দিকে পৃথিবী হবে ভারত, নাইজেরিয়া, চীন এবং আমেরিকার প্রভাবশালী শক্তিগুলির।” তিনি আরও বলেন।

“এটি সত্যই একটি নতুন পৃথিবী হবে, তার জন্য আজকে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদের ” 

নতুন গবেষণাটিও যুক্তি দেখিয়েছে যে বিশ্ব বর্তমানে যেভাবে মাইগ্রেশন নীতিকে দেখছে সেটি পরিবর্তন করতে হবে। যদিও বিগত দশকগুলি জাতীয়তাবাদী শাসকদের পুনরুত্থান এবং অভিবাসীদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বৈরিতা দেখেছে, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে অনেক দেশকে তাদের জনসংখ্যার আকার বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য আরও উদার অভিবাসন নীতি বেছে নিতে হবে। 

এখন স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে মাইগ্রেশনের সুদুরপ্রসারী প্রভাব গুলো বিবেচনা করতে হবে। শ্রম বয়সী জনগণের বন্টনের উপর মানব সভ্যতার অগ্রগতি বা অবনতি নির্ভর করবে। মায়ার সাথে থাকুন, নতুন নতুন তথ্য জানুন।

তথ্যসুত্র,

ifl science

Leave a Reply

Categories