হঠাৎ একবার অতিরিক্ত ভক্ষণ শরীরে কি প্রতিক্রিয়া করে: নতুন গবেষণা - মায়া

হঠাৎ একবার অতিরিক্ত ভক্ষণ শরীরে কি প্রতিক্রিয়া করে: নতুন গবেষণা

অতিরিক্ত ভক্ষণ ভোজনরসিক বাঙ্গালীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিয়ে কিংবা দাওয়াত, উৎসব, আয়জনে আমরা প্রায়শ অতিরিক্ত ভক্ষণ করে ফেলি। গবেষণায় জানা যায় যে, অতিরিক্ত ভক্ষণ বা ক্যালরি গ্রহণের অনেক সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। 

মানুষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ব্যাপী অতিরিক্ত খাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তবে, দীর্ঘ সময় না, আপনি যদি মাত্র ২৪ ঘণ্টা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাওয়া দাওয়া করেন তাহলে আপনার রক্তে সুগারের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়াসহ আরও নানাবিধ শারীরিক সমস্যা হতে পারে।  

অতিরিক্ত ভক্ষণ নিয়ে নতুন গবেষণা

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা হয় মানুষ পেট ভরে যাওয়ার পরও কতটুকু অতিরিক্ত ভক্ষণ করতে পারে। এই ভক্ষণ মানবদেহে বিপাকীয় শক্তির উপর কতটুকু প্রভাব ফেলে এবং শরীরে এর কি প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তা নিয়েই মুলত এই গবেষণা।

এই গবেষণার জন্য ১৪ জন ২২-৩৭ বছর বয়সী সুস্থ মানুষকে নির্বাচন করে তাদের পেট ভরে পিজজা খেতে বলা হয়। তারা প্রতিজন গড়ে ১৫০০ ক্যালরি গ্রহণ করে। 

অন্য একদিন ঐ ব্যক্তিদের পেটভরার পরও যত পারে খেতে বলা হল । অবাক করার মত বিষয় হল তারা প্রতিজন গড়ে ৩০০০ ক্যালরি গ্রহণ করল যা আগের দিনের তুলনায় দ্বিগুণ। কেউ কেউ ৪৮০০ ক্যালরি পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারল। তার মানে ধরে নেওয়া যায় যে, আমাদের পেট যখন অর্ধেক ভরে তখনই আমরা সম্পূর্ণ ভর্তি অনুভব করি। 

খাওয়া শুরুর প্রতি চার ঘণ্টা পর পর তাদের রক্তের সুগার লেভেল মেপে দেখা হয় শরীরে এর প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য। দেখা যায় প্রায় দ্বিগুণ খাওরার পরও খুব অল্প মাত্রায় রক্তের সুগার ও চর্বির পরিমাণ বেড়েছে। সুগার ও চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতার উপর একজন ব্যাক্তির বিপাকীয় শক্তি কত ভালো তা নির্ভর করে। এভাবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও পরিমাপ করা যায়। 

শারীরিকভাবে সক্রিয় এবং স্বাস্থ্যকর এই মানুষগুলি স্বাভাবিকের চেয়ে খানিকটা কঠোর পরিশ্রম করে অতিরিক্ত ভক্ষণের পরে রক্তে সুগার এবং চর্বি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন। দেখা যায়, পাকস্থলী এবং অগ্ন্যাশয় থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত হরমোনগুলি (ইনসুলিন সহ) শরীরকে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করেছে। খাবারের পরে হার্ট রেট বেড়ে যাওয়া,  নিশ্চিত করে যে এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে শরীর আরও কঠোর পরিশ্রম করছে। 

আমরা খাবার-পরবর্তী সময়ে ব্যাক্তিরা নির্দিষ্ট ধরণের খাবারের পূর্ণতাবোধ, ঘুম এবং খাওয়ার আগ্রহ পর্যবেক্ষণ করে দেখা হয়।স্বাভাবিক সময়ে খাওয়ার পর হালকা মিষ্টান্ন খাওয়ার যে ইচ্ছা আমাদের মধ্যে থাকে তারা খাবার চার ঘণ্টা পরও সে আগ্রহ অনুভব করেন নি। তবে, খুব বেশি খাওয়ার পরে তারা ঘুম  এবং দুর্বল বোধ করছিলেন।

অতিরিক্ত ভক্ষণ নিয়ে গবেষণার মূল ফলাফল

এই গবেষণার পূর্বে ধারনা করা হয়েছিল যে, একবার অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীরে হয়ত কোন বড় ধরণের প্রভাব পরিলক্ষিত হবে কিন্তু আদতে তেমন কোন প্রভাব দেখা যায় নি। অর্থাৎ, হঠাৎ একদিন একটু অতিরিক্ত ভক্ষণ করলে আমাদের শরীর এর সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। 

এখানে উল্লেখ্য যে, এই গবেষণা শুধু,সুস্থ এবং যুবকদের মধ্য করা হয়েছে। এ ধরণের পরীক্ষা অসুস্থ যেমন- টাইপ -২ ডায়াবেটিস ঝুঁকি যুক্ত কেউ কিংবা অতিরিক্ত ওজনের ব্যাক্তিদের উপর পরীক্ষা করে দেখা উচিৎ যে ফলাফল কি দাঁড়ায়। 

একটা কথা জানিয়ে রাখি, একজন সুস্থ সবল ব্যাক্তি হঠাৎ একদিন  অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে হয়ত শরীরে এর তেমন কোন প্রভাব পড়বে না। কিন্তু, একটানা অতিরিক্ত ভক্ষণ  খাওয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ  ও ডায়াবেটিস সহ আরও নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এর ফলে, আমাদের শরীর প্রতিক্রিয়া জানাতে অক্ষম হয়ে যাবে। মায়ার সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

Leave a Reply

Categories