মস্তিষ্ক কি শরীরের পেশীর সাথে সাথে ক্লান্ত হয়? মুক্তির উপায় কি? - মায়া

মস্তিষ্ক কি শরীরের পেশীর সাথে সাথে ক্লান্ত হয়? মুক্তির উপায় কি?

মস্তিষ্ক মাঝে মাঝে আমাদের কথা শুনে না। শরীরের ক্লান্তির সাথে সাথে প্রায় সব মানুষ মানসিক অবসাদে ভুগেন। অফিসে কাজের চাপ, ঘরে সাংসারিক কাজকর্ম, একটানা পরিশ্রমের পর আপনি অন্যকাজে মনযোগী হতে পারেন না।  

আমার মত আপনার মাথায় ও নিশ্চয় এখন এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে-

  • শরীরের পেশীগুলোর মত মস্তিষ্ক ও কি ক্লান্ত হয় ?
  • সঠিক ভাবে কাজ করার জন্য কি করতে হবে?
  • শারিরীক ও মানসিক কি কি সমস্যা দেখা দেয়?
  • সমাধানের উপায় কি?  

এসবের পিছনে আসলে কিছু বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ রয়েছে। আর এর থেকে পরিত্রাণের উপায়ও কিন্তু খুব সহজ।  

পেশীর সাথে সাথে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয় কি?

মানবদেহে মস্তিষ্ক মুলত একটি অঙ্গ, পেশী নয়। মস্তিষ্কে  প্রচুর ফ্যাটের পাশাপাশি কিছু পেশী টিস্যু থাকে। মস্তিষ্ক নিউরন নামক স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করে। যদিও এটি পেশী নয় তবুও কাজ করার জন্য এর শক্তির প্রয়োজন হয়। এই শক্তির মুল উৎস হল গ্লুকোজ।

যখন গ্লুকোজ মস্তিষ্কের কোষগুলিতে প্রবেশ করে, তখন এটি অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট (ATP) নামক কটি জটিল জৈব রাসায়নিক এ রূপান্তরিত হয় যা মাইটোকন্ড্রিয়া দ্বারা কোষগুলিতে শক্তি সঞ্চয় এবং স্থানান্তর করে। 

যখন আপনার মস্তিষ্ক কঠোর পরিশ্রম করে, তখন এটি সমস্ত গ্লুকোজ ব্যবহার করে, যা আপনাকে হতাশায় ফেলে। যখন গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় তখন, এটিপি-র স্তর বাড়ে যা ডোপামিনকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এই ডোপামিন এমন রাসায়নিক যা আপনাকে ভাল বোধ করতে এবং আপনাকে অনুপ্রাণিত করতে সহায়তা করে।

২০১৮ সালে স্পোর্টস মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে যখন আপনার মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত ডোপামিন পায় না, তখন আপনি কাজে মনযোগী হতে পারবেন না । সুতরাং আপনার মস্তিষ্ক পেশী না হলেও রাসায়নিকভাবে আপনি খুব বেশি চিন্তা করেও ক্লান্ত হয়ে যেতে পারেন।

কিভাবে মস্তিষ্ক সঠিক ভাবে কাজ করবে?

যদিও মস্তিষ্ক যথেষ্ট গ্লুকোজ  সরবরাহ না পেলে মানসিক অবসাদ তৈরী হয় তার মানে এই নয় যে বেশি করে গ্লুকোজ খেলে বা গ্রহণ করলে আপনার মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করা শুরু করবে। হালকা খাবার ও কফি খেলে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে। 

মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষ প্রায় ১০০,০০০ অন্যান্য কোষের সাথে একটি জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত। আপনি যখন ক্লান্ত হয়ে যান তখন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ এবং ইলেক্ট্রিক্যাল কার্যকারীতা কমে যায়। বিশ্রাম নিলে এটি দূর হয়ে যায় তবে কেন সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও গবেষণা করছেন। । একটি কার্যকর মস্তিষ্কের জন্য নিম্নোক্ত ৪টি কাজ করতে পারেন- 

  • রক্তে গ্লুকোজের সরবরাহ ঠিক রাখা 
  • কোষে গ্লুকোজ সরবরাহ ঠিক রাখা 
  • গ্লুকোজ কোষের মাইটকন্ড্রিয়াতে প্রবেশ 
  • মাইটোকন্ড্রিয়াতে ATP উৎপন্ন হওয়া 

এ চারটি অবস্থার যেকোন একটির ব্যাঘাত ঘটলে তা মানসিক অবসাদের কারণ হতে পারে।

মস্তিষ্কের ক্লান্তি থেকে কি হতে পারে?

মস্তিষ্ক ক্লান্ত হলে তা নিম্নোক্ত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে-

  • মানসিক অবসাদ
  • শরীর থেকে স্ট্রেস হরমোন বেশি পরিমাণে নির্গত হয়
  • ক্রমাগত মানসিক চাপে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়
  • মানসিক বিপর্যয়, হতাশা, স্ট্রেস
  • মনোযোগের অভাব, ফোকাসের অভাব, ভুলে যাওয়া সহ অন্যান্য মানসিক সমস্যা

মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করতে আমরা কি করতে পারি?

মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করতে নিজের শরীরের যত্ন নিতে হবে। শরীর এবং মন দুটো আলাদা আলাদা কাজ করলেও তারা একই স্বত্বার অংশ। একটি ভালো থাকলে অপরটিও ভালো থাকবে। তাই আপনি যা করতে পারেন তা হল- 

  •  দিনের গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন কাজগুলো সকালে করার চেষ্টা করুন। 
  • পারফেশনিস্ট না হয়ে নিজের সাধ্যঅনুযায়ী শ্রম দিন। সাধ্যের বাইরে গিয়ে নয়। 
  • বেশি কাজ করতে গিয়ে নিজের ঘুমের সাথে কোন আপোষ করবেন না। পর্যাপ্ত ঘুমকে সর্বদা গুরুত্ব দিন। 
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খান। ব্যালেন্সড ডায়েট অনুসরণ করুন যেন সব ধরনের পুষ্টি উপাদান আপনি পান। তবে মন ভালো রাখতে মাঝে মাঝে একটু ট্রিট দেওয়াই যায় নিজেকে। 
  • আঁশযুক্ত খাবার, শাক সবজি, ফলমুল ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন।   
  • নিয়মিত শরীরচর্চা ও মেডিটেশন করুন। 
  • পরিবারের সাথে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সময় কাটান।  
  • কাজ সঠিক পরিকল্পনা করে এবং সময় ভাগ করে করুন। 
  • নিজের সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু করতে যাবেন না। প্রয়োজন হলে আপনার সহকর্মী, পরিবারের সদস্য বা শুভাকাঙ্ক্ষীর সহায়তা নিন। 
  • মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত বোধ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এ ক্ষেত্রে মায়া এর এক্সপার্টরা আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন। 

Leave a Reply

Categories