কোভিড-১৯: ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৌড়ে এগিয়ে কে ও আদ্যোপান্ত - মায়া

কোভিড-১৯: ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৌড়ে এগিয়ে কে ও আদ্যোপান্ত

ভ্যাকসিন এর জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে বিশ্ববাসীকে? কোভিড-১৯ নিয়ে এ প্রশ্নটি এখন সবার। তবে কি, ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৌড়ে রাশিয়া প্রথম হল ? প্রথম প্রশ্নের জবাব জানতে আপনাকে পুরো লেখাটি পড়তে হবে আর দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হল ভ্যাকসিন অনুমোদনের দিক থেকে রাশিয়া প্রথম হলেও কার্যকরিতার দিক দিয়ে এটি কতটুকু সফল তা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। মায়া শুরু থেকেই এই ভাইরাস প্রতিরোধে জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরি এবং সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য কাজ করে চলেছে।  

ভ্যাকসিন তৈরী করতে কত সময় লাগে?  

ইতিহাস বলে, একটি কার্যকর ভ্যাকসিন পেতে সাধারণত ৫-১০ বছর সময় লেগেছে। তবে, আশাহত হবেন না। কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অধীনে সারাবিশ্বের বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে এবং অবিশ্বাস্য দ্রুততার সাথে তাদের গবেষণায় অগ্রসর হয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে SARS-coV-2 ভাইরাস উদ্ভূত হওয়ার পরপরই বিজ্ঞানীরা এর আণবিক কাঠামো আবিষ্কার করেন এবং জানুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ, বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটি কী তা জেনে যান, এর জিনগত ক্রম বুঝতে পারেন। 

ভাইরাসটি সনাক্ত হওয়ার ঠিক দু’মাস পরে, মানুষের উপর ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়েছিল।

বিশ্বব্যাপী চিত্র

সারাবিশ্বে ২০০ টিরও বেশি ভ্যাকসিন উন্নয়নের কাজ চলছে যার মধ্যে অন্তত ২৪টি মানবদেহে ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে। 

এ সমস্ত ভ্যাকসিনের মধ্যে অন্যতম হল- 

  • যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিন যা শিম্পাঞ্জি অ্যাডেনোভাইরাস ভিত্তিক।এর আগে ইবোলা ভ্যাকসিনের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়েছিল। 
  • অ্যাডেনোভাইরাস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে চীনে আরও একটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হচ্ছে। 
  • মডার্না ভ্যাকসিন একটি আর এন  এ ( RNA) ভ্যাক্সিন যা যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ এর অধীনে তৈরী হচ্ছে। 
  • রাশিয়ার অনুমোদিত ভ্যাকসিনটি মূলত SARS-coV-2 জাতীয় অ্যাডিনোভাইরাসের ডিএনএর উপর ভিত্তি করে তৈরি।
  • এছাড়াও রাশিয়া, ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রাজিল সহ আরও অন্যান্য দেশও এ নিয়ে কাজ করছে। 

একটি কার্যকর ভ্যাকসিন পেতে কি কি ধাপ অতিক্রম করতে হয়?

পরীক্ষাধীন ভ্যাকসিন কার্যকর এবং সর্বস্তরের মানবদেহে প্রয়োগের উপযোগী হওয়ার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদন পেতে হয়। ভ্যাকসিন গুলোকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন স্তর পার করে অগ্রসর হতে হয়। সবার প্রথমে পরীক্ষাগারে গবেষণা, প্রানী দেহে প্রয়োগে নিরাপদ প্রমানিত হলে মানবদেহে প্রয়োগ করে ট্রায়ালের অনুমতি মেলে। মানবদেহে প্রয়োগের ও কিছু ধাপ রয়েছে। এগুলো হল- 

  • প্রথম পর্যায়ে প্রাথমিক নিরাপত্তা অধ্যয়ন জড়িত। এ পর্যায়ে ৩০-৫০ জন মানুষের উপর ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করে দেখা হয় এর কোন অপ্রত্যাশিত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে কিনা। 
  • প্রথম পর্যায়ে নিরাপদ প্রমানিত হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা চালানো হয়। এ পর্যায়ে ইমিউনোজেনসিটির দিকে লক্ষ্য করা হয় অর্থাৎ উক্ত ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য কাঙ্ক্ষিত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী হয়েছে নাকি না নিয়ে গবেষণা করা হয়। 
  • এরপরে এটি তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় চলে আসে, যার লক্ষ্য এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা – বা এটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে একজন ব্যক্তিকে কতটা সুরক্ষা দেয় তা পরীক্ষা।পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষের উপর প্রয়োগ করে এর সুরক্ষা খতিয়ে দেখা হয়। 

এ ধাপে উত্তীর্ণ হলেই কেবলমাত্র ঐ ভ্যাকসিনকে সফল হিসেবে ধরে ব্যাপকভাবে মানবদেহে প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে লাইসেন্স প্রদান করা হয়ে থাকে। 

রাশিয়া কি তবে সফল? 

গত মঙ্গলবার বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়ে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে রাশিয়া। মস্কো বলছে, তারা স্পুটনিক-৫ নামের একটি কার্যকর এবং নিরাপদ ভ্যাকসিনের নিবন্ধন দিয়েছে। তৃতীয় ধাপের ব্যাপক পরিসরের সুরক্ষা পরীক্ষার ফল আসার আগেই এই ভ্যাকসিনটি গণ-উৎপাদন এবং ধাপে ধাপে গণহারে প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়া। তবে, প্রথম দেশ হিসেবে যে ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওই ভ্যাকসিন নিয়ে মূল্যায়নের মতো পর্যাপ্ত তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে। ডব্লিউএইচও’র আঞ্চলিক শাখা প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের প্রধান এমন কথা জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?

যদি মানুষের ক্লিনিকাল ট্রায়ালের কয়েকটি ভ্যাকসিন কার্যকর হয় তবে সেগুলি পরের বছরের মাঝে পাওয়া উচিত। তবে ঠিক কখন তা ভবিষ্যদ্বাণী করা খুব কঠিন। খুব সফল হলে, প্রথম ডোজগুলির টাইমলাইন হবে  ২০২১ এর প্রথমার্ধ। তবে, ব্যর্থ হওয়ার জন্য ও মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে। কারণ ইতিহাসের এরূপ ট্রায়ালের মধ্যে ১০% এরও কম ভ্যাকসিন চূড়ান্ত ভাবে সফল হয়েছে। যত বেশি গবেষণা হবে, ট্রায়াল হবে একটি সফল ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনা ততই বৃদ্ধি পাবে। 

মোদ্দা কথা হল, দৌড়ে প্রথম হওয়াটা এখানে মুখ্য নয় বরং একটি নিরাপদ এবং সফল ভ্যাকসিন আবিষ্কার। এর জন্য ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করাটাই শ্রেয়। আর রাশিয়ার ভ্যাকসিন কতটা সফল তা সময়ই বলে দেবে। এরূপ আরও নতুন নতুন তথ্য জানতে মায়া অ্যাপটি ইন্সটল করে আমাদের সাথেই থাকুন।

তথ্যসুত্র,

https://www.aljazeera.com/indepth/features/doctors-note-vaccine-efforts-covid-19-succeeding-200727160850273.html?fbclid=IwAR0xRvXqb37Gza81pYQ8np9F5d17cj8KsQhlf6VYuD0rjhEfl43qqtCnI-Q

https://www.jagonews24.com/international/news/603403

Leave a Reply

Categories