মাস্ক পরিধানের ফলে ত্বকে সমস্যা? মেনে চলুন এই ৯ টি পরামর্শ - মায়া

মাস্ক পরিধানের ফলে ত্বকে সমস্যা? মেনে চলুন এই ৯ টি পরামর্শ

মাস্ক পরিধানের ফলে কভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত থাকা যায় এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে, দীর্ঘক্ষণ এবং ঘন ঘন মাস্ক পরিধান আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ত্বকের সমস্যার মধ্যে রয়েছে- ব্রণ, চামড়া উঠা, দাগ হয়ে যাওয়া, র‍্যাশ, চুলকানি ইত্যাদি। ত্বকের এ জাতীয় সমস্যাগুলো থেকে বাঁচতে মেনে চলুন নিচের পরামর্শগুলো- 

১। ত্বক প্রতিদিন  পরিষ্কার ও ময়শ্চারাইজ করা

প্রতিদিন ত্বকের যত্নের কিছু স্বাভাবিক নিয়মকানুন মেনে চললে ত্বকের সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারেন। প্রতিদিন ২ বার এবং ঘামের পর ত্বক পরিষ্কারের সময় মাইল্ড, ঘ্রাণহীন কোন ফেস ওয়াশ বেছে নিন।নিচের ধাপ অনুসরণে মুখ ধুয়ে নিন- 

  • কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ভিজিয়ে আঙ্গুলের সাহায্যে হালকা হাতে ফেস ওয়াশ  লাগিয়ে নিন। 
  • জোরে জোরে ত্বক ঘষা থেকে বিরত থাকুন। 
  • কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং নরম তোয়ালে বা রুমালের সাহায্য হালকা চেপে চেপে মুখ পানি শুকিয়ে নিন। 
  • ত্বক ময়শ্চারাইজ করুন। 

মাস্ক ব্যবহারের ফলে মুখের ত্বকের শুষ্কতা একটি সাধারণ সমস্যা। ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বকে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর যুক্ত হয় যা শুষ্কতা হ্রাস করতে পারে।

ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় নিম্নলিখিত উপাদানগুলির মধ্যে যে কোন একটি আছে কিনা দেখে কিনুন:

  • সিরামাইডস 
  • হায়ালুরোনিক অ্যাসিড
  • ডাইমেথিকোন (এটি একটি সুরক্ষা প্রাচীর তৈরী করে স্কিন ইরিটেশন কমাতে সাহায্য করে) 

আপনার ত্বকের ধরণ অনুযায়ী একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন করার সময়, এই গাইডটি অনুসরণ করুন:

  • তৈলাক্ত ত্বক (বা আবহাওয়া গরম বা আর্দ্র হলে): জেল ময়শ্চারাইজার 
  • সাধারণ বা সমন্বয়যুক্ত ত্বক: লোশন
  • শুষ্ক থেকে খুব শুষ্ক ত্বক: ক্রিম

আপনার যদি ব্রণ হয় বা ত্বক ফেটে যাওয়ার প্রবণতা থাকে তবে আপনি জেল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। 

মাস্ক পরার আগে এবং পরে ময়েশ্চারাইজার লাগান। ত্বকের সমস্যাগুলি ময়শ্চারাইজার ব্যবহারে কমবে, বিশেষত যদি আপনার শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বক হয়।

২। ঠোঁটের সুরক্ষায় পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান

আপনি ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ঠোঁটের শুষ্কতা ঠেকাতে পারবেন। পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাবেন:

  • আপনার মুখ ধোয়ার পরে
  • মাস্ক পরার  আগে
  • ঘুমানোর আগে

৩। মাস্ক পরার সময় মেকআপ এড়িয়ে চলুন  

মাস্কের নিচে মেকআপ আপনার ত্বকের ছিদ্রগুলি আটকে রাখে ফলে ব্রণ এবং দাগ পড়ে যাওয়ার  সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যদি মেকআপের একান্ত প্রয়োজন হয় তবে কেবলমাত্র “নন-কমডোজেনিক” বা “ওয়েল ফ্রি” লেবেলযুক্ত পণ্য ব্যবহার করুন।

৪। ত্বকের সমস্যা হতে পারে এমন নতুন পণ্যের ট্রায়াল এড়িয়ে চলুন

অল্প সময়ের জন্য মাস্ক পরলেও তা আপনার ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। ত্বকের সমস্যা হ্রাস করতে, ত্বকের জন্য কঠোর হতে পারে যেমন- কেমিক্যাল পিল, এক্সফোলিয়েন্ট বা রেটিনয়েডের মতো পণ্য গুলো এড়িয়ে চলুন।

৫। পূর্বে ব্যবহৃত পণ্যের কোনটি যদি ত্বকের সমস্যা সৃষ্টি করে তবে তা কম ব্যবহার বা এড়িয়ে চলুন 

আপনি যখন মাস্ক পরেন, তখন অতীতে ব্যবহৃত ত্বকের যত্নের কিছু পণ্য আপনার ত্বকে সমস্যা সৃষ্টি  করতে পারে, যা আগে হয় নি। এক্ষত্রে কিছু পণ্য ব্যবহার কমিয়ে দিন বা ছেড়ে দিন- 

  • স্যালিসিলিক অ্যাসিড ছেড়ে দিন
  • রেটিনয়েড ( শুধুমাত্র ঘুমানোর আগে ব্যবহার করুন)  
  • আফটারশেভ লোশন

৬। সঠিক মাস্ক ব্যবহার করুন

ত্বকের সমস্যাগুলি হ্রাস করতে, সঠিক মাস্কের ব্যবহার করুন যা নিম্নলিখিত গুণাবলী সমৃদ্ধ:

  • আরামদায়ক ফিটিং  
  • নরম, প্রাকৃতিক এবং সহজে শ্বাস নেয়া যায় এমন কাপড়। যেমন- সুতি কাপড় 
  • আপনার সংবেদনশীল ত্বক থাকলে এর অভ্যন্তরের এমন কাপড় ব্যবহার করুন যা নরম অনুভূত হয়
  • ব্রণ বা তৈলাক্ত ত্বক থাকলে ভিতরে সূতির উপাদান উত্তম
  • আপনার নাক জুড়ে, পাশে এবং আপনার চিবুকের নীচে ঢেকে যায় এমন ফিটিং।   

একটি সঠিক ফিটিঙের মাস্ক আপনার ত্বককে যেমন সুরক্ষিত রাখে তেমনি ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আপনাকে রক্ষা করে। অতিরিক্ত টাইট ফিটিং মাস্কে যেমন ত্বকে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে তেমনি, ঢিলা মাস্কের উপর নিচ ঘষাঘষিতে ত্বকে ইরিটেশন হতে পারে। আবার, ঢিলা মাস্কগুলো বার বার ঠিক করতে যেয়ে হাতের সংস্পর্শে এসে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।   

সিন্থেটিক কাপড়, যেমন নাইলন, পলিয়েস্টার এবং রেয়ন এড়িয়ে চলুন। এগুলিতে আপনার ত্বক জ্বলা এবং দাগ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

প্রতিদিন একই ধরনের মাস্ক না পরে বিভিন্ন ধরনের লুপের ব্যবহার করুন। রাবারের লুপ, কাপড়ের ফিতা, ইত্যাদি নানা ধরনের বন্ধন পদ্ধতির মাস্ক রয়েছে। প্রতিদিন একই ধরনের মাস্কে একই জায়গায় চাপ পড়ে দাগ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।     

৭। প্রতি ৪ ঘন্টায় একটি ১৫ মিনিটের মাস্ক বিরতি নিন

করোনভাইরাস মহামারীর সম্মুখভাগে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা মনে করেন এর ফলে তাদের ত্বক বাঁচাতে সহায়তা করে। হাত ধোয়ার পর নিরাপদ স্থানে মাস্ক খুলুন। আপনার মাস্ক খোলার নিরাপদ স্থানগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • বাইরে আপনি যখন লোক থেকে কমপক্ষে ছয় ফুট দূরে থাকতে পারেন
  • গাড়ীর ভিতরে আপনি একা থাকাকালীন 
  • আপনার ঘরে

৮। কাপড়ের মাস্ক ধুয়ে নিন

অনেক স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাই এখন আপনাকে প্রতিবার ব্যবহারের পরে কাপড়ের মাস্ক ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।মাস্কের অভ্যন্তরে জমে থাকা তেল এবং ত্বকের কোষগুলিও, যা ত্বকের সমস্যার হতে পারে তা ধোয়ার ফলে দুরীভূত হয়ে যায়।     

আপনি এটি ওয়াশিং মেশিনে বা হাতে ধুতে পারেন। উভয় উপায়েই জীবাণু এবং অন্যান্য কণা অপসারণ করা যায়। শুধু নিশ্চিত করুন: 

  • প্রতিটি মাস্ক ধোয়ার নির্দেশাবলী থাকলে তা অনুসরণ করুন। 
  • মাস্ক গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন (যদি গরম পানি ব্যবহারে অসুবিধার কথা উল্লেখ না থাকে) ।
  • সুগন্ধ মুক্ত, হাইপোলোর্জিক লন্ড্রি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা ভালো।

আপনার মাস্ক ধোয়ার পরে, এর আকৃতিটি পরীক্ষা করুন।যদি মাস্কটি সঠিক এবং আরামদায়কভাবে ফিট না হয় তবে এটি আপনার সুরক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ।

৯। চর্মরোগ থাকলে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুসরণ করুন 

আপনার যদি আগে থেকেই কোন চর্মরোগ থেকে থাকে তবে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যান। এছাড়া ঘরে আপনি যা করতে পারেন তা হল- 

  • ব্রণ: মাস্ক পরার পর আপনার মুখ ধুয়ে নিন, ধোয়ার পরে নন-কমডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। মাস্ক পরিধানের পর যদি নতুন করে ব্রণ, একনি এর সমস্যা মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায় তবে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। 
  • চামড়া ওঠা,দাগ, ত্বকের জ্বালাপোড়া : ঘুমানোর আগে আপনার মুখের ফাটা দাগগুলিতে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান।
  • আপনার কানের পিছনের ত্বকের ঘা: আপনার কাছে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। আপনি যদি পরিধানের মাস্কের ধরণ পরিবর্তন করতে পরেন তবে বিভিন্ন ধরণের বন্ধন এবং কানের লুপের কারণে  প্রতিদিন একই স্থানে চাপ বা ঘষালাগে না । প্রতিদিন বিভিন্ন ধরণের মাস্ক পরুন। 

যদি আপনাকে প্রতিদিন একই ধরণের মাস্ক পরার প্রয়োজন হয় তবে একটি বোতামযুক্ত বল ক্যাপ বা হেডব্যান্ডপরার চেষ্টা করুন যাতে আপনি বোতামগুলির চারপাশে কানের লুপগুলি আবৃত করতে পারেন।

মাস্ক পরা অব্যাহত রাখুন: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ঘরের বাইরে মাস্ক পরার কোন বিকল্প নেই। যথাসম্ভব ঘরে থাকুন। বাইরে গেলে অবশ্যই উপরের পরামর্শগুলো মেনে মাস্ক পরিধান করুন।

ত্বকের যেকোন সমস্যায় মায়ার এক্সপার্টদের পরামর্শ নিন। মায়া অ্যাপটি আজই ইন্সটল করুন।

তথ্যসূত্র,

এ এ ডি

Leave a Reply