কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়? এ থেকে মুক্তির উপায় কি? - মায়া

কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়? এ থেকে মুক্তির উপায় কি?

কোষ্ঠকাঠিন্য এমন একটি সমস্যা যার সাথে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত। যে কোন উৎসব আয়োজন কিংবা ভুড়িভোজের পর আমরা সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় বেশি পরিমাণে ভুগি। এছাড়াও, অনেকের এই সমস্যা থাকতে পারে।

“কোষ্ঠকাঠিন্য যন্ত্রণাদায়ক ও বিরক্তিকর সমস্যা। কোন ব্যাক্তি যখন সহজে মলত্যাগ করতে পারেন না এবং পায়খানা অনেক শক্ত হয়, নিয়মিত ঠিকভাবে হয় না তখন আমরা প্রাথমিকভাবে একে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে ধরে নেই। সঠিক খাদ্যাভাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অনুসরণে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে ঔষধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে।” 

এ বিষয়ে,  মায়ার মেডিক্যাল টিম লিড ডা.তানজিনা শারমিন এ কথা বলে।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের লক্ষণ

কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রধান লক্ষণগুলি হ’ল:

  • মল ত্যাগে অসুবিধা, নিয়মিত না হওয়া
  • স্বাভাবিকের চেয়ে কম মল ত্যাগ
  • মলত্যাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ও চাপ প্রয়োগ 
  • গুটি গুটি, শুকনো বা শক্ত মল

অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • পেটে ব্যথা এবং ক্র্যাম্পিং, মলদ্বারে ব্যাথা
  • পেট ফুলে যাওয়া অনুভূতি
  • বমি বমি ভাব
  • ক্ষুধা হ্রাস

কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের কারণ

কোষ্ঠকাঠিন্য হবার সাধারণ কিছু  কারণ হল- 

  • আঁশজাতীয় খাবার না খাওয়া 
  • শারিরীকভাবে পর্যাপ্ত কর্মক্ষম না থাকা 
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য দায়ী কিছু কিছু ওষুধ সেবন (যেমন নিয়মিত কিছু ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, আয়রন বা ক্যালসিয়াম বড়ি)
  • আই বি এস থাকলে 
  • খাদ্যাভাস ও জীবনযাত্রায় হঠাৎ পরিবর্তন 
  • ল্যাক্সাটিভের অতিরিক্ত ব্যবহার 
  • সঠিক সময়ে টয়লেটে না গিয়ে চেপে রাখা 
  • পর্যাপ্ত পানি পান না করা 
  • আই বি ডি, টিউমার, হার্নিয়া জাতীয় সমস্যা  থাকলে
  • অন্যান্য নানাবিধ শারিরীক জটিলতায় যেমন-  হরমোনের তারতম্য,পাকস্থলীর টিউমার ইত্যাদি থাকলে

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তির উপায়

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে করণীয় হল-  

পর্যাপ্ত আঁশজাতীয় খাবার খান

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন আঁশজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। টাটকা ফল এবং শাকসবজি পাশাপাশি ওটস জাতীয় খাবারে উচ্চমাত্রায় আঁশজাতীয় উপাদান রয়েছে। এছাড়া ইসবগুলের ভুসি, অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর মতো ঘরোয়া টোটকাও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধানে বেশ কাজে আসে। টক দইও হজমে সহায়ক ও পায়খানা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। 

পর্যাপ্ত পানি পান করুন 

পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা হয়না। ফলে, খাবার সহজে হজম হয় এবং পায়খানা স্বাভাবিক নরম থাকে। 

শরীরচর্চা করুন

নিয়মিত শরীর চর্চার ফলে শরীরবৃত্বীয় এবং বিপাকীয়  প্রক্রিয়াগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন হয় যা কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে সহায়তা করে।

দৈনিক রুটিন

প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

পায়খানা চেপে রাখা বন্ধ করুন

পায়খানা চেপে না রেখে যখন চাপ অনুভব করবেন তখনই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিন।

মানসিক চাপমুক্ত থাকুন

দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপনের চেষ্টা করুন।কারণ, মানসিক অশান্তি অনেক সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে।

সঠিক বসার ভঙ্গি

কেউ কেউ হাই কমোড আর আবার কেউ কেউ নিচু কমোডে বসে মলত্যাগ করতে আরামবোধ করেন। এক্ষেত্রে নিজের সুবিধাজনক পজিশনে বসুন।   

সঠিক খাদ্যাভাস ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করুন  

অস্বাস্থ্যকর খাবার যেমন- ফাস্টফুড, কোমলপানীয়, চিপস ইত্যাদি খেলে আপনার ওজনবৃদ্ধি পাবে। এসমস্ত খাবার আপনার হজমের ব্যাঘাত ঘটাবে। অপর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদিও আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। তাই, নিয়ন্ত্রিত জীবনের কোন বিকল্প নেই। 

কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন?

নিম্নোক্ত উপসর্গগুলো দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না-

  • মারাত্মক অস্বস্তি বা অবস্থার অবনতি হলে 
  • কোষ্ঠকাঠিন্য স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ শুরু হলে 
  • চলমান কোষ্ঠকাঠিন্য যা জীবনযাত্রার পরিবর্তন করেও ঠিক হয়নি 
  • মলের সাথে রক্ত ​​বা মলদ্বার থেকে রক্তপাত 
  • পেটে বা তলপেটে অবিরাম ব্যথা
  • গ্যাস বের করতে সমস্যা হলে  
  • জ্বর
  • বমি
  • অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস

এক্ষেত্রে, মায়া অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই ঘরে বসে ডাক্তারের প্রাথমিক পরামর্শ নিতে পারেন। 

সবশেষে বলব, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্যের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। যেকোন ধরনের রোগ মুক্তির জন্য একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি, আপনার বদভ্যাস গুলো ত্যাগ করে একটি নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন শুরু করুন। যেকোন শারিরীক ও মানসিক সমস্যায় মায়া অ্যাপের মাধ্যমে এক্সপার্টদের পরামর্শ নিন। 

Leave a Reply