ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে যেসব স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলবেন - মায়া

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে যেসব স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলবেন

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা সারাবিশ্বের মুসলিমদের অন্যতম একটি ধর্মীয় উৎসব। বাঙ্গালীর কাছে উৎসব মানেই ভুরিভোজ, আড্ডা আর ঘুরাঘুরি। এ বছর আড্ডা হবে অনলাইনে আর ঘুরাঘুরি টা আপাতত বন্ধই থাকবে।কিন্তু, খাওয়া দাওয়া তে কোন বাঁধা নেই। তাই, ঈদ-উল- আযহা তে ঘরোয়া আয়োজনে মাংসের আধিক্যতাও থাকবে। কলিজা ভুনা, কালা ভুনা, মাংসের কালিয়া, গ্রিল, মগজ ফ্রাই দেখলে ভোজন রসিকদের জিভে জল আসাটা খুবই স্বাভাবিক। ঈদ-উল-আযহায় বেশি মাংস খেয়ে অনেকেরই বদহজম, পেটেগ্যাস, ওজন বেড়ে যাওয়া সহ নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেন এবং মায়ার ডাক্তারের পরামর্শ নেন। তাই, আনন্দের পাশাপাশি নিজের সুস্থতার ব্যাপারে কোন অবহেলা করা কিন্তু চলবে না। আর, ঈদ-উল-আযহা কে সামনে রেখে কিছু বাড়তি স্বাস্থ্যসতর্কতা মাথায় রাখতে হবে।

ঈদ-উল-আযহা তে সুস্থ থাকতে বাড়তি স্বাস্থ্যসতর্কতা

করোনা থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। ঘরে বসে অনেকেরই ওজন বেড়ে গিয়েছে।  আর, ঈদ-উল-আযহা কে সামনে রেখে কিছু অন্যান্য বাড়তি স্বাস্থ্যসতর্কতাও মাথায় রাখতে হবে। মায়ার ডাক্তার তাহমিনার পরামর্শ মতে একজন সুস্থ সবল মানুষের নিম্নের পরামর্শগুলো মেনে চলা উচিৎ-  

ঈদ-উল-আযহা সকালটি সঠিকভাবে শুরু করুন

উৎসব বলেই অনেক বেশি খেয়ে ফেলবেন অথবা ব্যস্ততার অজুহাতে একেবারেই খাবেন না তা কিন্তু নয়। দিনের শুরুটি করুন স্বাস্থ্যসম্মত এবং কম ক্যালরির সকালের নাস্তা দিয়ে।  

অল্প পরিমাণে এবং সঠিক পদ্ধতিতে রান্না মাংস খান

সুস্বাদু বলেই কি বেশি খেতে হবে? না, একেবারেই না। বরং অল্প পরিমাণে সবধরনের খাবার চেখে দেখতে বারণ নেই। এতে, উৎসবের আমেজও থাকলো আবার, পেট পূর্তিও হল। মাংস ছোট ছোট টুকরা করে চর্বি বাদ দিয়ে পুরোপুরি সিদ্ধ করে রান্না করুন।চাইলে, সাথে বাধাকপি, পেপে কিংবা মাশরুম যোগ করতে পারেন। মাংসের ঝোল না খাওয়াই ভালো। অল্প অলিভ ওয়েল দিয়ে ওভেনে বেক করে সাথে সবজি যোগে একটি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত ডিশ তৈরী করে ফেলতে পারেন। অবশ্যই, সবজি ও সালাদ খাবেন। 

ব্যায়াম ও হাটাহাটি

অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরিয়ে ফেলতে প্রতিদিনের চেয়ে একটু বেশি ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন। 

হাইড্রেটেড খাকুন

ইদ-উল-আযহা মানেই খাওয়া শেষে একটু কোক না হলে কি চলে? হ্যাঁ কোক না হলেও চলে। যেহেতু, এবারের ঈদে খুব গরম পড়েছে তাই নিজেকে হাইড্রেটেড রাখার কোন বিকল্প নেই। বেশি বেশি পানি, চিনি চাড়া ফলের রস, লেবুর পানি, টক দইয়ের বোরহানি খেতে পারেন। খাওয়ার পর এক কাপ গ্রিন টি খেয়ে দেখুন কোকের অভাববোধ টা দূর হয়ে যাবে। 

বিরতি নিন ও সঠিক সময়ে খান  

প্রতিবার আহারের পর অন্তত ৬ ঘন্টা বিরতি নিন। এতে, খাবার হজম হতে সময় পাবে। আর হ্যাঁ, সঠিক সময়ে খাবার খান। অনেকেই, সকাল থেকে না খেয়ে থাকেন। দুপুরে পোলাও, বিরিয়ানীর ঘ্রাণে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে একবারে অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন যা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।  

ঈদ-উল-আযহা তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

করোনা পরিস্থিতিতে ঈদ উৎসব আগের মত করে পালন করা যাবে না। সুস্থ ও নরাপদ থাকতে করোনা প্রতিরোধক স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলুন। নিজের, পরিবারের এবং আপনার চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং ভাইরাস ও ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া মুক্ত রাখুন। 

সবশেষে, ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ঈদ-উল-আযহায়  আপনার চারপাশের মানুষগুলোর খোঁজ নিন ও পাশে দাঁড়ান। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সাথে অনলাইনে যোগাযোগ রাখুন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোন পরামর্শের জন্য মায়া অ্যাপ থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।   

Leave a Reply