মুড সুইং: মহামারীর সময়ে মেজাজের পরিবর্তন সামলাবেন কিভাবে? - মায়া

মুড সুইং: মহামারীর সময়ে মেজাজের পরিবর্তন সামলাবেন কিভাবে?

মুড সুইং এর মত আবেগীয় তাড়নায় অনেকেই ভুগছেন মহামারী চলাকালীন সময়ে।মুড সুইং সামলিয়ে নিজের কাজে কিভাবে মনযোগী হবেন সে বিষয়ে জানতে বিস্তারিত পড়ুন।

আপনি কি ইদানীং খুব জলদি রেগে যান? অথবা হঠাৎ হঠাৎ খুব কান্না পায়? কিংবা মাঝেমাঝে ভয় এসে গ্রাস করে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে আসছে?এসবই মুড সুইং এর প্রভাব। সময়টা এখন স্বাভাবিক না তবে এ সময় যে অনুভূতিগুলো হচ্ছে তা স্বাভাবিক। আমরা সবাই কম/বেশি এ আবেগ বা অনুভুতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। 

আমাদের প্রতিদিনের ব্যস্তজীবনটা হঠাৎ করে পুরো বদলে গিয়েছে। আমরা থমকে গিয়েছি। আর এ জীবনটার সাথে মানিয়ে নেওয়ার কিংবা প্রস্তুতি নেওয়ার মত সময় আমরা কেউ পায় নি। এজন্য, মুড সুইং ব্যাপারটা খুব বেশি অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে তবে এ বিষয়ে মায়ার বিশেষজ্ঞের মতামত জেনে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর কৌশল অনুশীলন করলে আমরা নিজেদের মুডকে নিয়ন্ত্রণ করে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারব। 

কিভাবে অন্য ব্যক্তি আমাদের মুড সুইং এ প্রভাব ফেলে

মুড সুইং বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে অনেকের জন্য স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তবে, যারা আগে থেকেই 

ডিপ্রেশন, পারসোনালিটি ডিজর্ডার, বাইপোলার, পিটি এস ডি, ইত্যাদি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন তাদের অভিজ্ঞতা অন্যদের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে। 

আইসোলেশন থাকাবস্থায় আগে থেকে যারা ট্রমায় ভুগছিলেন তাদের নিজেকে বন্দী মনে হতে পারে। 

এমনটি হলে, আপনি যা করতে পারেন-

  • নিজের ভালো লাগার বা মানসিক প্রশান্তিদায়ক কাজগুলো করুন। 
  • উষ্ণ গরম পানিতে গোসল করতে পারেন। 
  • শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। 
  • হালকা প্রিয় কোন সৌরভ ব্যবহার  করতে পারেন। 
  • মায়াতে মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

মুড সুইং সামলানোর উপায়

মুড সুইং বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকের জন্য স্বাভাবিক হলেও জীবনযাত্রার কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন এনে আপনি সামলে উঠতে পারেন- 

  • এড়িয়ে চলুন: আইসোলেশন এ থাকাবস্থায় আপনি আপনার স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি হারাতে পারেন। যেসব বিষয় আগে তেমন একটা গুরুত্বপুর্ণ মনে হয় নি হঠাৎ করে তা খুব বেশি গুরুত্বপুর্ণ মনে হতে পারে। হয়ত বিষয়টি আদৌ গুরুত্বপুর্ণ নয় কিন্তু আপনাকে মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করতে পারে। এক্ষেত্রে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিছুক্ষণ পর দেখবেন বিষয়টি আগের মত আর চাপ সৃষ্টি করছে না।
  • মুড সুইং সামলাতে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো চর্চা করুন : স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে আপনি শারিরিকভাবে সুস্থ থাকবেন যা, মানসিকভাবে আপনাকে শক্তি যোগাবে। আপনার প্রতিদিনের পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। নিয়মিত ব্যায়াম, মেডিটেশন করুন। যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যস্মমত খাবার খান। ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন। আপনার যদি কোন রোগের জন্য ঔষধ সেবন করতে হয় তবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ সেবন করুন। 
  • ডায়রি লিখুন: নিজের মানসিক দোটানাগুলো কিংবা অনুভুতিগুলো ডায়রিতে লিখে রাখুন। এটি মনকে হালকা করতে সহায়তা করে। নিজের আবেগগুলোকে ২ ভাগে ভাগ করুন। একভাগে রাখুন সেইসব অনুভুতি বা আবেগগুলো যা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। সেগুলোর দিকে ফোকাস করুন। অন্যভাগে, রাখুন আপনার অনিয়ন্ত্রিত আবেগগুলো যা নিয়ন্ত্রণে এক্সপার্টের শরণাপন্ন হন। 
  • দয়ালু হন: নিজের ও অন্যের প্রতি দয়াশীল হন। অন্যকে সাহায্য করলে মনে প্রশান্তি আসে। নিজের এলাকায় কোন ভলান্টিয়ারি কাজে অংশগ্রহণ করতে পারেন। 
  • আশানিত্ব থাকুন : কখনও আশাহত হবেন না।  তবে, আগের মত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জন্য খুব বেশি জোর দিলে আপনার নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাঘাত ঘটবে। প্রতিদিন আপনার যা কিছু ভালো তা নিয়ে ভাবুন। নিজের ভালো অবস্থার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। বর্তমানে ভালো থাকার চেষ্টা করা তাহলে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা সহজ হয়ে আসবে।

সবশেষে বলব, বর্তমান অচলাবস্থা সারাজীবন থাকবে না। এর শেষ আছে শীঘ্রই। তাই, আশাহত হবেন না। আগামী দিনগুলো কিভাবে উপভোগ করবেন সে নিয়ে না হয় পরিকল্পনা আর প্রস্তুতি নিতে থাকুন। যে কোন মানসিক সমস্যায় মায়াতে প্রশ্ন করুন, সুস্থ থাকুন।

Leave a Reply