চাকুরিজীবী নারী গর্ভাবস্থায় অফিসে যেসব বাড়তি সতর্কতা মেনে চলবেন - মায়া

চাকুরিজীবী নারী গর্ভাবস্থায় অফিসে যেসব বাড়তি সতর্কতা মেনে চলবেন

চাকুরিজীবী নারীর জন্য গর্ভাবস্থা আমাদের সমাজে একটি বাড়তি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু, গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এবং গর্বের একটি অধ্যায়। গর্ভকালীন জটিলতা না থাকলে একজন চাকুরিজীবী নারী গর্ভাবস্থায়ও ৬ মাস পর্যন্ত অনায়াসে অফিস করতে পারেন। তবে, এসময়ে চাকুরিজীবী নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। একজন গর্ভবতী হিসেবে আপনাকে আপনার সার্বিক জীবনযাত্রা, কর্মজীবন ইত্যাদি পরিবর্তন সংক্রান্ত অনেক  জটিল সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

মায়ার ডাক্তার তাহমিনার মতে, “ পরিস্থিতি যেমনই হোক গর্ভাবস্থা সময়টি উপভোগ করুন। সময়কাল খুব ছোট না হলেও নিজেকে দুশ্চিন্তা ও হতাশামুক্ত রাখুন। নতুন সদস্যকে স্বাগত জানানোর জন্য নিজেকে এবং আপনার পরিবারকে প্রস্তুত করুন।অফিসে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।” 

চাকুরিজীবী নারী ওগর্ভাবস্থায় বাড়তি সতর্কতা

একজন চাকুরিজীবী নারী হিসেবে আপনার কর্ম পরিবেশে বাড়তি সতর্কত থাকুন। পাশাপাশি আপনার কাজগুলো যথাসম্ভব গুছিয়ে করেন। এক্ষেত্রে, নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মাথায় রাখুন- 

খাবার এবং পানি সাথে রাখুন

  • চাকুরিজীবী নারী কাজে যাওয়ার সময়, খাবার এবং পানি সাথে রাখুন। গর্ভাবস্থায় ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া উত্তম। এটি হজমের সংক্রমণ এবং অন্যান্য অসুস্থতা দূরে রাখবে।

বিরতি নিন

  • কাজের ফাঁকে ফাঁকে হালকা বিরতি নিন। হালকা একটু হাঁটাচলা, কিংবা সহকর্মীদের সাথে হালকা আলাপ আলোচনা করতে পারেন। 

ব্যায়াম

  • কাজের ফাঁকে ফাঁকে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন এবং সতর্কতার সহিত চলাফেরা করুন। 

সঠিক ভঙ্গিতে বসা

  • চাকুরিজীবী নারী সঠিক ভঙ্গিতে বসার চেষ্টা করুন। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাঝেমাঝে পায়ে পানি আসতে পারে। সেক্ষেত্রে পায়ের নিচে একটি  টুল দিয়ে রাখুন। 

ভারী শারিরীক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুন

  • ভারী শারিরীক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। সিড়ির পরিবর্তে লিফট ব্যবহার করুন। এবং ক্লান্তি এড়াতে শক্তি সঞ্চয় করে রাখুন। 

অন্যান্য সতর্কতা

  • ধূমপান এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। 
  • যাতায়াতের সময় রাস্তার ঝাঁকি এড়িয়ে চলুন। রাস্তার গর্ত, এবড়ো থেবড় অংশের ঝাঁকুনি আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। 
  • প্রচুর পানি এবং ফলের রস খান। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে বমি বমি ভাব কম হবে এবং শরীরে যন্ত্রণাদায়ক ব্যাথা হওয়ার আশংকা কমে যাবে। 
  • কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়ে গর্ভবতীদের আরও বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ঘরের বাইরে যাওয়া নিরাপদ নয়। এ সময় অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। 
  • বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিন এবং রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। 
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন, আয়রন সাপ্লিমেন্টগুলো নিয়মিত গ্রহণ করুন।  

গর্ভাবস্থায় চাকুরিজীবী নারীর যদি শারিরীক কোন জটিলতা না থাকে তবে এসময় স্বাভাবিক কাজকর্ম ও চলাফেরা করা আপনার চাকরি এবং নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্য উত্তম। বরং, একদম ঘরে বসে থেকেই আপনি মানসিক ভাবে হতাশ হয়ে যাবেন। 

আমাদের কর্মপরিবেশ অনেকক্ষেত্রে নারীবান্ধব না হলেও আপনার সর্বোচচ চেষ্টাটা করুন পরিবেশকে অনুকূলে আনার। কারণ, একজন চাকুরিজীবি নারী, একজন মা, একজন স্ত্রী, একজন সন্তান হিসেবে ভুমিকাপালন করা সহজ না হলেও নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। মায়া এ যাত্রায় আপনার পাশে রয়েছে। যেকোন পরামর্শের জন্য আমাদের প্রশ্ন করুন নির্দ্বিধায় অথবা গর্ভকালীন সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজ কিনে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

সবশেষে বলব, গর্ভাবস্থা ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। আপনার শারিরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অফিস যাওয়া আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। চাকরি একজন চাকুরিজীবী নারীর আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান দঢ় করে।

Leave a Reply