খাদ্যদ্রব্য রেফ্রিজারেটরে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও ফ্রেশ রাখার উপায় - মায়া

খাদ্যদ্রব্য রেফ্রিজারেটরে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও ফ্রেশ রাখার উপায়

রেফ্রিজারেটরে খাদ্যদ্রব্য সঠিক উপায়ে সংরক্ষণের অভাবে প্রায়ই আমাদের খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যায়। আবার এসব পচা, বাসি খাবার খেয়ে বদহজম, পেটে গ্যাস, বুক জ্বালাপোড়া, ডায়রিয়াসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। ব্যস্ততম কাজের শিডিউলে প্রতিদিন বাজারে গিয়ে টাটকা খাদ্যদ্রব্য কেনা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহামারীর কারণে আমরা এখন বারবার বাজারে না গিয়ে একবারে বেশি বাজার করে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করে রাখছি। আবার, অনেক পরিবারেই এখন নারী পুরুষ উভয়ই চাকুরীজীবী হওয়ায় সপ্তাহে একদিনের বেশি বাজারে যাবার মত সময় হয়ে ওঠে না। সুতরাং, রেফ্রিজারেটরে খাদ্যদ্রব্য সঠিক উপায়ে সংরক্ষণের কোন বিকল্প নেই কারণ খাদ্যদ্রব্য নষ্ট করা মোটেও উচিৎ নয়। রেফ্রিজারেটরে খাদ্যদব্য সংরক্ষণের সঠিক উপায়গুলো জানতে বিস্তারিত পড়তে থাকুন – 

   রান্না করা অতিরিক্ত খাবার সংরক্ষণ   

খাবার খাওয়া শেষে যে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য অবশিষ্ট থাকে সেসব খাবার কিংবা অনেকেই সময় বাঁচানোর জন্য একদিনে বেশি করে রেঁধে পরে খাওয়ার জন্য রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করেন তারা এই টিপসগুলো অনুসরণ করতে পারেন-   

  • অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য পরিষ্কার বায়ুরোধী কন্টেইনার বা বাটিতে ভরে রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করুন। অথবা ঘরে থাকা বাটির মুখটি স্ট্রেস র‍্যাপ বা রাবারের র‍্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখুন যেন বায়ু চলাচল করতে না পারে। এতে, খাবারটি বেশিদিন ফ্রেশ থাকবে এবং স্বাদ ও গন্ধ অটুট থাকবে। 
  • আগে সংরক্ষিত খাদ্যদ্রব্য আগে খেয়ে ফেলুন।
  • রান্না করার ২ ঘণ্টার মধ্যে খাবারটি ফ্রিজে রেখে দিন। 
  • একবাটিতে অনেকটা খাবার না রেখে ছোট ছোট সমান বাটিতে ভরে রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করুন। এতে, খাবার তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা হবে এবং রান্নার পর থেকে ফ্রিজে ঢোকানোর আগে পর্যন্ত কোন ব্যাক্টেরিয়া যদি খাবারে থেকে থাকে তবে তা জার্মিনেট করতে পারবে না। 
  • ক্যান জাতীয় পানীয়ের বোতলের মুখ খোলার পর তা আর রেফ্রিজারেটরে না রাখাই ভালো। এতে করে ঐ পানীয়ের স্বাদ ও গন্ধের পরিবর্তন হতে পারে। 

মাছ, মাংস ও পোল্ট্রি আইটেম 

  • মাছ, মাংস, পোল্ট্রি আইটেম গুলো অন্যান্য খাবার থেকে আলাদা এবং ফ্রিজের সবচেয়ে ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন। 
  • বাজার থেকে আনার সাথে সাথে ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ শুরুর আগেই যত দ্রুত সম্ভব ফ্রিজে রাখুন। সম্ভব হলে জিপ লক ব্যাগে রাখুন। 
  • ডিম ফ্রিজের দরজায় না রেখে বক্সে ভরে রেফ্রিজারেটরের ভিতর রাখুন যেখানে তাপমাত্রা স্থির থাকে।

দুগ্ধজাতীয় খাদ্যদ্রব্য 

  • দুধ  বা দুগ্ধজাতীয় কোন খাদ্যদ্রব্যের পুরাতন বোতল গুলো সামনের দিকে রাখুন এবং আগের বোতল আগে শেষ করুন। 
  • সম্ভব হলে দুধ, চিজ, টক দই যে প্যাকেটে নিয়ে আসেন সে প্যাকেটেই সংরক্ষণ করতে। কোন কারণে বাটিতে ঢেলে ফেললে পুনরায় আগের প্যাকেটে না রেখে খাওয়া শেষে প্লাস্টিক র‍্যাপ দিয়ে ঢেকে বায়ুরোধী করে দ্রুত ফ্রিজে রেখে দিন। 
  • শক্ত চিজ খোলার আগ পর্যন্ত কিনে আনা প্যাকেজিং এ সংরক্ষণ করুন। খোলার পর ওয়াক্স পেপার, ফয়েল পেপার অথবা প্লাস্টিক র‍্যাপ দিয়ে মুড়িয়ে সংরক্ষণ করুন। 
  • দুধ কখনও ফ্রিজের দরজার ভিতরের বক্সে রাখবেন না। কারণ, এটি ফ্রিজের সবচেয়ে গরম স্থান। এখানে  মসলা জাতীয় ছোটখাট জিনিস গুছিয়ে রাখতে পারেন। 

শাকসবজি ও ফলমূল 

  • শাকসবজি ও ফলমূল আলাদা আলাদা জায়গায় রাখুন।এক জাতীয় ফল বা সবজি একসাথে রাখুন। অন্য ফল বা সবজি থেকে নিঃসৃত গ্যাসে অন্যান্য ফল বা সবজির ক্ষতি হতে পারে। 
  • ফ্রিজে রাখলে যেসব শাক বা সবজি শুকিয়ে যায় সেগুলো, একটি মুখ খোলা প্লাস্টিক ব্যাগে সংরক্ষণ করুন। এতে, বায়ু চলাচল থাকবে ফলে সবজি পচবে না আবার ব্যাগে থাকার কারণে এর আর্দ্রতা বজায় থাকবে। 
  • শাকসবজি ধুয়ে ফ্রিজে রাখলে এতে থাকা আর্দ্রতার কারণে শাক সবজি তাড়াতাড়ি পচে যেতে পারে। যেহেতু করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকেই সবজি ধুয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করছেন সেহেতু, খাদ্যদ্রব্য গুলো খুব ভালভাবে টিস্যু দিয়ে মুছে এবং বোটাছাড়িয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, আপনার ফ্রিজের বিভিন্ন চেম্বারের সঠিক তাপমাত্রা সেটিং করুন যেমন- রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা ৪০ ° ফা বা তার নিচে এবং ফ্রিজারের তাপমাত্রা ০ ° ফা বা তার নীচে আছে নাকি তা নিশ্চিত করুন। ফ্রিজ নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

সুস্থ থাকতে নিরাপদ খাদ্যের কোন বিকল্প নেই। সুস্থ থাকার জন্য এবং দৈনন্দিন কাজগুলো সহজ উপায়ে গুছিয়ে করার জন্য মায়ার এক্সপার্টদের পরামর্শ নিন। আপনার ব্যস্ত জীবনটাকে সহজ করে তুলতে মায়া আপনার পাশে আছে সবসময়। মায়া অ্যাপ ইন্সটল করুন, জীবনটা সহজ করুন।

Leave a Reply