কর্মজীবী নারী এবং কাজে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কিছু জীবনমুখী কৌশল - মায়া

কর্মজীবী নারী এবং কাজে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কিছু জীবনমুখী কৌশল

কর্মজীবী নারী বিশেষ করে মায়েদের সবদিকে উৎপাদনশীলতা ঠিক রেখে সামনে অগ্রসর হওয়া অনেক কষ্টসাধ্য বিষয়। অনেক সময় তারা সারাদিন ব্যস্ত থেকে অনেক কাজ করেন কিন্তু দিন শেষে ফলাফল পান না। অনেক কর্মজীবী নারী সারাদিনের কর্মব্যস্ততা, অক্লান্ত পরিশ্রম স্বত্বেও দিনশেষে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে কাজের কোন দৃশ্যমান অগ্রসরতা দেখাতে পারেন না। ফলে, কাজের সঠিক মূল্যায়ন হয় না এবং তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। আমরা মায়ার প্লাটফর্মে কর্মজীবী নারীদের সমস্যা সংক্রান্ত নানাবিধ প্রশ্ন পেয়ে থাকি। একটু বিচক্ষণতার সাথে কাজ করলে আপনিও সুন্দরভাবে আপনার কাজগুলো শেষ করে সফল হতে পারেন। চলুন জেনে নেই এমন ১০টি জীবনমুখী টিপস-

১। এক সপ্তাহ আগে কর্মপরিকল্পনা

কর্মজীবী নারী সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাবে একসাথে অনেকগুলো কাজ একবারে হাতে নিয়ে প্রায়ই হাবুডুবু খান। এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে চেষ্টা করুন, অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে আপনার সমস্ত কাজের একটি লিস্ট তৈরী করতে। লিস্ট অনুযায়ী কর্মবন্টনের পরিকল্পনা তৈরী করে রাখুন। এক্ষেত্রে, আপনি ট্রেলো এর মত কোন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টুলের সাহায্য নিতে পারেন। এতে করে, শেষমুহুর্তে কাজের সময় হুড়োহুড়ি পড়বে না এবং আপনি, আগে থেকেই কাজটির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারবেন। 

২। সকালে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন

কর্মজীবী নারীদের জন্য ভোরবেলা সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভোরবেলার নিস্তব্ধ সময়টা যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে তখন একটু হালকা শরীর চর্চা, প্রার্থনার মত প্রশান্তিদায়ক কাজ দিয়ে দিনটি শুরু করতে পারেন। এতে, কাজ করার স্পৃহা যেমন বেড়ে যাবে তেমনি, নিরিবিলি কাজ করার মত সময় ও কিছুটা বেশি পাওয়া যাবে। আপনি যদি এতে অভ্যস্থ না হয়ে থাকেন তবে, প্রতিদিনের তুলনায় কিছুটা আগে উঠার চেষ্টা করুন। 

৩। কর্মজীবী নারী ও ব্যায়াম  

উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য প্রতিটি কর্মজীবী নারী নিজের জন্য কিছু সময় বের করে ব্যায়াম করা উচিৎ। ব্যায়াম আপনাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে ফিট থাকতে সহায়তা করবে। আপনি নিজে শরীরিক ও মানসিক ভাবে যত ফিট হবেন আপনার কর্মস্পৃহা তত বেশি থাকবে। তাই, প্রতিদিন অন্তত ১৫- ২০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

৪। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করুন

কর্মজীবী নারীরা করণীয় কাজের লিস্ট থেকে কোন কাজের গুরুত্ব বেশি সে বিষয়ে আপনার ম্যানেজারের কাছ থেকে জেনে নিন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করুন। এর মানে এই নয় যে আপনি অন্য কাজগুলো করবেন না। বরং, একবারে সবকাজ করতে গিয়ে হাবুডুবু না খেয়ে যখন যে কাজটি করবেন তা মনযোগ দিয়ে করুন।

৫। প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করুন

কাজ করার সময় আশেপাশের পরিবেশ এবং এর সাথে জড়িত প্রতিবন্ধকতা গুলো দূর করা খুব জরুরী। এই যেমন ধরুন আপনার হাতের কাছে থাকা স্মার্টফোনটি। কাজের ফাঁকে হঠাৎ কোন অ্যাপের নোটিফিকেশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আপনার কাজের মনযোগ এবং কর্মঘণ্টা দুটোই নষ্ট করতে পারে। তাই, কাজের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচরণ এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।

৬। ক্যালেন্ডার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন

নিজে ক্যালেন্ডারের নিয়ন্ত্রণে না গিয়ে বরং, ক্যালেন্ডারকে নিয়ন্ত্রণ করুন আপনার হিসেবে। অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময়গুলো শুধুমাত্র ঐ কাজের জন্য নির্ধারিত রাখুন। অপ্রয়োজনীয় মিটিং বিচক্ষণতার সাথে এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজনীয় মিটিং এ সরবে উপস্থিত থাকুন। 

৭। মিটিং সীমিত করুন

মিটিং জরুরী কর্ম ঘণ্টার অনেকটা সময় নষ্ট করে। তবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মিটিং এ উপস্থিত থাকাটাও জরুরী। তাই, মিটিং এর পূর্বে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে এবং আপনার ভুমিকা সম্পর্কে জানুন। আপনার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে গুরুত্ব বুঝে মিটিং এ অংশগ্রহণ করুন। অপ্রয়োজনীয় গুলো এড়িয়ে চলুন। দীর্ঘায়িত মিটিং আপনার প্রয়োজন অনুসারে উপস্থিত হন এবং প্রয়োজন শেষে অনুমতি নিয়ে বের হয়ে আসতে পারেন। 

৮। বাধাগুলোকে সীমাবদ্ধ করুন 

বাধাহীন কাজের পরিবেশ পাওয়া একেবারে অসম্ভব। কাজ করতে গিয়ে নানারুপ বাধা আসবে। নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করতে আপনার টিমের সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনাকে রিপোর্ট করতে কিংবা প্রয়োজনীয় আলোচনা গুলো করতে বলুন। সম্ভব হলে, আপনার বসের সাথে কোন বিষয়ে আলোচনা থাকলে কিংবা, রিপোর্টিং থাকলে তার সাথে আলাপ করে সময় জেনে নিন ও নির্দিষ্ট সময়েই আলোচনা সেরে ফেলুন।

৯। প্রতিনিধি নিয়োগ করুন 

কর্মজীবী নারী মাত্রই সবকিছু করতে পারবেন এমনটা নাও হতে পারে। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে, একজন ব্যক্তির পক্ষে সববিষয়ে পারদর্শী হওয়া সম্ভব নয়। আপনি যে কাজে ভালো বা আপনার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত কাজগুলো অফিস বরাদ্দকৃত  সময়ে সঠিকভাবে করুন। অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোতে অন্য প্রতিনিধির সাহায্য নিতে পারেন।  

১০। বিরতি নিন

উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর  অর্থ নিরবচ্ছিন্ন এবং অবিরাম কাজ করা নয়।কর্মজীবী নারী হলেও বিরতি নেওয়ার অধিকার কিন্তু আপনার আছে। বরং, সর্বাধিক উৎপাদনশীলতা পেতে মাঝে মাঝে বিরতি নেন। কর্মজীবি নারীরা অনেক সময়ই  বিরতি নিতে ভুলে যান। প্রয়োজনে, রমাইন্ডার দিয়ে হলেও নিজের জন্য কিছুটা সময় বিরতি নিন।

বর্তমানে, অনেকে কর্মজীবী নারী ঘরে বসে অফিসের কাজ করছেন। এক্ষেত্রে, তাদের কাজের পরিধি আরও বেড়ে গিয়েছে। সবকিছু ভালভাবে ম্যানেজ করতে মায়ার লাইফস্টাইল এক্সপার্টের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। 

ব্যস্ততা আমাকে দেয় না অবসর,

তাই বলে ভেব না আমায় স্বার্থপর 

গানটির মত জীবনটাকে লাগামহীন ব্যস্ততার কাঁধে না চাপিয়ে নিজের জন্য কিছুটা স্বার্থপর হন। বিচক্ষণতা দিয়ে কাজ করে নিজের ও পরিবারের জন্য কিছুটা অবসর বের করে নিতে ভুলবেন না।

Leave a Reply