ওজন কমানোর ১১টি ডায়েট টিপস অনুসরণ করে তফাৎ দেখুন - মায়া

ওজন কমানোর ১১টি ডায়েট টিপস অনুসরণ করে তফাৎ দেখুন

ওজন বেড়ে যাওয়া নতুন কোন সমস্যা না। তবে, কোয়ারেন্টিনে থাকতে যেয়ে ওজনের ঘোড়াটাকে লাগাম পরাতে সবারই খুব বেগ পেতে হচ্ছে।কোয়ারেন্টিনে ঘরে বসে অনেকেরই ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে। চলাফেরা ঘরের চার দেয়ালে বন্দি হয়ে গিয়েছে এবং ঘরে বসে প্রায়ই এটা সেটা মুখরোচক খাবার, ঘন ঘন চা, কফি খেয়ে আমরা মনটাকে প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা করছি। ওদিকে পাল্লা দিয়ে পেটের মেদ এবং ওজনও আকাশ ছুই ছুই করছে।আবার, ওজন কে বর্তমান অবস্থায় ধরে রাখাটাও কম চ্যালেঞ্জিং নয়। সুস্থ থাকতে সঠিক ওজন ধরে রাখা এবং অতিরিক্ত ওজন কমানোর কোন বিকল্প নেই।মায়ার প্লাটফর্মে ওজন নিয়ে আমরা নানা প্রশ্ন পেয়ে থাকি। 

“মায়া’র পুষ্টিবিদ মনীরা আক্তার এর মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজটি খুব ছোট  ছোট অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি শুরু করতে পারেন। তার পরামর্শে ১১ টি ডায়েট টিপস বিস্তারিত পড়ে জেনে নিন এবং অনুসরণ করে পার্থক্যটা নিজেই যাচাই করুন- 

ব্যালেন্সড ডায়েটের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর থাকুন:

খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় সকল ম্যাক্রো ও মাইক্রোনিউট্রিইয়েন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করুন।ভাল ফ্যাট, প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য জ্রুরী। কোন উপাদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে না জেনে খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিবেন না।ক্যালরি মেপে খাবার খান। এক্ষেত্রে, ব্যালেন্সড ডায়েট এবং আপনার প্রয়োজনীয় ক্যালরি সম্পর্কে  মায়াতে প্রশ্ন করে জেনে নিতে পারেন। 

রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট ও চিনি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন:

কোনটি ভালো মানের কার্বোহাইড্রেট এবং কোনটি খারাপ সে সম্পর্কে ধারণা থাকা খুব জরুরী। সাদা আটার রুটি, পাউরুটি অথবা মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন- মিষ্টি বিস্কুট, কেক, ডোনাট, ফাস্টফুড ইত্যাদি আপনার ওজন বৃদ্ধিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। রিফাইন ছাড়া জটিল কার্বস এবং আঁশজাতীয় খাবার গুলো হজম হতে সময় লাগে, দীর্ঘক্ষণ আপনার পেট ভরা রাখতে এবং আপনার বারবার খাওয়ার ইচ্ছে কে নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে ওজন কমাতে সাহায্য করে। 

হাইড্রেটেড থাকুন:

ওজন কমানো এবং নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য হাইড্রেটেড থাকাটা খুব জরুরী। বারবার পানি পান করলে ক্ষুধা কম লাগা, স্ন্যাকস জাতীয় খাবার স্নাকস খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাওয়া সহ আপনার হজমে সহায়তা করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এর ফলে আপনার কিডনী, ত্বক ও চুলও  ভালো থাকে। বারবার পানি খেতে ভালো না লাগলে মাঝে মাঝে চিনিছাড়া হারবাল বা গ্রিন টি খেতে পারেন। তবে সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পানের কোন বিকল্প নেই।

প্রচুর মৌসুমি ফল ও শাকসবজি খান:

প্রতিদিন অন্তত ২-৩ ধরনের মৌসুমি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মৌসুমি ফল ও শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে  এন্টি অক্সিডেন্ট ও ফাইবার যা আপনাকে সুস্থ রাখতে এবং ওজন কমাতে সহায়তা করবে। 

বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার খান:

প্রতিদিন বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার অল্প পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখুন। কারন এতে প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিনস এবং মিনারেলস রয়েছে। যেমন- চীনাবাদাম, কাঠবাদাম, চিয়া সিড, ফ্লেক্স সিড, মিষ্টি কুমড়ার বিচি, কাঠালের বিচি ইত্যাদি।

অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কমিয়ে দিন:

 অতিরিক্ত লবণ খাওয়া শরীরে পানি ধরে রাখে যা ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাই, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পরিমাণের বেশি লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 

একবারে বেশি না খেয়ে অল্প পরিমাণে বার বার খান:

 প্রতিবেলায় একবারে অনেকটা খাবার না খেয়ে বার বার অল্প পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে আপনার ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা নির্ণয়ে এবং বিপাকীয় শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা হবে।  

প্রসেসড, রেডি  টু ইট এবং ক্যানড খাবার এড়িয়ে চলুন:

এ জতীয় খাবারে পুষ্টিগুণ অটুট থাকে কিনা তাতে সন্দেহ রয়েছে। অধিকাংশ খাবারই অতিরিক্ত মাত্রায় ফ্যাট, প্রিজারবেটিভ এবং লবণ যুক্ত থাকে যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। 

পরিপূর্ণ তৃপ্তিদায়ক সকালের নাস্তা:

কোয়ারেন্টিনে অনেকেই রাত জাগেন এবং সকালে বের হবার তাড়া না থাক্যয় বেলা করে ঘুম খুব থেকে উঠছেন আর নাস্তাটাও ঠিকঠাক ভাবে করছেন না। কিন্তু, এটি মোটেও করবেন না। কারণ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকালের নাস্তা একটি পুষ্টিকর ও ভরপুর নাস্তা আপনাকে দুপুর পর্যন্ত শক্তি যোগাবে এবং মাঝে কোন স্ন্যাকস স্নাক্স খাবার আকাংক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি আপনার বিপাকীয় শক্তিকেও উন্নত করবে। 

সকালের শুরুতে পানি উষ্ণ গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস পান:

সকালে খালিপেটে এক গ্লাস এই পানীয় পান আপনাকে দিনের শুরুতে পুনরুজ্জীবিত করতে, শরীরের টক্সিন বের করে দিতে এবং বিপাকীয় শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

ঘুমানোর অন্তত ২ ঘন্টা আগে রাতের খাওয়া শেষ করুন:

ঘুমানোর অন্তত ২ ঘন্টা আগে যদি রাতের খাওয়া শেষ করেন তবে তা খাবার হজমে সহায়ক। ভালো হজম ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

ঘরে বসে অনেক তো ওজন বাড়ালেন, তাই এখনই সময় নিজেকে নিজে চ্যালেঞ্জ করুন।ভালো অভ্যাসগুলো অনুশীলন করুন। মায়া থেকে সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজ কিনে  দ্রুত অভিজ্ঞ  ডায়েটিশিয়ান এর পরামর্শ নিতে পারেন। দেরি না করে শুরু করে দিন নিজেকে বদলানোর এই যাত্রা। আপনার সুস্বাস্থ্য রক্ষায় মায়া সর্বদা আপনার পাশে রয়েছে।          

Leave a Reply