কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন একজন গর্ভবতী ও প্রসুতি মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন - মায়া

কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন একজন গর্ভবতী ও প্রসুতি মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন

কোভিড -১৯ মহামারীর কারণে পৃথিবী জুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন পরি-লক্ষিত হচ্ছে। অন্যান্য রোগীদের ন্যায় গর্ভবতী নারীরাও নানাভাবে মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।মানসিক চাপ এবং হতাশার ফলে গর্ভবতীর খুব মন খারাপ থাকা, হাত পা ঘেমে যাওয়া, হঠাৎ করে হার্টবিট বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি নানা শারিরীক পরিবর্তনও দেখা যায়। এ সময় শারিরীক নানা পরিবর্তনের পাশাপাশি হরমোনাল নানা পরিবর্তনে গর্ভবতী নারীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। যদিও এ সময় মানসিক চাপ ভুলে হাসি খুশি থাকাটা খুব জরুরী।  

মানসিক চাপ কমানোর কিছু টিপস এবং কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন    

গর্ভাবস্থা নিঃসন্দেহে একটি উত্তেজনাপূর্ণ সময় , তবে এটি অনিশ্চয়তায় ভরপুর। কোভিড -১৯ মহামারীটি স্বাভাবিকভাবেই আরও মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে এবং কিছু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করতে পারে।

গর্ভাবস্থায়, উচ্চ মানসিক চাপের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • খাদ্যাভ্যাস ও ক্ষুধার অভ্যাসের পরিবর্তন
  • গর্ভাবস্থা এবং প্রসব সম্পর্কে ঘন ঘন ভীতি এবং উদ্বেগের অনুভূতি
  • ঘুমের সমস্যা 
  • মনোযোগ কেন্দ্রীকরণে সমস্যা

এ সময় মানসিক সমস্যা গুলো নিম্নোক্ত উপায়ে প্রভাব ফেলতে পারে- 

  • আবেগ- ভয়, ভীতি হতাশা। 
  • উদ্বেগ- বিভিন্ন নেতিবাচক চিন্তা যেমন- ডেলিভারী ঠিক মত হবে কিনা, মহামারীর কারণে হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা পাব কিনা, সন্তান সুস্থ আছে কিনা ইত্যাদি চিন্তাভাবনা। 
  • আচরণের পরিবর্তন – অধিক আবেগের কারণে হতাশ হয়ে খুব কান্না করা, নিজের যত্ন নিতে অপারগতা ইত্যাদি।
  • শারিরীক পরিবর্তন- গর্ভবতীর খুব মন খারাপ থাকা, হাত পা ঘেমে যাওয়া, হঠাৎ করে হার্টবিট বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

গর্ভবতী নারীরা মানসিক চাপ কমাতে নিম্নলিখিত চাপ-উপশমকারী অনুশীলন এবং টিপস অনুসরণ করে দেখতে পারেন:

  • প্রতি ঘণ্টায় খবর দেখা থেকে বিরত থাকুন। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে যেমন- সকালে বা রাত খাবার আগে খবর দেখুন। বিকেলে রিলাক্স করুন এবং রাতে ঘুমানোর কিছুক্ষণ পূর্বে সব কাজ শেষ করুন।  
  • প্রতিদিন ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক হালকা স্ট্রেচিং, মেডিটেশন এবং শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। 
  • ফোনে বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিবারের সবার সাথে যোগাযোগ রাখুন, মন খুলে কথা বলুন এবং মনকে প্রফুল্ল রাখুন। 
  • স্ক্রিন টাইম সীমিত করুন এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর জন্য বিছানায় যান যেন পর্যাপ্ত  পরিমাণ ঘুমানোর সময়টুকু নিশ্চিত হয়। 
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন এবং নিয়মিত হালকা শরীর চর্চা করুন। এ দুই অনুশীলণ মানসিক চাপ কমিয়ে সুষ্ঠু মানসিক স্বাস্থ্য বজায়ে আপনার সহায়ক হবে। 
  • একটি নতুন শখ গ্রহণ করুন বা কোনও পুরানো শখকে পুনরায় চর্চা করুন, যেমন কোনও বাদ্যযন্ত্র বাজানো, কোনও ভাষা শেখা বা বইপড়া। অনেকে আসন্ন শিশুর জন্য জামাকাপড় বা হস্তনির্মিত খেলনা তৈরি করা বা ঘর সাজানোর মত বিষয়টি উপভোগ করতে পারেন।
  • গর্ভবতী মহিলাদের এবং নতুন পিতামাতার জন্য কিছু অনলাইন সহায়ক গ্রুপ এবং ফোরাম রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করে অন্যের অভিজ্ঞতা গুলো দেখুন এবং জানুন।
  • প্রয়োজনের অন্যের সহায়তা নিন। নিজের কাজগুলো গুছাতে কিংবা বাচ্চার যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের সঙ্গী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতা নিন। 
  • গবেষণায় দেখা গিয়াছে গর্ভবতীর মানসিক সমস্যা গর্ভস্থ সন্তানের উপর ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অকাল প্রসব, ওজন কম, বিকাশ বাধাগ্রস্থ হওয়া ইত্যাদি হতে পারে।
  • যেহেতু এ সময় বাইরে যাওয়া একেবারেই উচিৎ হবে না সেহেতু। অনলাইনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে, মায়ার মত অনলাইন প্লাটফর্মে পরামর্শ নিতে পারেন। কারণ উদ্বেগ, হতাশা, বা স্ট্রেসের কমাতে অভিজ্ঞ মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ কিংবা থেরাপি অনেক সহায়ক হতে পারে। মায়ার সাবস্ক্রিপশন প্যাকগুলো এক্ষেত্রে অনেক কার্যকর।

এক্ষেত্রে, একজন গর্ভবতীর মানসিক হতাশা দূর করতে তার কাজে সহায়তার পাশাপাশি সে যেন একটি ভালোবাসা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ পায় সে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নিশ্চিত করতে হবে।  গর্ভাবস্থায় যদি মানসিক সমস্যায় ভুগেন তবে অবশ্যই একজন ডাক্তার এবং মনোবিদের পরামর্শ নিন। গর্ভাবস্থায় ডিপ্রেশন একটি স্বাভাবিক বিষয়,তবে এটি চিকিৎসাযোগ্য। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে যেন কোন গর্ভবতীকে একা একা হতাশার সাথে লড়াই করতে না হয়।এ সময় মায়া বন্ধুর মত পাশে আছে সবসময়। যে কোন সমস্যায় মায়ার এক্সপার্টদের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। নিরাপদ ও সুন্দর মাতৃত্ব আমাদের সকলের কাম্য।        

Leave a Reply