গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস? নিয়ন্ত্রণের কিছু ডায়েট টিপস - মায়া

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস? নিয়ন্ত্রণের কিছু ডায়েট টিপস

গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ আপনার এবং আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নলিখিত টিপস আপনাকে গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করবে। হজমের পর খাবারে থাকা কার্বোহাইড্রেটগুলি চিনিতে পরিণত হয় (একে গ্লুকোজও বলা হয়)। গ্লুকোজ আপনার এবং আপনার শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে আপনার রক্তে খুব বেশি গ্লুকোজ সমস্যা তৈরি করতে পারে। এজন্য, সঠিক পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাবারগুলি বেছে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। কার্বোহাইড্রেট সাধারণত শর্করা জাতীয় খাবার,ফল, শাকসব্জী, দুধ এবং দইতে পাওয়া যায় তাই এসব খাদ্যগুলি পরিমাপ করে খাওয়া উচিত। মিষ্টি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত কারণ তারা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। 

প্রতিদিন ৩ বার মুল খাবারের পাশাপাশি ২-৩ বার হালকা খাবার খান 

তিন বার মুল খাবারের পাশাপাশি ২-৩ বার হালকা খাবার খান। একবারে বেশি পরিমাণে খাবার না খেয়ে অল্প পরিমাণে বার বার খাওয়া ভালো। গর্ভাবস্থায় আপনার শরীরে পুষ্টি চাহিদা বেশি থাকে কারণ আপনার শরীর থেকে পুষ্টি আপনার সন্তানের পুষ্টি চাহিদা পুরণ হয়। তাই, একটি ব্যালেন্সড ডায়েট খুব জরুরী। 

শর্করা জাতীয় খাবার সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করুন 

শর্করা জাতীয়  খাবার আপনার চাহিদা অনুযায়ী পরিমাপ করে খান। সাধারণত ১ কাপ পরিমাণ ভাত অথবা শস্য জাতীয় খাবার কিংবা ২ টি রুটি প্রতিবারের মেন্যুর জন্য যথেষ্ট ধরা হয়। 

একবারে ১ কাপ বা ৮ আউন্সের বেশি দুধ খাবেন না 

দুধ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং ক্যালসিয়ামের অন্যতম উৎস। তরল হওয়ায় এর সুগার খুব দ্রুত শরীরে শোষিত হয়। একবারে বেশি পরিমাণ দুধ খেলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে তাই চেষ্টা করুন একবারে এক কাপের বেশি দুধ না খেতে। 

একবারে সীমিত পরিমাণ ফল খান 

ফল অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার তবে এতে প্রাকৃতিক সুগার থাকায় একবারে অনেক বেশি ফল খেলে রক্তের সুগার বেড়ে যেতে পারে। একবারে একটি বড় ফলের অর্ধেক কিংবা ১/২ কাপ পরিমাণ মিশ্র ফল কিংবা ছোট এক টুকরা ফল খান। ফলের জুস কিংবা ক্যানড বা প্রসেসড ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

প্রসেসড না খেয়ে আঁশ জাতীয় খাবার বেশি খান 

আঁশ জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, ওটস ইত্যাদি। আপনি যখন সাদা বা প্রসেসড ভাত বা রুটি না খেয়ে অধিক আঁশসমৃদ্ধ লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, বিভিন্ন ধরনের ডাল, শীমের বিচি ইত্যাদি খাবেন তখন আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ নয়ন্ত্রণে রাখা তুলনামুলক সহজ হবে। 

সকালের খাবার 

সকালে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকসময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায় কারণ গর্ভাবস্থায় সকালে গর্ভকালীন হরমোনগুলোর প্রভাব বেশি থাকে। এর ফলে খালি পেটে থাকলেও অনেক সময় আপনার সুগারের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। শুকনো সিরিয়াল, দুধ এবং ফল খুব দ্রুত হজম হয় বলে তাৎক্ষণিক ভাবে আপনার সুগার লেবেল বেড়ে যেতে পারে তাই চেষ্টা করুন আঁশযুক্ত এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের সমন্বয়ে সকালের নাস্তাটা সারতে। 

ফলের রস এবং চিনি যুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন 

এক গ্লাস জুস তৈরি করতে এটি বেশ কয়েক টুকরো ফল লাগে। ফলে এমনিতেও প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। কারণ এটি তরল,তাই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায়। একই কারণে সোডা এবং চিনিযুক্ত কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন। 

মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া কঠোরভাবে সীমিত করুন 

কেক, কুকিজ, ক্যান্ডি এবং পেস্ট্রিগুলিতে চিনির পরিমাণ বেশি এবং এগুলো খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ খুব বেশি মাত্রায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাবারগুলিতে প্রায়শই প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট থাকে এবং খুব কম পুষ্টি সরবরাহ করে। 

চিনিকে না বলুন 

খাবারে চিনি, মধু বা সিরাপ এড়িয়ে চলুন।

আর্টিফিসিয়াল সুইটনার 

খুব মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে স্টেভিয়ার মত গর্ভাবস্থার জন্য নিরাপদ কোন আর্টিফিসিয়াল সুইটনার খাবারে ব্যবহার করতে পারেন। 

নিয়মিত ব্যায়াম 

গর্ভাবস্থায় কোন জটিলতা না থাকলে প্রতিদিন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ২০-৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। 

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস  নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরী। গর্ভকালীন যে কোন বিষয়ে পরামর্শের জন্য মায়া অ্যাপটি ইন্সটল করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

Leave a Reply