গর্ভকালীন সুস্থতার ১১ টি উপায় যা সব গর্ভবতী নারীর জানা প্রয়োজন - মায়া

গর্ভকালীন সুস্থতার ১১ টি উপায় যা সব গর্ভবতী নারীর জানা প্রয়োজন

গর্ভকালীন সুস্থতা এবং সচেতনতা একটি সুস্থ শিশু জন্মদানের অন্যতম সহায়ক। মায়ার প্লাটফর্মে আমরা গর্ভকালীন নানা জটিলতা সংক্রান্ত প্রশ্ন পেয়ে থাকি। এসব প্রশ্নের আলোকে গর্ভকালীন সুস্থতা এবং সুস্থ বাচ্চা জন্মদানে সহায়ক ১২টি উপায় সম্পর্কে মায়ার ডাক্তার ডা. তাহমিনার পরামর্শ  জেনে নিন- 

  • সঠিক খাদ্যাভ্যাস  

স্বাস্থ্যকর ডায়েট খাওয়া গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শিশুর সুগার এবং ফ্যাট নয়,বরং স্বাস্থ্যকর খাবার প্রয়োজন।তাই, প্রচুর বর্ণিল ফল এবং শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার,  ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার এবং অল্প পরিমাণে অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খান। 

  • প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণ নিশ্চিত করুন 

খাবার থেকে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড, আয়রণ এবং ক্যালসিয়াম পাওয়া নিশ্চিত করুন। এছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শে এ জাতীয় সাপ্লিমেন্ট বা মাল্টিভিটামিন খেতে হবে। পালংশাক, কমলা, ব্রকলি এবং কিডনি মটরশুটি ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার। দুধ, দই এবং পালংশাকে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম আর কচু শাক, কলা ইত্যাদিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ। এছাড়াও, মাল্টিভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট ভিটামিন সেবন সঠিক পরিমাণে নির্দিষ্ট ভিটামিন গ্রহণ নিশ্চিত করে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাচ্চা জন্মদানের পূর্ব পর্যন্ত আপনাকে এসব সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।  

  • হাইড্রেটেড থাকুন 

গর্ভবতী নারীদের দেহের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি প্রয়োজন। প্রতিদিন কমপক্ষে আট গ্লাস পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

  • সঠিক গর্ভকালীন যত্ন 

গর্ভাবস্থায় সঠিক যত্ন এবং নিয়মিত ডাক্তারের চেক-আপ করানো অত্যন্ত জরুরী। এর ফলে গর্ভকালীন নানা জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। 

  • কিছু খাবার এড়িয়ে চলুন 

কিছু নির্দিষ্ট খাবার রয়েছে যা গর্ভবতী নারীদের খাওয়া উচিত নয়। যেমন: কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ মাংস, কলিজা, সুশী, কাঁচা ডিম বা কাঁচা ডিমের তৈরী খাবার(মেয়োনেজ), নরম এবং অপাস্তুরিত চিজ (ফেটা, ব্রি) এবং অপাস্তুরিত দুধ। কাঁচা এবং অপাস্তুরিত খাব্যদ্রব্য খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে। 

  • ধুমপান এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন 

গর্ভাবস্থায় এবং প্রসুতি মায়ের ধুমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করা উচিৎ। অ্যালকোহল পানের এর ফলে গর্ভস্থ ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হতে পারে।ধূমপানের ফলে 

এস এই ডি এস (আকস্মিক শিশু মৃত্যুর সিন্ড্রোম), অকাল জন্ম, গর্ভপাত এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যায়।

  • স্বাভাবিক হাঁটাচলা এবং ব্যায়াম 

ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে হালকা ব্যায়াম এবং স্বাভাবিক হাঁটাচলা মা এবং বাচ্চা উভয়ের জন্য ভালো। 

  • প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ

গর্ভাবস্থায় সাধারণত মায়েদের টিটিনাস এর টিকা দেয়া হয় যদি পূর্বে না দেয়া হয়ে থাকে। 

  • পর্যাপ্ত ঘুম

প্রতিদিন ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম গর্ভবতী মা এবং বাচ্চা উভয়েরই খুব প্রয়োজন। বাচ্চা এবং মায়ের রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে বাম কাঁতে শোয়ার চেষ্টা করুন। 

  • মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন 

গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের অন্যান্যদের সহায়তায় মানসিক চাপ এড়িয়ে হাসি খুশি থাকার চেষ্টা করুন। 

  • সঠিক সময়ে গর্ভধারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করুন 

জীবনের যে সময়ে আপনি নিজেকে পরিপূর্ণ ফিট বা সুস্থ মনে করেন সে সময়েই গর্ভধারণের পরিকল্পনা করা উচিৎ। একজন সুস্থ মায়ের পক্ষে সুস্থভাবে গর্ভধারণ এবং সুস্থ বাচ্চা জন্মদান বেশি সহজ। 

এর অর্থ কেবল এই নয় যে নারীরা গর্ভবতী হওয়ার আগে সুস্থ আছেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া উচিত, তবে গর্ভবতী হওয়ার আগে তাদের বয়সও বিবেচনা করা উচিত। সাধারণত ২০ বছর বয়সের আগে এবং ৩০ বছরের পরে গর্ভধারণে অকাল প্রসব এবং গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়াও, যে মহিলারা খুব শীঘ্রই পুনরায় গর্ভবতী হন (জন্মের মধ্যে ১৮ মাসেরও কম ব্যবধান) তাদের ক্ষেত্রেও অকাল প্রসবের সম্ভাবনা রয়েছে।  

গর্ভবতী এবং তার পরিবারের গর্ভকালীন সময়ে নানা প্রশ্ন থেকে থাকে যার উত্তর তাদের অজানা।আবার সমাজে অনেক কুসংস্কার ও প্রচলিত রয়েছে যার সঠিক ব্যাখ্যা অনেকেরই জানা নেই।গর্ভাবস্থার যেকোন সমস্যার কিংবা প্রশ্নের সমাধান জানতে মায়ার ডাক্তারকে প্রশ্ন করুন, সঠিক তথ্য জানুন।  

Leave a Reply