তীব্র গরমে মাস্ক পরিধানের সতর্কতা এবং শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার উপায় - মায়া

তীব্র গরমে মাস্ক পরিধানের সতর্কতা এবং শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার উপায়

করোনার সাথে সাথে গরমের তীব্রতাও বেড়েছে। অসহ্য এই গরমে মাস্ক পরে থাকা খুবই কষ্টকর। গরমের সাথে সাথে আর্দ্রতার কারণে মাস্ক পড়ে অনেকে হাপিয়ে উঠেন।অনেকেরই নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয় আবার ঘামে ভিজে গিয়ে মাস্ক পরে থাকা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।মায়াতে আমরা এ সংক্রান্ত অনেক প্রশ্ন পেয়ে থাকি। যেহেতু বাইরে বের হলে জনবহুল স্থানে মাস্ক পরিধানের কোন বিকল্প নেই, সেহেতু এ বিষয়ে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য আপনাদের জানিয়ে রাখছি।

কেন মাস্ক পরিধানে আরও বেশি গরম লাগে? করণীয় কি?  

মাস্ক পরার পর যদি আপনার বেশি গরম লাগে বা নিঃশ্বাস নিতে বেশি কষ্ট হয় এর অর্থ হল মাস্কটির ভিতরে তাপ ধরে রাখছে। শ্বাস প্রশ্বাসের ফলে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস পায় কিন্তু যদি কোন কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস বাঁধা গ্রস্থ হয় তবে আপনার শরীরের অধিক গরম অনুভূত হবে। 

এক্ষেত্রে আপনি যখন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবে আপনার আশে পাশে ৬ ফিট সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে আপনার মাস্কটি খুলে ফেলতে পারেন। 

যদি আপনার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, আপনি ঘুম ঘুম ভাব বা দুর্বল অনুভব করেন তবে এটি হিট স্ট্রোকের লক্ষণ। এক্ষেত্রে-

  •  অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে আপনাকে মাস্ক খুলে ফেলতে হবে। 
  • যাদের জনবহুল পরিবেশে ঘরের বাইরে অনেকক্ষণ মাস্ক পরে কাজ করতে হচ্ছে তারা চেষ্টা করুন কাজের ফাঁকে ফাঁকে নিজেকে ভিড় থেকে সরিয়ে মাস্ক খুলে একটু বিশ্রাম নিতে।
  •  নিজেকে হাইড্রেটেড রাখার জন্য বারবার পানি পান করুন।
  •  ঘাড়ে ও মুখে ভেজা তোয়ালে দিয়ে রাখলে শরীর কিছুটা ঠাণ্ডা এবং আরামবোধ করবেন।  

নিম্নোক্ত আরও কিছু সতর্কতা মেনে চললে উপকৃত হবেন- 

অত্যধিক গরম এড়িয়ে চলুন 

গরম এড়িয়ে চলতে- 

  • চেষ্টা করুন খুব সকাল বা বিকালের পর বাইরে বের হতে। 
  • কড়া রোদে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে সেভাবে নিজের কর্মপরিকল্পনা করুন। 

নিঃশ্বাস নিতে সহজ হয় এমন উপাদানের তৈরি মাস্ক পরুন  

যারা সরাসরি করোনা রোগীর সেবা কাজে জড়িত তারা বাদেও অনেককেই কাজের প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হচ্ছে। তাদের ক্ষেত্রে – 

  • আপনার মাস্কটি কি উপাদান দিয়ে তৈরি তার উপর এর মধ্য দিয়ে শ্বাস নেওয়া কতটা সহজ হবে তা অনেকটা নির্ভর করে।
  •  আবার শুধু নিঃশ্বাস নিতে সহজ হলেই হবে না এটি ভাইরাস প্রতিরোধী হওয়াটাও সমান জরুরী।
  •  সিল্ক বা সুতি কাপড়ের মাস্ক ভিতরে ফ্লানেলের ইনার যুক্ত লেয়ার রয়েছে এমন মাস্ক এক্ষেত্রে খুব কার্যকরী হতে পারে। 
  • মাস্কটি অবশ্যই মুখ এবং নাকের চারিপাশ ভালো ভাবে ঢাকে এমন হতে হবে এবং শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এমন টাইট নয় কিন্তু একদম ঢিলাও নয় বরং সঠিক ফিটিঙে বাঁধলে ভালো। 
  • সারজিক্যাল মাস্ক ও অনেকটা আরামদায়ক। এটি ব্যবহারের পর ফেলে দিতে হবে। 
  • ফ্রন্টলাইন করোনা যোদ্ধাদের জন্য KN95 মাস্কের কোন ভালো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে তাদের কিছুক্ষণ পর পর বিশ্রাম এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা জরুরী। 

সঠিক ভাবে মাস্ক পরিধান করুন    

সঠিক ভাবে মাস্ক পরিধান না করলেও আপনার শ্বাস প্রশ্বাস বাঁধাগ্রস্থ হতে পারে। তাই মাস্ক পরিধানের সময় খেয়াল রাখুন যেন তা আপনার নাক মুখ ও চোয়াল ভালভাবে ঢেকে রাখে,এমনভাবে বাধুন যেন খুব বেশি টাইট হয়ে নাকে মুখে চেপে না বসে কিন্তু ভিতরে নিঃশ্বাস ছাড়ার মত ফাঁকা জায়গা থাকে। শুধুমাত্র তখনই মাস্ক খুলুন যখন আপনার আশে পাশে অন্তত ৬ ফিট দূরত্বে কেউ থাকবে না। 

মাস্ক ঘামে ভিজে গেলে করণীয়   

বাতাসের আর্দ্রতার কারণে মাস্ক অনেক সময় ঘামে ভিজে যায়। ঘামে ভেজা মাস্ক নাকের সাথে আটকিয়ে ও শ্বাস প্রশ্বাসে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের ঘাম এবং উষ্ণ শ্বাস, তাপ এবং আর্দ্রতার সাথে মিলিত হয়ে, মাস্কের নীচে একটি জলাবদ্ধ মাইক্রোক্লাইমেট তৈরি করে। এটি ঠাণ্ডা বাতাসের ফুসফুসে পৌঁছতে অসুবিধা সৃষ্টি করে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। মাস্কের মধ্যে আটকে থাকা আর্দ্রতা কেবল অস্বস্তিকর নয়, কিছু গবেষক বলেছেন যে এটি আসলে ক্ষতিকারক হতে পারে। ২০১৫ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, আর্দ্র মাস্ক ব্যক্টেরিয়া এবং ভাইরাস বান্ধব। এর জন্য করণীয় হল- 

  • মাস্ক ঘামে ভিজে গেলে পরিবর্তন করে আর একটি শুকনো মাস্ক পরে নিন। সাথে সব সময় একটি প্লাস্টিক বক্স বা জীপলক ব্যাগে মাস্ক ভরে রাখুন। 
  • মাস্ক খুলে রাখার সময় এবং পরে মাস্কের বাইরের অংশে স্পর্শ করবেন না। কোন ভাবে হাত লেগে গেলে হাত স্যানিটাইজ করে নিন। 
  • ব্যবহৃত মাস্ক প্রতিবার ব্যবহারের পর গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। সুতি মাস্ক হলে আয়রণ করা যেতে পারে। তবে মাস্কের আকার যেন স্বাভাবিক থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • সি ডি সি এর মতে হাতে দিয়ে মাস্ক ধুতে এক গ্যালন পরিমাণ পানিতে ৫ টেবিল চামচ ব্লিচ মিশ্রিত দ্রবণে ৫ মিনিট মাস্ক ভিজিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে পুনরায় ব্যবহার করতে পারবেন।

সুস্থ ও নিরাপদ থাকতে ঘরেই থাকুন। বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই সঠিক ভাবে মাস্ক পরিধান করুন। চেষ্টা করুন খুব অল্প সময় বাইরে থাকার।নিজেকে হাইড্রেটেড রাখার এবং তুলনামূলক ঠাণ্ডা স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হলে আপনি সব সময় মাস্ক পরিধান না করলেও চলবে। যে কোন প্রয়োজনে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জানতে মায়াতে প্রশ্ন করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

তথ্যসুত্র,

https://edition.cnn.com/2020/06/10/health/wear-masks-summer-heat-sweat-wellness-trnd/index.html

https://www.washingtonpost.com/lifestyle/wellness/face-mask-acne-breakout-coronavirus/2020/06/03/57ed3d84-a4ea-11ea-b619-3f9133bbb482_story.html https://www.wkrg.com/health/coronavirus/dangers-of-wearing-masks-in-the-heat-and-humidity/

Leave a Reply