ঘরে বসে চুল কাটছাঁটের কিছু কৌশল জেনে নিন - মায়া

ঘরে বসে চুল কাটছাঁটের কিছু কৌশল জেনে নিন

বিশ্ব মহামারীর এই সময়ে অনেকেই চুল নিয়ে ব্যাপক ঝামেলায় রয়েছেন। যেহেতু সেলুন এবং পার্লারে যেতে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, কোথাও কোথাও বন্ধ রয়েছে, তাই কেউ হয়তো চুল বড় রাখার স্টাইল শুরু করেছেন কেউবা চুলের রফাদফায় করে ফেলেছেন অর্থাৎ টাক হয়ে গিয়েছেন।কিন্তু এই স্টাইলে আর কতদিন? অনেকেই হতাশ।সেলিব্রেটি থেকে শুরু করে আমজনতা কেউ কেউ হয়ত সাময়িকভাবে নিজের পার্টনারের ব্যক্তিগত হেয়ার স্টাইলিস্ট ই হয়ে গিয়েছেন। 

আপনাদের এই যাত্রাটি সহজ করতে মায়ার রুপচর্চা বিশেষজ্ঞের কিছু টিপস আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। 

চুল কাটা কতটা জরুরী তা নির্ধারণ করুন

যেহেতু আপনি চুল কাটাতে দক্ষ না সেহেতু নিজে নিজে চুল কাটার পূর্বে চুলনা কেটে অন্য ভাবে নিজের লুকের একটা পরিবর্তন আনা যায় কিনা তা দেখুন। যাদের চুল বড় এখনই সময় ঘরে বসে চুলের যত্ন নেওয়ার যেটা হয়ত ব্যস্ততার কারণে পূর্বে অতটা করে উঠা হয়নি শুধুমাত্র সেলন বা পার্লারই ভরসা ছিল। অ্যাপেল সিডার ভিনেগার, মধু, ডিম, কলা, লেবু ইত্যাদি ঘরোয়া  নানা উপাদান ব্যবহার করে আপনি সহজেই চুলের ধরণ বুঝে খুব ভালো একটা মাস্ক তৈরী করে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। চুল বাঁধার নানা ধরনের পদ্ধতি যেমন- পনিটেইল, ফ্রেঞ্জ পনিটেইল,হেয়ার ক্লিপের সাহায্যে ফেক ববস, ফলস ব্যাঙ্গস ইত্যাদি ব্যবহার করে চুল না কেটেও নানা ধরনের স্টাইল করা সম্ভব। ছোট চুল যাদের কিংবা অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং এর কারণে যাদের চুলের বারোটা বেজে গিয়েছে চুলটাকে হালকা ট্রিম করে চুলের যত্ন নিয়ে চূল বড় করার এটাই উপযুক্ত সময়। এরপরও যদি মনে করেন যে আপনার চুল কাটা জরুরী সেক্ষেত্রে সাজেশন হল, হঠাৎ বড় কোন পরিবর্তন না করে প্রথমে হালকা ধরনের পরিবর্তনের চেষ্টা করুন। 

যা যা প্রয়োজনঃ 

  • ধরালো কাঁচি, রেজর – চুল কাটার জন্য আপনার প্রথমেই যা লাগবে তা হল ধারালো এবং সুচালো অগ্রভাগের কাঁচি। স্রু অগ্রভাগের কারণে চুল কাটার সময় চুলের অগ্রভাগ ফুলে যাওয়া কিংবা খুব বেশি এলোমেলো হয়ে যাওয়া সমস্যাটি কম হয়। এছাড়া ধারালো এবং নতুন রেজর লাগবে বাচ্চাদের এবং ছেলেদের চুল কাটার জন্য। ট্রিমার বা ক্লিপার হলে কাজটি আরও সহজ হয়ে যায়।
  • হেয়ার ক্লিপার- ছোট চুলকে সাইজ করতে ক্লিপারের কোন জুড়ি নেই। এছাড়াও আপনি যদি নিজের চুল নিজে কাটেন তবে সেলফ কাটিং ট্রিমারের একটি ভালো অপশন। 

কিছু টিপস মাথায় রাখা জরুরী 

  • অন্যের সহায়তা নিন নিজেই আয়না দেখে নিজের চুল কাটা খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি ব্যাপার। খুব ঝুঁকিপূর্ণও বটে। যদি তাও করতে চান তবে এক্ষেত্রে আপনাকে কয়েকটি আয়নার সহায়তা নিতে হবে। চেষ্টা করুন অন্য একজনের সহায়তায় চুলগুলো প্রথমে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ছোট ও সমান করে নিতে। 
  • ছোট করে শুরু করুন চুল কাটার সময় ছোট করে প্রথমে ছেটে নিন কারণ একবার বেশি করে বা ভুল করে কেটে ফেললে শুধরানোর কোন সুযোগ কিন্তু থাকছে না। একবার অল্প করে ছেটে কিছু সময় বিরতি নিয়ে পুনরায় পরীক্ষা করে দেখুন ঠিকঠাক আছে কিনা।দরকার হলে তখন না হয় আরেকটু সাইজ করে নিন।
  • কাঁচিকে আড়াআড়ি ভাবে ধরা থেকে বিরত থাকুন চুলকে একেবারে আড়াআড়ি ভাবে না কেটে কাঁচিকে চুলের দৈর্ঘ্য বরাবর উপর নিচ করে চূল কাটুন। চুলের দৈর্ঘ্য কমানোর জন্য আড়াআড়ি ভাবে যদি কাটেনও পরে উপে নিচ বা তির্যকভাবে কাঁচি ধরে চূলটা ছেটে নিন এতে চুলের কাটিং টা বেশি ন্যাচারাল মনে হবে। 

চুল কিভাবে ছাটবেন? 

যেহেতু আপনি প্রথমবার বা অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে সেহেতু পূর্বের স্টাইলেই চুলকে হালকা ছেটে সাইজ করুন।কাজটি করতে অন্যের সাহায্য নিন। পুরোপুরি নতুনভাবে স্টাইল পরিবর্তন করার ঝুঁকি নেবেন না। নিচের পরামর্শ গুলো আপনাদের সহায়ক হবে- 

  • প্রথমেই চুলকে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনিং করে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন। চুল শুকালে চুল সংকুচিত হয়ে যায় তাই চুল কাটার পূর্বে খুব চিকন চিরুনির সাহায্যে আঁচড়িয়ে নিন। যদি চুল বেশি উস্কখুস্ক থাকে তবে হালকা ভিজিয়ে আঁচড়িয়ে নিন। পুরোপুরি ভেজাতে যাবেন না যেন। এবার কাঁচির আগা দিয়ে ছোট ছোট স্ট্রোকে চুল কাঙ্ক্ষিত আকারে ছেটে নিন। 
  • এক হাতে চিরুনি রাখুন এবং ক্লিপের সাহায্যে চুলগুলোকে সুবিধাজনক ভাগে ভাগ করে নিন। 
  • চুল কাটার পূর্বে ঘাড়ের উপর এবং চুলের নিচে একটা কেপ বা পুরনো তোয়ালে দিয়ে নিন এবং সামনে থেকে ক্লিপ দিয়ে আটকে নিন।  
  • বড় চুলের ক্ষেত্রে চুলকে ভাগ করে একটি অংশ সামনে নিয়ে আসুন আয়নায় দেখে নিন ঠিক কতটুকু ছোট করতে চান সেবুঝে ট্রিম করুন এবং তারপর সবগুলো ট্রিম শেষে স্নিপ করে সবগুলো সমান করে নিন। ট্রিম করার সময় একবারে আধা বা কোয়ার্টার ইঞ্চির বেশি করবেন না। 
  • ছোট চুলের ক্ষেত্রে অবশ্যই অন্যের সহায়তা নিন অথবা ক্লিপার ব্যবহার করুন। চিরুনি দিয়ে আঁচড়িয়ে মাথার এক সাইড থেকে অল্প অল্প করে ছেটে সামনের দিকে অগ্রসর হন। কানের কাছে ছাটার সময় অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন। 
  • বাচ্চাদের চুল ছাটার সময় চারিদিকে ক্লিপার দিয়ে চূল ছেটে নিয়ে উপরের চুলগুলো কাঁচি দিয়ে হালকা ছেটে দিয়ে ছোট করে নিলেই হবে। এক্ষেত্রে একটি মিক্সিং বাটি মাথার উপর দিয়ে ঠিক কতটুকু কাটবেন তা নির্ধারণ করে নিতে পারেন। তবে বাচচা একটু বড় হলে বাটি থেরাপি তে না যাওয়ায় ভালো। বাচচার চূল কাটার সময় বাচ্চা যেন শান্ত থাকে এবং খুব বেশি নড়াচড়া বা কান্নাকাটি না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মহামারীর এই সময়ে সেলুন ও পার্লারে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।চুল বড় হলে কিংবা কাটাতে না পারলে এটাকে নতুন স্টাইল মনে করে নিজের চিন্তাভাবনাকে পজিটিভ রাখুন।নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাটি মাথায় রেখে ঘরেই নিরাপদে থাকুন। রূপচর্চা ও লাইফস্টাইল সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে পরামর্শের জন্য মায়াতে প্রশ্ন করুন।     

Leave a Reply