কোভিড -১৯ রোগীর পরিচর্যাকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন - মায়া

কোভিড -১৯ রোগীর পরিচর্যাকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন

বিশ্ব মহামারীর এ সময়ে বাংলাদেশ একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। মৃত ব্যক্তির লাশ ফেলে স্বজনদের পালিয়ে যাওয়া, চোখের সামনে প্রিয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে হাসপাতালে  ঘুরে আই সি ইউ সিট না পেয়ে রোগীর করুণ মৃত্যু, প্রিয়জনের শেষ বিদায়ে শেষ দেখাটা ও না পাওয়া, সন্তানের সামনে পিতামাতার কিংবা পিতামাতার সামনে সন্তানের মৃত্যু, প্রতিবেশীদের ও আত্মীয়স্বজনদের দুর্ব্যবহার এমন অনেক মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হতে হচ্ছে প্রতিদিন।

আবার, অন্যদিকে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অসহ্য গরমে পিপিই এর মত পোশাক পরে খাওয়া দাওয়া এমনকি টয়লেটে যাওয়া থেকে বিরত থেকে সামনে থেকে রোগীর সেবা ও পরিচর্যা করে যাচ্ছেন, প্রিয়জনদের থেকে দিনের পর দিন দূরে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, বিনিময়ে হয়ত নানাভাবে সামাজিক ভাবে হেনস্তারও শিকার হচ্ছেন কেউ কেউ। অনেকে মারাও গিয়েছেন। এসব ই আমাদের বর্তমান সমাজের চিত্রপট।  

আপনি যখন একজন কোভিড-১৯ রোগীর সেবা করছেন তখন আপনার স্ট্রেস বোধ হতেই পারে। পাশাপাশি আপনার নিজের এবং অন্যান্যদের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ বোধ করাটা  খুব স্বাভাবিক। এর প্রভাব আপনার খাওয়া, ঘুম, মনোনিবেশ করার ক্ষমতা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর উপরও পড়তে পারে। এর ফলে অনেকেই ধূমপান, অ্যালকোহল এবং অন্যান্য ঔষধ বেশি মাত্রায় গ্রহণ করছেন যা স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।  এক্ষেত্রে বিনামূল্যে আপনি মায়ার মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।         

যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সবাইকে মানসিক ভাবে দৃঢ় থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সেখানে আমরা অনেকটাই উদাসীন। মায়ার মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের মতে এ সময় রোগীর  নিজের, সেবা ও পরিচর্যাকারী সবারই মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ ভাবে যত্নশীল হতে হবে। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো আপনাকে বিশেষ ভাবে সহায়তা করবে- 

  • প্রিয়জনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। সেটা হতে পারে ভিডিও কনফারেন্স, ম্যাসেজ অথবা ফোন কলের মাধ্যমে এবং আপনার মনের কথাগুলো শেয়ার করুন।   
  • খুব বেশি কোভিড-১৯ সংক্রান্ত খবর দেখা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এড়িয়ে চলুন। বিশ্রাম নিন এবং আনন্দদায়ক  ক্রিয়াকলাপগুলিতে মনোনিবেশ করুন, যেমন- বই পড়া, চলচ্চিত্র দেখা বা অনলাইন গেম খেলা ইত্যাদি। 
  • বেশি বেশি পানি পান করুন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান। 
  • নিয়মিত গোসল এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করুন এবং দৈনিক একটি রুটিন অনুযায়ী জীবনযাপন করুন। 
  • ব্যায়াম করুন। 
  • পর্যাপ্ত ঘুমান এবং বিশ্রাম নিন। 
  • অ্যালকোহল পান এবং ধূমপানের মত বদভ্যাস গুলো পরিহার করুন। 
  • স্ট্রেচিং, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, এবং মেডিটেশন করুন। 
  • প্রার্থনা এবং যোগব্যায়াম আপনার মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে। 
  • মন ভাল লাগার মত কাজগুলোর করুন। 
  • সর্বোপরি নিজের অনুভূতি গুলো অন্যের সাথে শেয়ার করুন এবং অন্য কে ও  সচেতন হতে সহায়তা করুন। 

সময়টা কঠিন সবার জন্যই।সবাই করোনা রোগী এবং তার পরিবারের সাথে মানবিক আচরণ করুন, তাদের সহযোগিতা করুন। কারণ আপনাকেও এমন দিন কাটাতে হবে না তার কোন নিশ্চয়তা কিন্তু নেই। সময় যেমন কখনো নির্মম, অমানবিক কারও কারও জন্য আবার তা কখনো একতরফা নয়। নিজের মনোবল শক্ত করাই জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার একমাত্র উপায়।করোনার অন্ধকার কেটেও আলো আসবে একদিন। আপনার মানসিক যেকোন সমস্যায় নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করুন মায়াতে। মায়া আপনার পাশে রয়েছে সবসময়।       

Leave a Reply