নিজের বদঅভ্যাসগুলো দূর করে ভাল অভ্যাস প্রতিস্থাপন করার নানা উপায় - মায়া

নিজের বদঅভ্যাসগুলো দূর করে ভাল অভ্যাস প্রতিস্থাপন করার নানা উপায়

খারাপ অভ্যাসগুলি আপনার জীবনের বড় বাঁধা  এবং আপনার  লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রধান অন্তরায়। এগুলো আপনার মানসিক এবং শারীরিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকারক। এগুলোর পিছনে আপনার মুল্যবান সময় এবং শক্তি অপচয় হয় অনেক।

তাহলে কেন আপনি এগুলো করবেন? এগুলো দূর করার কি কোন উপায় নেই? এর সমাধান খোঁজার আগে আপনাকে নিচের বিষয়গুলো জানতে হবে-

বদঅভ্যাসের কারণ কি? 

আপনার খারাপ অভ্যাসগুলোর কারণ মূলত ২ টি –

মানসিক চাপ এবং এক ঘেয়েমি-  

বেশিরভাগ সময়, খারাপ অভ্যাসগুলি উৎপত্তি হয় মানসিক চাপ এবং একঘেয়েমি দূর করার অস্ত্র হিসেবে। আপনার নখ কামড়ানো থেকে শুরু করে শপিংয়ের পিছনে অতিরিক্ত ব্যয় করা থেকে শুরু করে প্রতি সপ্তাহান্তে মদ্যপান করা থেকে ইন্টারনেটে সময় নষ্ট করা সমস্ত কিছুই মানসিক চাপ এবং একঘেয়েমির এর প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

কিন্তু মানসিক চাপ ও একঘেয়েমি দূর করার জন্য বদঅভ্যাসে সাহায্য নেয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয় বরং এর জন্য আপনি যদি স্বাস্থ্যকর এবং ভাল অভ্যাসের চর্চা শুরু করেন তবে সেটি আপনার নিজের এবং সমাজের সকলের জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে। 

এজন্য, প্রথমেই আপনার বদভ্যাস এর কারণ সম্পর্কে জানুন। এক্ষেত্রে আপনি মায়ার মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

আপনার বদভ্যাসগুলো ভাল অভ্যাসের দ্বারা প্রতিস্থাপন করুন

খারাপ অভ্যাস বা ভাল অভ্যাস সবগুলোই আপনার জীবনের নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজন পূরণ করে। এবং এই কারণেই, আপনার খারাপ অভ্যাসগুলি দ্বারা আপনার যে প্রয়োজন পূরণ হত সেই একই প্রয়োজন কোন সুস্বাস্থ্যকর আচরণের দ্বারা প্রতিস্থাপন করা ভাল। যদি আপনি অভ্যাস প্রতিস্থাপন না করে সরাসরি বদঅভ্যাসগুলি বাদ দিয়ে দেন তবে আপনার ঐ সকল প্রয়োজন বা অভাবগুলো অপূর্ণ থেকে যাবে। ফলে, এই অভাববোধ থেকে আপনি পুনরায় আবার আগের বদভ্যাস ফিরে পেতে পারেন। 

উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি যখন মানসিক চাপে পড়েন তখন ধূমপান করেন।কিন্তু এটির স্বাস্থ্যগত ক্ষতির কথা চিন্তা করে যদি আপনি হুট করে ধূমপান ছেড়ে দেন তবে, এটি একটি খারাপ পরিকল্পনা হতে পারে। তার পরিবর্তে, আপনাকে চাপের সাথে মোকাবিলা করার জন্য আলাদা কোন স্বাস্থ্যসম্মত উপায় খুঁজে বের করা উচিত এবং সিগারেটের পরিবর্তে সেই ভাল অভ্যাসটি অনুশীলন করা উচিৎ। এতে বদভ্যাস গুলো পুনরায় ফিরে আসতে পারবে না। 

কিভাবে বদঅভ্যাসগুলো থেকে দূরে থাকব? 

বদভ্যাসগুলো দূর করতে নতুন করে চিন্তা করুন।কিছু উপায় আপনাদের সামনে তুলে ধরছি- 

  • আপনার খারাপ অভ্যাসের বিকল্প ভাল অভ্যাস নির্বাচন করুন– আপনার খারাপ অভ্যাসগুলো দেখা দেওয়ার কারণ যেমন- মানসিক চাপ,একঘেয়েমি এর সম্মুখীন হলে আপনি কী করবেন তা পরিকল্পনা করে নিন। (উদাহরণ: ধূমপানের পরিবর্তে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম।)
  • যতটা সম্ভব সম্ভাব্যতাগুলোকে সরিয়ে ফেলুন- আপনি যদি ঘরে বসে থাকলে কুকিজ খান তবে বাসায় কুকিজ রাখা বন্ধ করে দিন। আপনার চারপাশের পরিবেশ আপনার বদভ্যাসগুলোকে মাথা চাড়া দিতে সাহায্য করে। তাই, পরিবেশ পরিবর্তন করুন। 
  • ভাল কাজের সঙ্গী জুটিয়ে নিন- একা একা যেকোন কাজই কঠিন। আর লড়াইটা যখন নিজের সাথে তখন একজন সঙ্গী পেলে মন্দ হয় না বরং উৎসাহ আরও বেড়ে যায়।একসাথে চেষ্টা করুন এবং একে অপরের ভুল শুধরে দিতে সাহায্য করুন এবং সফলতাগুলো একসাথে উপভোগ করুন। 
  •  নিজে যেমন থাকতে চান তেমন সঙ্গী নির্বাচন করুন- তাই বলে পুরনো বন্ধুদের ভুলে যাওয়ার দরকার নেই কিন্তু আপনার চারপাশে তাদেরকেই রাখুন যারা আপনার আকাঙ্ক্ষিত ভাল অভ্যাসগুলো চর্চা করেন। 
  • নিজের সাফল্যগুলো উপভোগ করুন- ধূমপান ত্যাগ করে হাসিমুখে ধূমপান ছুড়ে ফেলে দিয়ে নিজেকে পুরস্কৃত করুন। 
  • নিজেকে নতুন ব্যক্তিত্বে পরিণত করার দরকার নেই, শুধু পুরনো আপনিকে ফিরিয়ে আনুন-  নতুন অভ্যাস চর্চা করতে গিয়ে অনেকেই হীন্মন্যতায় ভুগে থাকেন কিন্তু ভাবুন একদিন আপনার এই বদভ্যাসগুলো ছিল না। আপনি সেই সময়ের আপনিতে ফিরে গিয়েছেন এমন ভাবুন তাহলে যাত্রাটা কম কঠিন মনে হবে। 
  • নিজের ব্যর্থতাগুলো যাচাইয়ের সময় একটি “কিন্তু” ব্যবহার করুন- একবার চেষ্টাতেই কেউ সফল হবেন না। নিজের ব্যর্থতাগুলো আপনি নিজেই পরিমাপ করতে পারবেন।আর তখন নিজেকে সান্তনা দিতে কিন্তু ব্যবহার করুন।যেমন- “ আমি ব্যর্থ হয়েছি কিন্তু, সবাই কোন না কোন সময় ব্যর্থ হয়”। 

ব্যর্থতার পরিকল্পনা করুন

ব্যর্থ হলে নিজেকে দোষারোপ না করে কিভাবে আবার নিজেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনবেন সে বিষয়ে পরিকল্পনা করে রাখুন। কারণ, প্রকৃত সফল সেই ব্যক্তি যে ব্যর্থতাগুলোকে মুছে দিয়ে পুনরায় সঠিক পথে ফিরে আসে।  

প্রথম পদক্ষেপ

এতকিছু জানার পর আপনার মনে হতে পারে তাহলে শুরুটা করব কিভাবে? নিজের বদভ্যাসগুলো অনুধাবন করে নিজেকে দোষারোপ করে আরও বেশি মানসিক অবসাদে না ভুগে প্রথমেই নিজেকে সচেতন করুন এবং খারাপ অভ্যাসগুলোর সুত্রপাত সম্পর্কে ধারণা লাভ করুন। যেমন- 

  • ঠিক কখন আপনার বদভ্যাসগুলো দেখা দেয়?
  • প্রতিদিন কতবার আপনি কাজ গুলো করেন?
  • আপনি কোথায় এবং কাদের সাথে রয়েছেন?
  • কোন পরিস্থিতিতে পড়লে আপনি এগুলো করেন? প্রথম সুত্রপাত হয়েছিল কিভাবে?

যখন আপনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানবেন তখন আপনি নিজেই বদঅভ্যাসগুলো পরিবর্তনের উপায় খুঁজে পাবেন। 

কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে. দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? যে কোন অভ্যাস ই পরিবর্তন করতে কঠিন অধ্যবসায় প্রয়োজন। তাই ব্যর্থ হলে হতাশ না হয়ে মায়ার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং পুনরায় শুরু করুন। আপনার সফলতার জন্য আগাম শুভকামনা।

Leave a Reply