৫টি উপায়ে নিজেই নিজের হতাশা দূর করুন - মায়া

৫টি উপায়ে নিজেই নিজের হতাশা দূর করুন

করিতে পারি না কাজ ,সদা ভয় সদা লাজ,

সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে। 

আড়ালে আড়ালে থাকি, নিরবে আপনা ঢাকি, 

স্মমুখে চরণ নাহি চলে, পাছে লোকে কিছু বলে।

—-কামিনী রায়

কামিনী রায়ের কবিতার মত হতাশা আমাদের জীবনকে প্রায়শই থামিয়ে দেয় । আমরা ভাবতে শুরু করি আমাদের দ্বারা বোধহয় আর কিছু হবেনা। হাতাশা কাটিয়ে জীবন পথে এগিয়ে যাওয়াই সাফল্যের মূলমন্ত্র। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে হতাশা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে চলাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যদি আপনি হতাশ হন, তবে তা কাটিয়ে উঠার জন্য আপনাকে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ হতাশা অনেক সময় ই নিজ থেকে দূর হয় না।হতাশা কাটিয়ে উঠতে মায়ার মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি আপনি নিম্নের ৫ টি কাজ করে দেখতে পারেন। আশাকরি আপনি ভালবোধ করবেন-

১। ব্যায়াম

প্রতিদিন ১৫-৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটাচলা করুন – অথবা আপনি যদি চান তবে নাচ, জগিং বা সাইকেল চালাতে পারেন। হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তিরা নিজেকে কোন কাজে নিয়োজিত হবার তাগিদ অনুভব করেন না।। তবে নিজেকে যেকোন উপায়েই একটিভ করুন (আপনার যদি প্রেরণার প্রয়োজন হয় তবে কোনও বন্ধুকে আপনার সাথে নিয়ে অনুশীলন করতে পারেন)। নিয়মিত ব্যায়াম করলে নিজের মধ্যে পরিবর্তন আপনি নিজে অনুভব করতে পারবেন। 

অ্যারোবিক ব্যায়ামের পাশাপাশি কিছু যোগব্যায়াম হতাশার অনুভূতি থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে। যোগব্যায়ামের আরও দুটি উপায় – শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং মেডিটেশন – হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তিদের আরও ভাল বোধ করতে সহায়তা করে।   

২। পুষ্টিকর খাবার

সব সময় পুষ্টিকর খাবার অভ্যাস গড়ে তুলুন। হতাশা আপনার ক্ষুধাকেও প্রভাবিত করতে  পারে। কোন কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে, কারও কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাবার চাহিদা দেখা দিতে পারে। যদি হতাশা আপনার খাওয়ার উপর প্রভাব ফেলে তবে আপনার সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের দিকে অতিরিক্ত সচেতন হতে হবে।কারণ, সঠিক পুষ্টি একজন ব্যক্তির মেজাজ এবং শক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই প্রচুর ফলমূল এবং শাকসব্জী খান এবং নিয়মিত খাবার খান (আপনার ক্ষুধা বোধ না হলেও ভাল থাকার জন্য হালকা কিছু খাওয়ার চেষ্টা করুন, যেমন- ফলের টুকরো, ওটস ইত্যাদি)। 

৩। হতাশার কারণ শনাক্ত এবং দূর করুন

কোন পরিস্থিতি বা ঘটনা আপনার হতাশার সৃষ্টি করেছে তা শনাক্ত করার চেষ্টা করুন। যখন আপনি জানেন যে কি নিয়ে আপনি কষ্ট বোধ করছেন এবং কেন, তখন একজন কাছের ও বিশ্বস্ত বন্ধুর সাথে এটি সম্পর্কে কথা বলুন। কথা বলা হ’ল আপনার অনুভূতিগুলি প্রকাশ করার এবং অন্যকে বোঝানোর মাধ্যম। 

একবার আপনি এই চিন্তাভাবনা এবং অনুভূতিগুলি প্রকাশ করার পরে, আপনার মনকে ইতিবাচক  কোন কাজে ঘুরিয়ে দিন। সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নিন। সমস্যার সমাধানের জন্য মায়ার মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে সর্বদা সংযুক্ত থাকুন কারণ এটি আপনাকে হতাশার  অনুভূতি থেকে মুক্তি দিতে পারে। আপনার কষ্ট উপশম করার জন্য আপনার পরিবার পরিজন আপনার পাশে রয়েছে এই অনুভুতি আপনার হতাশাকে দূর করতে ভুমিকা রাখবে।  

৪। নিজেকে প্রকাশ করুন

হতাশাগ্রস্থ ব্যক্তির কাছে সৃজনশীলতা এবং আনন্দের অনুভূতি অবরুদ্ধ বলে মনে হতে পারে। আপনার সৃজনশীল গুণ (অনুশীলন, অঙ্কন, ডুডলিং, সেলাই, রচনা,নাচ, সংগীত রচনা ইত্যাদি) অনুশীলন করুন। এর ফলে আপনি কেবল সেই সৃজনশীল অনুভুতিগুলিই প্রকাশ করবেন না, আপনি কিছু ইতিবাচক আবেগকেও অবন্মুক্ত করবেন। বন্ধু বা পোষা প্রাণীর সাথে খেলা করে সময় কাটান বা নিজের জন্য কিছু মজার কাজ করুন। হাসির কোন সিনেমা বা হাসার মত কোন অনুষ্ঠান দেখুন। কারণ, হাসি আপনার মেজাজ হালকা করতে সাহায্য করবে।

৫। পজিটিভ চিন্তা করুন

হতাশা একজন ব্যক্তির চিন্তাভাবনাকেও প্রভাবিত করে, যার ফলে সবকিছুকে বিরক্তিকর, নেতিবাচক এবং আশাহীন বলে মনে হয়। যদি হতাশার কারণে কেবলমাত্র জীবনের নেতিবাচক দিকগুলিই চোখে পড়ে তবে তা পরিহার করুন এবং জীবনের ভাল দিকগুলি লক্ষ্য করার চেষ্টা করুন। শুরুতে একটি জিনিস লক্ষ্য করার চেষ্টা করুন, তারপরে আরও একটি বিষয় চিন্তা করার চেষ্টা করুন। আপনার জীবনের শক্তি, সামর্থ্য, পাওয়াগুলো কিংবা আশীর্বাদগুলো বিবেচনা করুন। সর্বোপরি, ধৈর্য ধরতে ভুলবেন না। হতাশা নিরাময়ে  কিছুটা সময় লাগতে পারে।

সবশেষে,  অ্যানি ফ্রাঙ্কের একটি উক্তি বলি-  “এই ঝলমলে রোদ যতদিন হাসবে, এই পাখির কলকাকলি, এই গাছের পাতায় হাওয়ার দোলায় ঝিরঝির শব্দ যতদিন আমি শুনবো, ভোরের খোলা হাওয়ায় বুকভরে শ্বাস নিতে পারবো- কি করে আমি জীবনকে ভালবেসে না থাকতে পারি?”

আসলেই, স্রষ্টা এবং প্রকৃতি আমাদের এত উপহার দিয়েছে যে, জীবনকে ভাল না বেসে থাকা যায় না। নিজেকে ভালবাসুন সবার প্রথমে। মায়ার সাথেই থাকুন।

Leave a Reply