করোনাকালীন ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনে আমাদের করনীয় - মায়া

করোনাকালীন ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনে আমাদের করনীয়

পবিত্র রমজান মাস শেষে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর সমাগত। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর করোনা মহামারীর কারণে পুরো পৃথিবীতে ঈদের চিত্রপট কিছুটা ভিন্ন হতে চলেছে। 

কারও কারও ক্ষেত্রে নেই শিকড়ের টানে বাড়ি ফেরার তাড়া, নেই মায়ের হাতে সেমাইয়ের মিষ্টতা, ছোট ভাইবোনদের সাথে ঈদ সেলামীর খুনসুটি, সাথে আছে অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা। নেই ঈদের নামাজ শেষে সবার সাথে সৌহার্দ্যের আলিঙ্গন বা কোলাকুলি, আত্নীয় স্বজনদের বাড়িতে ঘুরাঘুরি কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডা, নতুন জামার ঘ্রাণ, শিশুদের ছুটোছুটি।  

অনেকেই হয়ত এবারের ঈদটা মায়ের সাথে কাটাবেন বলে দূর দুর্দান্ত থেকে দেশে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন কিন্তু পারেন নি। কেউকে হয়ত হাসপাতালে ওই পিতামাতার জীবনের শেষ লড়াইটা প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে আবার কেউ প্রিয়জনকে হারিয়েছেন চিরতরে। স্থবির এই পৃথিবীর ঈদটা এবার সবার জন্যই একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতা হতে চলেছে।

সারাবিশ্বের চিত্র

অনেক দেশেই ঈদের নামাজ বাড়িতে পড়তে হবে এবং যারা মসজিদে যাবার সিদ্ধান্ত দিয়েছে তারা অবশ্যই সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করছেন। তার অর্থ প্রার্থনার সময়ও আপনার পাশে থাকা ব্যক্তির সাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।

ইরান ও পাকিস্তানের মতো কয়েকটি দেশ সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থাগুলি বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থনা পুনরায় শুরু করার অনুমতি দিয়েছে।   

বাংলাদেশ সরকার খোলা মাঠে ঈদ জামায়াত না করে মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায়ের আহ্বান জানিয়েছে। 

একত্রিত থেকে ঈদউদযাপনে আমাদের করনীয় 

এমতাবস্থায় সবার মানসিক অবস্থার অবনতি হওয়া যেমন- একাকীত্ব, হতাশা, অপরাধবোধ, একঘেয়েমি  লাগাটা স্বাভাবিক। মায়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক দূরত্ব যেন আমাদের মানসিক দূরত্বের কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সে বিষয়ে খেয়াল রাখা। এক্ষেত্রে আপনি যা যা করতে পারেন –

  • অনলাইনে বা ফোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ভাবে প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। 
  • কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
  • প্রিয়জনদের নিরাপদে রাখতে ঝুঁকি নিয়ে গ্রামে না গিয়ে বর্তমান অবস্থানে থাকুন। 
  • দেশে ও দেশের বাইরে পরিবারের সবাই গ্রূপ ভিডিও কলে একসাথে  কিছুক্ষণ সাক্ষাৎ করে মনকে হালকা করতে পারেন। 
  • পছন্দের কিছু রান্না করে খেতে পারেন, ভাল কোন অনুষ্ঠান দেখতে পারেন বা গান শুনতে পারেন। 
  • সবকিছুর মাঝে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস এবং স্বাস্থ্যবিধি গুলো মেনে চলুন। 
  • হালকা যোগব্যায়াম করতে পারেন। 
  • পজিটিভ চিন্তা ভাবনা করুন এবং নেগেটিভ চিন্তাভাবনা পরিহার করুন।
  • পিতামাতারা শিশুদের সাথে ঘরেই খেলাধুলা করে তাদের মনকে ভাল রাখতে পারেন। 
  • পরিবারের বয়স্ক ও অসুস্থদের বিশেষভাবে যত্ন নিন। 
  • একে অপরের কাজে সহযোগিতা এবং অন্যের অনুভুতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ভালবাসার মাধ্যমে দাম্পত্য কলহ দূর করে সম্পর্কের বন্ধনকে দৃঢ় করে তুলুন। 
  • লকডাউনের কারণেই কিন্তু আমরা পরিবারের সাথে এখন অনেকটা সময় একসাথে থাকার সুযোগ পেয়েছি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পারিবারিক সম্পর্কগুলোর আরেকটু ঝালিয়ে শক্ত করুন। 
  • যেকোন মানসিক বিপর্যয়ে মায়ার মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করুন নিঃসঙ্কোচে। 

কাছে বা দূরে যেখানেই থাকুন পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি সর্বাধিক প্রাধান্য দিন যেন আগামী ঈদ গুলো সবাই একসাথে আগের মত করে পালন করতে পারি।আপনার পরিবারের সুস্থতায় মায়া সর্বদাই আপনার পাশে রয়েছে।      

Leave a Reply