করোনায় সোয়াব টেস্ট, এন্টিবডি টেস্ট কতটুকু সঠিক ফলাফল দেয়? - মায়া

করোনায় সোয়াব টেস্ট, এন্টিবডি টেস্ট কতটুকু সঠিক ফলাফল দেয়?

মূলকথা

  • করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আন্তর্জাতিকভাবে টেস্টিং কে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, তবে কয়েকটি দেশের জন্য এটি অনেকটা হতাশা ও বিভ্রান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • করোনা ভাইরাস টেস্টগুলি কতটা কার্যকর তা নিয়ে রয়েছে নানাবিধ সমীকরণ। 

বর্তমানে, কোভিড-১৯ টেস্টের মূলত দুটি পদ্ধতি প্রচলিত। একটি হল সোয়াব টেস্ট, যা সাধারণত গলা বা নাক থেকে নমুনা নেয় ভাইরাল আরএনএ সনাক্ত করতে। এগুলো বর্তমানে আপনার কোভিড-১৯ আছে কিনা তা নির্ধারণ করে। আরেক ধরনের টেস্ট হল রক্ত পরীক্ষা, যা অ্যান্টিবডি সনাক্ত করে  নির্ধারণ করতে পারে যে আপনার কোভিড-১৯ ছিল বা আছে কিনা এবং আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এটিকে পরাস্থ করতে পেরেছে কিনা।

এখন প্রশ্ন হল এই টেস্টগুলো কতটুকু সঠিক? 

এর উত্তর আপনাকে কিছুটা  হতাশ করতে পারে কারণ কোন টেস্ট ই ১০০% সঠিক ফলাফল দেখায় না। যদিও পরীক্ষাগুলি আদর্শ পরীক্ষাগারে ভাল পারফরম্যান্স করতে পারে তবে বাস্তব জীবনে প্রচুর অন্যান্য ফ্যাক্টর যেমন- পরীক্ষার সময়, সোয়াব কীভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং নমুনা হ্যান্ডলিং সহ  নানা বিষয়  এর নির্ভুলতার উপর প্রভাব ফেলে। 

একজন ব্যক্তির জন্য পরীক্ষার ফলাফলের অর্থ কেবল এর যথার্থতার উপরই নয়, পরীক্ষার আগে রোগের আনুমানিক ঝুঁকির উপরও নির্ভর করে। এটি থমাস বায়েস গাণিতিকভাবে বর্ণনা করেছিলেন এবং পরে সিদ্ধার্থ মুখার্জি আইন হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন যে “দুর্বল পরীক্ষার চেয়ে শক্তিশালী অন্তর্দৃষ্টি অনেক বেশি শক্তিশালী”।   

চলুন একটি উদাহরণ দিয়ে ব্যখ্যা করা যাক। সাজিয়া (ছদ্মনাম) ঢাকায় একটি উচ্চ সংক্রমণশীল অঞ্চলে বসবাস করে এবং কাজের প্রয়োজনে সে কিছুদিন বাইরে বের হয়েছে।এর পর কয়েক দিন ধরে গন্ধ ও স্বাদহীনতার পাশাপাশি এক রাতে তার ঘুম ভাঙ্গে কাপুনি ও শুষ্ক কাশি নিয়ে। সে তার তাপমাত্রা মেপে দেখল ৩৮.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। তারপর, সোয়াব টেস্টে তার ফলাফল আসল নেগেটিভ। খুশির খবর তাই ত? কিন্তু আসলেই কি খুশির?  

পরীক্ষাকরার আগে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনুমান করার জন্য চিকিৎসকরা তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ এবং লক্ষণগুলির নিদর্শনগুলি সনাক্ত করতে ব্যবহার করেন। এটি “প্রাক-পরীক্ষার সম্ভাবনা” হিসাবে পরিচিত। লক্ষণ দেখে সাজিয়ার কোভিড পজিটিভ আসার সম্ভাবনা ৮০%। 

এখন, ধরে নিন প্রায় ১০০ জন মানুষ সাজিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে এমন সোয়াব টেস্ট করলেন। তাদের মধ্যে ৮০ জন আসলেই করোনা সংক্রমিত। কিন্তু এই ৮০ জনের মধ্যে ৩০% লোকের ফলাফল আসলো নেগেটিভ। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ২৪ জনের ফলাফল এরূপ “ ফলস নেগেটিভ” আসলো। এই ২৪ জন নিজের অজান্তেই তখন কাজে ফিরে গিয়ে বা আশেপাশের অন্যদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ঘটাবেন।

কাকে পরীক্ষা করা হয়েছে তার উপরও নির্ভর করে এই সংখ্যাগুলি পরিবর্তিত হয়। যদি আমরা কম লক্ষণযুক্ত লোকদের পরীক্ষা করি তবে করোনভাইরাস বা “প্রাক-পরীক্ষার সম্ভাবনা” কম আসবে।

মূলকথা হল, যদি আপনার উপসর্গ কম থাকা অবস্থায় কোভিড- ১৯ ফলাফল নেগেটিভ আছে তবে আপনি কিছুটা নিশ্চিন্ত হতে পারেন। কিন্তু আপনার যদি জোরালো সম্ভাবনা থাকার পরও টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ আসে তবুও আপনার সংক্রমণ আছে ভাবাটাই নিরাপদ এবং সেভাবেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিৎ।

এবার আসি অ্যান্টিবডি রক্ত ​​পরীক্ষায়। এর সাহায্যে জানা যাবে কাদের করোনা পজিটিভ, কিংবা আদৌ তাদের করোনা হয়েছিল কিনা। করোনার বিরুদ্ধে যদি তাদের শরীরে এন্টিবডি তৈরী হয়ে থাকে এবং তার ইমিউনিটি যদি পর্যাপ্ত থাকে তবে সে লকডাউন এ না থেকে কাজে যোগদান করতে পারবে। 

সবকিছুই নির্ভর করছে ফলাফল কতটা সঠিক তার উপর। আমাদের খুব দৃঢ়তার সাথে জানতে হবে যে এন্টিবডি টেস্ট কারও ইমউনিটি সম্পর্কে ভুল ফলাফল দেয়না, কারণ যদি এমন দিয়ে থাকে তবে তা সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিবে। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হতে এই মুহূর্তে আমাদের কাছে এই পরীক্ষাগুলির পর্যাপ্ত তথ্য নেই। খুব সীমিত যেসব উপাত্ত পাওয়া যায় সে অনুযায়ী এন্টিবডি পরীক্ষায় সোয়াব  পরীক্ষার চেয়ে কম “ফলস নেগেটিভ”  ফলাফল পাওয়া যায়, তবে এ পরীক্ষায় “ফলস পজিটিভ” ফলাফল এসেছে। এর অর্থ এই যে, আপনার ইমিউনিটি করোনা প্রতিরোধের পর্যায়ে না যাওয়ার পরও এটি আপনাকে ঝুকিমুক্ত দেখাতে পারে। 

সুতরাং, করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য টেস্ট করা যেমন জরুরী তেমনি উপসর্গ দেখা দিলে টেস্ট ফলাফল  নেগেটিভ হলেও তা পজিটিভ ভেবে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকা উচিৎ। করোনা সংক্রান্ত যে কোন প্রশ্ন করে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিন মায়াতে।   

তথ্যসুত্র- ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম

Leave a Reply