নিজের মানসিক সমস্যার কথা আমি অফিসের বসকে কিভাবে জানাবো? - মায়া

নিজের মানসিক সমস্যার কথা আমি অফিসের বসকে কিভাবে জানাবো?

আপনার বসের সাথে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে কথা বলা কঠিন হতে পারে, বিশেষত এই কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যে। কিন্তু মায়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, কথোপকথনের মাধ্যমেই আপনার অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব।  

আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে আপনার বসের সাথে কথা বলাকে  আপনি সর্বশেষ অপশন মনে করতে পারেন। তবে নিজের সুস্থতার জন্য এটি অপরিহার্য। আপনার বসকে আপনার মানসিক অস্বস্তির কথা না জানালে বা আপনার সাথে কি ঘটছে তা না জানালে এটি থেকে পরিত্রাণের জন্য সাহায্য পাওয়াও আপনার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। 

আপনার মানসিক সমস্যা সম্বন্ধে বসকে বলার তিনটি টিপস

১। প্রথমে নিজেকে জানুন এবং তারপর প্রকাশ করুন

আমরা স্বভাবতই শারীরিক কষ্টগুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখি কিন্তু মনের দিকে বরাবরই উদাসীন। আমরা অনেকে নিজেই জানি না যে আমাদের মানসিক সমস্যা আছে কিনা। অনেকে লজ্জা করে প্রকাশ করি না বলে সাহায্য পায় না অন্যের কাছ থেকে। 

যদি আপনার একটানা ঘুমহীনতা , ক্ষুধামন্দা, কিংবা উদ্বিগ্নতা বেড়ে যায় তবে এগুলো মানসিক সমস্যার লক্ষণ। এক্ষেত্রে প্রথমেই আপনি যা করবেন তাহল আপনি কখন, কি কারণে, কি অনুভব করছেন সে সম্পর্কে ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করে একটি নোট তৈরী করুন। এই নোট আপনাকে সাহায্য করবে- 

  • কিভাবে এই উপসর্গ গুলোকে প্রতিহত বা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে।
  • আপনার বসের (ঊর্ধ্বতন) কাছে কিভাবে বিষয়গুলো প্রকাশ করবেন সে সম্পর্কে জানতে। 

আপনি যদি কোন মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শের জন্য যান তবে এই নোটগুলো আপনার কাজে লাগবে। মায়াতেও আমরা এ সংক্রান্ত অনেক প্রশ্ন পেয়ে থাকি। 

২। অনুশীলন করে নিন

অনুশীলন আপনার জড়তা বা অস্বস্তিকে অনেকাংশে কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। বসকে বলার আগে আপনার কাছের কারও সাথে বা আপনার খুব বিশ্বস্ত কোন সহকর্মীর সাথে কথা বলে অনুশীলন করে নিতে পারেন। অথবা- 

  • আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনুশীলন করুন
  •  আপনার কথার সাথে আপনার শারীরিক অভিব্যক্তির মিল আছে কিনা যাচাই করে দেখুন 

আপনার কথার সাথে যদি শারীরিক অভিব্যক্তির সঙ্গতি থাকে তবে আপনি আরও দৃঢ়তার সাথে আপনার মতামত প্রকাশ করতে পারবেন। 

৩। কর্মপরিবেশ নিয়ে খোলাখুলিভাবে বসের সাথে আলোচনা করুন

একটি সুষ্ঠু কর্মপরিবেশের অধিকার শ্রম আইনে সকল কর্মজীবীর ই রয়েছে। সুতরাং, কি কি বিষয়ে আপনার সমস্যা হচ্ছে তা নিয়ে খোলাখুলিভাবে বসকে বলে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে আসতে পারেন। যেমন- ছুটি, কাজের নমনীয় সময় ইত্যাাদি। 

কিন্ত যদি বসের সাথে আপনার সম্পর্ক খুব একটা ভাল না হয়? 

এটি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আবার আমাদের দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কর্মীদের স্পষ্টতই একটা দূরত্ব থাকে এবং কর্মীরা চাকরি হারানোর ভয়ে বসের সাথে কোন বিষয়ে শেয়ার করতে চায় না। 

এক্ষেত্রে সমাধান হল, সরাসরি বসকে কথাটা না বলে বসের সাথে সম্পর্ক ভাল বা সহজে কথা বলতে পারে এমন কোন সহকর্মীর মাধ্যমে সঠিকভাবে বিষয়টি বসের দৃষ্টিগোচরে নিয়ে আসা। এ সমস্যাটি আপনার উৎপাদনশীলতার উপর কিভাবে এবং কতটা বিরুপ প্রভাব ফেলছে তা জানলে অবশ্যই কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সহযোগী হবেন। 

কর্মক্ষেত্রে এরূপ নানাবিধ সমস্যার কারণে আমরা মানসিক সমস্যায় ভুগি কিন্তু লজ্জা বা সঙ্কোচের কারণে বিষয়গুলোকে নিজের মধ্যেই  চেপে রাখি। ফলস্বরূপ, এগুলো বেড়ে গিয়ে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও বিপর্যয় বয়ে আনে। তাই, কাউকে না বলতে পারলেও নির্দ্বিধায় মায়াতে প্রশ্ন করে মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ফেলুন। কারণ, আপনার মানসিক সুস্থতা ই আপনাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ও সুখী রাখতে সাহায্য করবে।   

Leave a Reply