রোজা রাখার ৭টি উপকারিতা যা সবার জানা উচিৎ - মায়া

রোজা রাখার ৭টি উপকারিতা যা সবার জানা উচিৎ

মূলকথা:

  • ইনসুলিন রেজিসটেন্স কমিয়ে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
  • প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।
  • রক্তচাপ, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টেরল লেভেল সঠিক রেখে আপনার হৃৎপিণ্ডকে ভাল রাখতে সহায়তা করতে পারে। 
  • মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলতে এবং নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডারগুলি রোধ করতে পারে। 

ইসলামিক ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র মাস  হিসেবে বিবেচিত হয় রমজান মাস। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এসময় মুসলিমরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া, ধূমপান এবং যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন।  

১,৪০০ বছর আগে মুসলমানদের রমজানে রোজা রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, প্রাচীন গ্রীকরা শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য রোজা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আজকাল কিছু বিশেষজ্ঞ বৈজ্ঞানিকভাবে মানসিক ও শারীরিক উপকারীতা খুঁজে পাওয়ায় মানুষকে রোজা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। মায়াতে ও আমরা এসব বিষয়ে অনেক প্রশ্ন দেখতে পাচ্ছি। মায়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক রোজার অনেক উপকারীতার মধ্যে কয়েকটি এখানে তুলে ধরছি-

১। ইনসুলিন রেজিসটেন্স কমিয়ে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, একটানা রোজা রাখার ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হ্রাস পেয়ে আপনার দেহের ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায় , ফলে এটি আপনার রক্ত ​​প্রবাহ থেকে আপনার কোষে আরও দক্ষতার সাথে গ্লুকোজ স্থানান্তর করতে সহায়তা করে।

২। ওজন নিয়ন্ত্রণ

রোজা ওজন হ্রাস করার একটি নিরাপদ উপায় হতে পারে কারণ অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে বিরতিহীন রোজা – উপবাস অন্যান্য স্বাভাবিক ডায়েটিং এর চেয়ে শরীরের চর্বি পোড়াতে আরও বেশী কার্যকর।একটানা না খেয়ে থাকার ফলে দেহ শর্করার পরিবর্তে শক্তির প্রাথমিক উৎস হিসাবে চর্বিকে ব্যবহার করে।

৩। রোজা বিপাকীয় শক্তি বাড়ায়

রোজা আপনার পাচনতন্ত্রকে বিশ্রাম দেয় এবং এর ফলে এটি আরও কার্যকরভাবে ক্যালরি পোড়াতে সহায়তা করে। যদি আপনার হজম শক্তি দুর্বল হয়, তবে এটি খাদ্য বিপাকে এবং চর্বি পোড়াতে আপনার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। একটানা না খেয়ে থাকার ফলে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়, আপনার পরিপাকতন্ত্র ভালভাবে কাজ করে এবং এভাবে আপনার বিপাকীয় শক্তিও বেড়ে যায়। 

৪। রোজা ক্ষুধামন্দা রোধ করেঃ

একবার ভাবুনতো! আপনি যদি প্রতি ২-৪ ঘণ্টা পরপর খাবার খান তাহলে সত্যিকার অর্থে আপনার ক্ষুধা লাগবে কিভাবে? 

রোজায় অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে আপনার শরীরে কিছু হরমোন নিঃসরণ হয় যা আপনাকে সত্যিকার ক্ষুধা অনুভব করতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত মোটা যারা তারা খাওয়ার পরও অনেকসময় বুঝতে পারে না তাদের পেট ভর্তি হয়েছে নাকি। 

রোজা রাখার ফলে শরীরের হরমোনগুলো সঠিক মাত্রায় নিঃসরণের ফলে ইফতারের পর আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার পেটভর্তি হয়েছে কিনা। 

৫। রোজা আপনার খাদ্যাভাস ঠিক করে

যারা সঠিক খাদ্যাভাসের অভাবে ভুগছেন এবং যারা কাজ এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারের কারণে সঠিক খাদ্যাভাস স্থাপন করতে অসুবিধা বোধ করছেন তাদের জন্য রোজা একটি সহায়ক অনুশীলন হতে পারে। 

এর মাধ্যমে আপনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ক্যালরি বুঝে ডায়েট প্লান করে খাবার খেতে পারেন এবং বাকিটা সময় আপনি না খেয়ে থাকবেন। এর ফলে আপনার বাজে খাবার যেমন- ফাস্ট ফুড, স্নাক্স ইত্যাদি খাবার অভ্যাসটাও পরিবর্তিত হয়ে যাবে। 

৬। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি

রোজা রাখার ফলে মস্তিষ্ক থেকে নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) নামক একটি প্রোটিনের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। 

বিডিএনএফ মস্তিষ্কের স্টেম সেলগুলিকে নতুন নিউরনে রূপান্তরিত করে সক্রিয় করতে, এবং স্নায়ুস্বাস্থ্যের উন্নতি করে এমন আরও অনেক কেমিক্যাল নিঃসরণ করে। এই প্রোটিন আপনার মস্তিষ্কের কোষগুলিকে আলঝাইমার এবং পার্কিনসন রোগের সাথে সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলি থেকেও রক্ষা করে।  

৭। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

রোজা রাখার ফলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় কারণ এটি ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে, প্রদাহজনিত অসঙ্গতিগুলো দূর করে এবং শরীরে ক্যান্সার কোষ তৈরিতে বাঁধা প্রদান করে।  

রোজা রাখার ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গ বিশ্রাম নিতে পারে। ফলে রোগ প্রতিরোধে এরা আরও দ্রুত এন্টিবডি তৈরিতে ভুমিকা রাখে। 

এছাড়াও, খালি পেটে এবং সতেজ মস্তিস্কে আপনি আপনার কাজ এবং আশেপাশের পরিবেশে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারবেন। আপনি দীর্ঘমেয়াদী কোন রোগে আক্রান্ত থাকলে আমার আগের লেখাটি পড়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে রোজা রাখতে পারেন। এছাড়াও রোজায় সঠিক ডায়েট প্লান এবং শারীরিক ও মানসিক যে কোন সমস্যায় সমাধান পেতে মায়া অ্যাপ তো আছেই। রোজা রাখুন, সুস্থ থাকুন এবং মায়ার সাথেই থাকুন।   

Leave a Reply