খাদ্য সংরক্ষণের সঠিক উপায় - মায়া

খাদ্য সংরক্ষণের সঠিক উপায়

করোনা সংক্রমণ এড়াতে আমরা সবাই এখন ঘরে অবস্থান করছি এবং খাবার সংরক্ষণ করে রাখছি। আমেরিকান ড্রাগ এন্ড ফুড এসোসিয়েশন (এফ ডি এ) ফুড পয়জনিং থেকে বাঁচতে খাবার সংরক্ষণ রান্নার ৪ টি সহজ ধাপ উল্লেখ করেছে ধাপগুলো হল- পরিষ্কার করা, আলাদা করা, রান্না করা এবং সংরক্ষণ করা।

পরিষ্কার করা:

  • খাবার সংরক্ষণের আগে এবং পরে, বাথরুম ব্যবহার করার পরে, ডায়াপার পরিবর্তনের পর এবং পোষা প্রাণীকে ধরার পর কমপক্ষে ২০ সেকেন্ডের জন্য আপনার হাত গরম পানি এবং সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • খাবার প্রস্তুত করার পরে আপনার কাটিং বোর্ড, ছুরি, বাসনগুলি, কিচেন কাউন্টার টপ প্রতিটি সাবান ও গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ও মুছে নিন। 
  • রান্নাঘরের কাউন্টার টপ পরিষ্কার করার জন্য কাগজের তোয়ালে ব্যবহার করে ফেলে দিন অথবা  কাপড়ের তোয়ালে ব্যবহার করলে এগুলি প্রায়শই গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 
  • শাক সবজি ও ফলমূল খোসা সহ অথবা খোসা ছাড়া সবই পানি ছেড়ে তার নিচে কিছুক্ষণ ধুয়ে নিন। ফার্মের পণ্য গুলো পরিষ্কার ব্রাশ দিয়ে ডলে ধুয়ে ফেলতে পারেন। 
  • প্যাকেটজাত বা বোতল জাত পণ্য খোলার পূর্বে জীবাণুনাশক দিয়ে ভেজানো কাপড় দিয়ে মুছে পরিষ্কার করে নিন।  

আলাদা করা:

  • আপনার শপিং কার্ট, বাজারের ব্যাগ এবং ফ্রিজের মধ্যে অন্য খাবার থেকে কাঁচা মাংস, হাঁস, সামুদ্রিক খাবার এবং ডিম আলাদা রাখুন।
  • কাঁচা মাংস, হাঁস-মুরগি এবং সামুদ্রিক খাবারের জন্য পৃথক একটি কাটিং বোর্ড ব্যবহার করুন।
  • পূর্বে কাঁচা মাংস, হাঁস-মুরগি, সামুদ্রিক খাবার বা ডিম রাখা কোনও প্লেটে প্লেটটি  সাবান এবং গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার পূর্বে কক্ষনো রান্না করা খাবার রাখবেন না।
  • মেরিনেট করা খাবার রান্না করা ব্যতীত সরাসরি খাবারে ব্যবহার করবেন না। 

রান্না করা:

  • মাংস, হাঁস, সামুদ্রিক খাবার এবং ডিম জাতীয় খাদ্যগুলি  ব্যক্টেরিয়া মুক্ত করতে হলে সঠিক তাপমাত্রায় এগুলো রান্না করতে হবে। 
  • ডিম ভালভাবে সিদ্ধ করে খান। যেসব খাবারে ডিম ভালভাবে সিদ্ধ করে নেওয়া হয় না সেসমস্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 
  • মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না করার সময়, খাবারটি ঢেকে রাখুন, ঘোরান এবং নেড়ে দিন যেন সবজায়গায় ভালমত রান্না হয়। যদি কোনও টার্নটেবল না থাকে, রান্না করার সময় একবার বা দু’বার নিজেই হাত দিয়ে ডিশটি ঘোরান। নির্ধারিত টাইমিং অনুযায়ী বেক হবার পরও খাবার টি সিদ্ধ হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা পর খাবারটি ওভেন থেকে বের করুন।  
  • গরম করার সময় সস, স্যুপ এবং গ্রেভি ফুটানো পর্যন্ত গরম করুন। 

সংরক্ষণ করা:

  • রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা ৪০ ° ফা বা তার নিচে এবং ফ্রিজারের তাপমাত্রা ০ ° ফা বা তার নীচে আছে নাকি তা নিশ্চিত করুন। 
  • রান্না বা  কেনার ২ ঘন্টাের মধ্যে মাংস, হাঁস, ডিম, সামুদ্রিক খাবার এবং অন্যান্য পচনশীল দ্রব্যগুলো ফ্রিজ বা হিমায়িত করুন। বাইরের তাপমাত্রা ৯০ ° ফা এর বেশি হলে ১ ঘন্টার মধ্যে হিমায়ন করুন। 
  • কক্ষনোই খাবার ডিফ্রস্ট করার জন্য স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফেলে রাখা উচিৎ নয়। খাবার ডিফ্রোস্ট করার জন্য তিনটি নিরাপদ উপায় রয়েছে: রেফ্রিজারেটরে, ঠান্ডা পানিতে এবং মাইক্রোওয়েভে। ঠাণ্ডা পানিতে বা মাইক্রোওয়েভে গলানো খাদ্য সাথে সাথে রান্না করে ফেলতে হবে।
  • সর্বদা মেরিনেট করার জন্য রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করুন।  
  • ফ্রিজে বেঁচে থাকা খাবার ছোট ছোট পোটলায় না রেখে একসাথে একটি বক্সে ঢুকিয়ে রাখুন এতে অন্যন্য খাবারগুলি দ্রুত ঠাণ্ডা হবে। 

সুস্থ থাকার জন্য নিরাপদ খাবারের কোন বিকল্প নেই। তাই আসুন আমরা সবাই খাদ্যদ্রব্যগুলো সঠিক উপায়ে রান্না এবং সংরক্ষণ করি।  

Leave a Reply