করোনা পজিটিভ হলে করনীয় কি? - মায়া

করোনা পজিটিভ হলে করনীয় কি?

আপনার কভিড-১৯ পজিটিভ হতে পারে যদি আপনার জ্বর (১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা এর বেশি), গলা ব্যাথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট  ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে এবং বিগত ১৪দিনের মধ্যে নিজে বিদেশ ভ্রমণ করে এসেছেন বা এমন অন্য কারো সংস্পর্শে এসে থাকলে, বিলম্ব না করে টেস্ট করে নিতে হবে। এ সংক্রান্ত উপসর্গ দেখা দিলে অতিসত্বর সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করুন। এক্ষেত্রে অবশ্যই অন্তত ৬ ফুট দূরত্বে থাকুন অন্যদের থেকে, আলাদা থাকা এক্ষেত্রে শ্রেয় এবং মাস্ক ব্যবহার করুন সর্বদা। 

মায়ার ডাক্তারের মতে ভাইরাস এর জন্য সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা বা ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি।সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা পরীক্ষাধীন রয়েছে যা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ গবেষণা করছে। তাই উপসর্গ অনুযায়ী রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে রেখে সাপোর্টিভ কেয়ারের ব্যবস্থা করার প্রয়োজন হতে পারে।

এক্ষেত্রে আইসোলেশন বা রোগীকে আলাদা রাখা বিশেষ জরুরী। কেননা এটি আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য সুস্থ ব্যক্তির কাছে ছড়াতে পারে। কাজেই এই ভাইরাস যাতে সংক্রমিত হয়ে পরিবারের বা অন্য কাউকে আক্রান্ত করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে, হাঁচি কাশির মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। করোনা ভাইরাস নিয়ে খুব বেশি আতংকিত হবার প্রয়োজন নেই, যেটি প্রয়োজন তাহলো সচেতনতা।

কিছু সাধারন হাইজিন, পরামর্শ মেনে চললে এই রোগ সংক্রমণ থেকে অন্যরা রক্ষা পেতে পারবে। যেমন:

  • জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসমাগম পরিহার করা, বাহিরে বের হলে গনপরিবহণ এড়িয়ে চলা। 
  • বাহিরে বের হলে মাস্ক পরিধান করা, মানুষের সাথে করমর্দন, আলিঙ্গন বা এধরনের সংস্পর্শ বন্ধ রাখুন।
  • বারবার সাবান বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করে হাত মুখ ধৌত করা অথবা ৭০% অ্যালকোহল বেসড স্যানিটাইজার সাথে রাখুন। 
  • হাত না ধুয়ে চোখ, মুখ, নাক স্পর্শ না করা।
  • অসুস্থ পশুপাখির সংস্পর্শে না আসা।
  • প্রচুর পানি পান করা এবং ভিটামিন সি যুক্ত ফলমূল, শাকসবজি বেশি খাওয়া; মাছ, মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে।
  • হাঁচি কাশি দেয়ার পরে, রোগী সেবা দেয়ার পরে, মলত্যাগের পরে, খাবার খাওয়ার আগে এবং রান্নার আগে হাত ধুয়ে নেয়া।

অনেকক্ষেত্রে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসাতে রোগী সুস্থ হয়ে উঠেন, আবার অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থার অবনতি হয়। কারো উপসর্গ দেখা দিলে প্রথমত তা টেস্ট করে নিতে হবে, উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো লক্ষ্য রেখে সংক্রমণ অন্যের মধ্যে না ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক হতে হবে, পর্যাপ্ত তরল, পানি পান করতে হবে। রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী কিছু ওষুধ সেবন করতে হবে। শ্বাসকষ্ট বা কোন উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। 

তবে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতাই একমাত্র সমাধান এখন আমাদের কাছে। করোনা সংক্রান্ত যেকোন বিষয়ে জানতে মায়ার হটলাইনে কল করুন। এই মহামারী মোকাবিলায় মায়া আপনার পাশে রয়েছে।

Leave a Reply