ঘর বাড়ি জীবাণুমুক্ত রাখার উপায় - মায়া

ঘর বাড়ি জীবাণুমুক্ত রাখার উপায়

  • নিরাপদ ও সুস্থ থাকার জন্য ঘরবাড়ি জীবাণুমুক্ত রাখা খুব জরুরী।
  • বহুল ব্যবহৃত জিনিস এবং বেশি স্পর্শিত পৃষ্ঠতল পরিষ্কার করতে হবে বারবার।
  • প্রথমে সাধারণভাবে পরিষ্কার অতঃপর সতর্কতার সাথে জীবাণুনাশক ব্যবহার।   

করোনা আতঙ্কে সবাই এখন ঝুঁকেছেন ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার উপর। নিজেকে নিরাপদ রাখতে এটি খুবই জরুরী। অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে বাজার থেকে জীবাণুমুক্তকরণ দ্রব্যগুলো কিনে ঘর ভরিয়ে ফেলেছেন। কেউ কেউ সংক্রমণ এড়াতে কাজের বুয়াকে ছুটি দিয়ে নিজেই নেমেছেন যুদ্ধ জয়ে।চলুন জেনে নেই এই  যুদ্ধ জয়ের খুটিনাটি সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপুর্ণ তথ্য।      

প্রথমেই ঘরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে মনোযোগী হন: যে জায়গাগুলোতে ঘরের সবাই যাতায়াত করে এবং প্রায়শই স্পর্শ করে এমন পৃষ্ঠগুলি” অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করতে হবে। 

জীবাণুমুক্ত করার উপায়: জীবাণুমুক্ত করা সবসময়ই আপনার সাধারণ পরিষ্কার পরিচছন্নতা রুটিনের অংশ হওয়া উচিত । শুধু করোনা ভাইরাস মোকাবেলার জন্য নয় সব ধরনের ফ্লু এবং অসুখ বিসুখ থেকে বাঁচতে অথবা পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য আপনার ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখাটা খুব জরুরী। 

২০ লিটার পানিতে ৫  চা চামচ ব্লিচিং পাউডার দিয়ে মিশ্রণ তৈরী করে এটি স্প্রে করে বা একটি পরিষ্কার মাইক্রোফাইবার কাপড় ভিজিয়ে তা দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানগুলো মুছে ফেলতে হবে। ভাল হয় যদি দ্রবণটি দ্বারা কয়েক সেকেন্ড স্থানগুলো ভেজা থাকে তাহলে জীবাণু বা ভাইরাস ধবংসে এগুলো কাজ করতে পারবে।  

যে ৭ টি জিনিস অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করবেন: আপনি যে জিনিসগুলো অনেক বার স্পর্শ করেন সেগুলো সম্পর্কে ভাবুন। সাধারণত যে জিনিসগুলো সবাই ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে তাদের মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।তাই নিম্নোক্ত জিনিসগুলোর দিকে বেশি করে মনযোগী হন: 

মুঠোফোন: ইন্টারনেটের বদৌলতে আপনি কথা বলা ছাড়াও দিনে অসংখ্যবার আপনার মোবাইল স্পর্শ করেন কখনও পরিষ্কার হাতে কখনও অপরিষ্কার হাতেও। এমনকি অনেকের টয়লেটেও মুঠোফোন ব্যবহারের অভ্যাস আছে যা মোটেও ঠিক নয়। যেহেতু অন্যান্য ফ্লু এবং করোনা ভাইরাস বিভিন্ন পৃষ্টতলে অনেকক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে তাই এটি জীবাণুমুক্ত করা খুব জরুরী। প্রস্তুতকারকের নির্দেশাবলী দেখে সে অনুযায়ী এটিকে জীবাণুমুক্ত করুন।  

রিমোট কন্ট্রোল: এটি সবচেয়ে বেশি স্পর্শকৃত এবং ঘরের কম পরিষ্কার করা জিনিসগুলোর মধ্যে একটি। তাই এটির দিকে আপনার নজর দিতে হবে।     

গোসলখানা: এটি আরেকটি স্থান যা আমরা শেয়ার করে ব্যবহার করি। কোন অসুস্থ ব্যক্তি সেখানে গেলে তার স্পর্শ করা স্থানগুলোর সংস্পর্শে এসে অন্যরাও সংক্রমিত হতে পারে। আর তাই, এ স্থানটির দিকে বেশি মনোযোগী হতে হবে। সবার আলাদা টাওয়েল ব্যবহার করতে হবে। 

টেবিল: রান্নাঘরের কেবিনেট,কিচেন কাউন্টার ,খাবার টেবিল, প্লে-এরিয়া টেবিল এবং পড়ার টেবিলের পৃষ্ঠ অনেকের সংস্পর্শে আসে তাই এই স্থানগুলো জীবাণুমুক্ত করা খুব জরুরী।

কম্পিউটার: এটি করার আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশাবলী দেখে নিন। তবে, আপনি মাইক্রফাইবার যুক্ত কাপড়ে জীবাণুনাশক স্প্রে করে তা দিয়ে কি বোর্ড এবং মনিটরের স্ক্রিন মুছে নিতে পারেন। 

খেলনা পশুপাখি: যেমন টেডি বিয়ার অনেকেই নিজের বেডরুমে বা বিছানায় রাখেন যদি ধোয়া সম্ভব হয় ধুয়ে ফেলুন। যদি এটি ধুয়ে ফেলা না যায় তবে, তার পৃষ্ঠের ভাইরাসগুলি যাতে মারা যায় তার জন্য কয়েক দিন সবার থেকে দূরে রাখুন।

চাদর, কম্বল, তোয়ালে: এগুলো গরম পানিতে রং নিরাপদ ব্লিচ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলা উত্তম।মেঝে, কিচেন টপ, টেবিলের উপর ইত্যাদি স্থান স্বাভাবিক ভাবে পরিষ্কার করে এরপর জীবাণু-নাশক ব্লিচ দিয়ে মুছে ফেলা উত্তম। 

এসব কাজ করার সময় সতর্কতা স্বরূপ অবশ্যই হাতে গ্লাবস পরিধান করা উচিৎ।পরিষ্কারের কাজ শেষ হলে গ্লাবসটি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে ভুলবেন না। আর, এই ডাস্টবিনটি যেন ঢাকনা যুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাসাতে নিরাপদে থাকুন। লাইফস্টাইল সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে জানতে মায়াতে প্রশ্ন করে এক্সপার্টদের পরামর্শ নিন। আমরা আপনার পাশে আছি।