কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলোতে করণীয়

COVID-19 একটি শ্বাসযন্ত্রের রোগ। সেলফ কোয়ারেন্টাইনে আপনার যদি এসব লক্ষণগুলি যেমন- জ্বর, কাশি, বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট এগুলোর মধ্যে কোনও একটি অনুভত হয় তবে আপনার কী করা উচিত সে সম্পর্কে পরামর্শের জন্য আপনি প্রথমে যে কাজটি করবেন তা হল আই ই ডি সি আর প্রদত্ত হটলাইনে ফোন করবেন। 

কখনই মুখে মাস্ক পরে অথবা লক্ষণ গোপন করে হাসপাতালে যাবেন না। কারণ আপনি যদি এই ভাইরাস এ ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে যাওয়ার পথে এবং ওই হাসপাতালের ডাক্তার নার্স সহ আরও অনেকের জীবন ই আপনি ঝুঁকির মুখে ফেলে দিবেন। আপনি যেটা করতে পারেন তা হল আপনি মায়ার ডাক্তারকে কল করে প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপশমের জন্য সেবা নিতে পারেন। এতে আপনার আশেপাশের সবাই নিরাপদ থাকবে।   

এর পূর্বের একটি লেখায় আমি লিখেছিলাম কারা কোয়ারেন্টিং করবেন সে বিষয়ে।  

যেভাবে এই ১৪ দিন কাটাবেন: করোনাভাইরাস আমাদের কিছু বিষয় শিখিয়েছে যেমন- কিভাবে মুখে হাত না দিয়ে থাকা যায়, কিভাবে জিনিসপত্র খরচে মিতব্যায়ী হওয়া যায়। সেলফ কয়ারেন্টিং এর প্রয়োজন অনুভুত হওয়ার সাথে সাথেই যে চিন্তাগুলো আপনার মাথায় আসবে তা হল এই কয়েকদিন কি খাব, কিভাবে নিজের যত্ন নিব এবং কিভাবে সময় কাটাবো? 

খাবার,ঔষধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যা আপনার প্রয়োজন তা পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতায় অথবা অনলাইনে অর্ডার করুন। এবং যথেষ্ট পরিমাণ সতর্কতা অবলম্বন করে তাদের সংস্পর্শ ছাড়াই জিনিসগুলো সংগ্রহ করুন। কোনভাবেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাজারে সঙ্কট সৃষ্টি করবেন না।   

আপনার পণ্যটি পৌঁছানোর আগে  দরজার নব দরজার আশেপাশের এরিয়া অ্যালকোহল যুক্ত দ্রবণ দিয়ে পরিষ্কার করুন।  আপনার ত্রাণকর্তা যখন পণ্যগুলি নিয়ে আসেন, তখন তাদের আপনাকে কল করতে বলুন বা আপনার দরজার বাইরে আইটেমগুলি ফেলে দেওয়ার জন্য একটি সাইন আউট রেখে যান। কেবলমাত্র তিনি নিরাপদ দুরত্বে চলে যাবার পর আপনি আপনার জিনিসগুলো সংগ্রহ করবেন যেন  ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তিতে এই ভাইরাস ছড়িয়ে না যায়। স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে নিজের যত্ন নিবেন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরী। আপনার সৃষ্ট বর্জ্যগুলোকে যথাসম্ভব শুকনো ও ভেজা এই ২ ভাগে ভাগ করে ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ২টি ট্রাশ ব্যাগে ভরে রাখুন। কোয়ারেন্টিন শেষে আপনি যদি সংক্রমিত না হয়ে থাকেন তবে উপযুক্ত সতর্কতা যেমন- হাতে গ্লাবস, মুখে মাস্ক পরে যথাস্থানে ফেলে দিবেন।      

মানসিক স্বাস্থ্য: ১৪ দিন বদ্ধ ঘরে নিজেকে বন্দী না ভেবে এটিকে একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান। যে কাজগুলো আপনি অনেকদিন থেকে করতে চাচ্ছিলেন কিন্তু সময়ের বা পরিবেশের অভাবে করে উঠতে পারেন নি সেগুলো করতে পারেন। নতুন কিছু শিখতে পারেন অনলাইনে। যে বইগুলো পড়বেন বলে ভেবে রেখেছিলেন কিন্তু পড়তে পারেন নি সেগুলো পড়ুতে পারেন। মানসিক শান্তির জন্য প্রার্থনা করতে পারেন। ঘরে বসে যোগব্যায়াম করতে পারেন।একাকী মনে হলে প্রিয়জনের সাথে ফোনে কথা বলতে পারেন। মানসিক যে কোন সমস্যায় মায়ার মনো সামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আতঙ্কিত না হয়ে প্রফুল্ল থাকার চেষ্টা করুন। 

পরিবারের অন্য সদস্যদের করনীয়: যদি আপনি একটি পরিবারের সাথে থাকেন তবে তাদেরও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। আপনি আপনার রুম থেকে শুধুমাত্র বাথরুম এবং খাবারের জন্য বের হবেন এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে কাজটি সম্পন্ন করার পর এর মাঝে আপনি যে যে জিনিস এবং স্থান স্পর্শ করবেন সেগুলো জীবাণুমুক্ত করবেন। 

আপনি যদি বেড্রুম শেয়ার করে থাকেন তবে আপনার পার্টনার কেও  তবে কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। মাস্ক ব্যবহার করুন এবং নিরাপদ দূরত্বে থাকুন। 

আপনি যদি কারও যত্ন নেওয়ার দায়িত্বে থাকেন যেমন- আপনার সন্তান, আপনার মা বাবা তবে তাদেরকে এই কিছুদিনের জন্য অন্য কারও দায়িত্বে রাখুন। আপনার বাচ্চা যদি বুকের দুধ পান করে তবে সে বিষয়ে করনীয় সম্পর্কে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রদত্ত নির্দেশনা যেমন- বারবার সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, হাত দিয়ে নাক, মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা, হাঁচি – কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা,ইত্যাদি গুলো মেনে চলুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। ছোট খাট অসুস্থতায় হাসপাতালে ভীড় না জমিয়ে মায়ার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।