মহামারী আতঙ্ক? এই ৫টি টিপস আপনার মানসিক প্রশান্তি ফিরে পেতে সাহায্য করবে

কোভিড-১৯ সবার কাছে একটি আতঙ্কের নাম এখন। সবাই যার যার অবস্থান থেকে আতঙ্কিত। আর আতঙ্কিত হয়ে আমরা অনেক কিছুই করছি যা করা আদৌ আমাদের উচিৎ নয়। এই ভাইরাস শারিরীক সমস্যার পাশাপাশি মানসিকভাবেও সকলকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। 

আসুন জেনে নেই  কিভাবে আমরা আমাদের মানসিক প্রশান্তি ফিরে পেতে পারি- 

পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিন

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশী জরুরী হল নিজেকে এবং আপনার চারপাশের মানুষকে সচেতন করা। সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)  প্রদত্ত নির্দেশনাগুলো বোঝান। আপনার অফিসের সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা গুলো বোঝান।আপনার সিনিয়রদেরকে বাসা থেকে কাজ করার গুরুত্বটুকু বোঝানোর সর্বোচচ চেষ্টা করুন।নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আপনার প্রতিবেশীদের সচেতন করুন আপনার এলাকায় যেন সবাই নিরাপদ থাকে কারণ আপনার আশেপাশের মানুষ নিরাপদ না থাকলে আপনিও নিরাপদ নন। আপনার তরফ থেকে সর্বোচচ চেষ্টাটুকু করুন। এবং নিজেকে বোঝান যে আপনি আপনার তরফ যতটুকু করার করেছেন। 

সর্বদা আপডেটেড থাকুন:    

জরুরী অবস্থায় সর্বদা আপডেটেড থাকার কোন বিকল্প নেই এটি জানা গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য আপনাকে সারাদিন নিউজ দেখার প্রয়োজন নেই এতে আপনার মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে। শুধুমাত্র বিশ্বস্ত একটি বা ২টি মাধ্যমে খোঁজ রাখুন। 

নিজের সুরক্ষা এবং সচেতনতার অংশ হিসেবে আপনি যদি সারাদিনই খবরের শিরোনাম, ফেসবুস, টুইটারে চোখ রাখেন তবুও সেটি আপনার করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনাকে রোধ করতে পারবে না। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার উদ্বেগ শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা তো সম্ভব নয় তবে সারাদিন খবর না দেখে মাঝে মাঝে বিরতি নিয়ে আপনার ভাললাগার কাজগুলো করে দেখতে পারেন এটি আপনার উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করবে।    

ঘুমের সাথে কোন আপোস নয়: 

যদিও এই ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে এখনও অনেক গবেষণা বাকি রয়েছে তবুও একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, যারা সঠিক পরিমাণ বিশ্রাম নিয়েছে তারা তুলনামূলক দ্রুত আরোগ্য লাভ করেছে। 

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক কিছু সুস্থ মানুষের নাকে সাধারণ ফ্লু ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে দেখেছেন যে, তাদের মধ্যে যারা পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমিয়েছেন তারা রোগাক্রান্ত হন নি। 

পুষ্টিকর খাবার এবং ব্যায়াম:

 শরীর সুস্থ রাখাতে পুষ্টিকর খাবার এবং ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। নিয়মিত শরীরচর্চা আপনার হার্টকে সুস্থ রাখে এবং আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আপনার উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমাতেও এর ভুমিকা অনস্বীকার্য। 

শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার, লিন প্রোটিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার  আপনাকে এসময় সুস্থ থাকতে সহায়তা করবে।ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত তেল সমৃদ্ধ খাবার, প্রসেসড ফুড,মিষ্টিজাতীয় খাবার  আপনার শারিরীক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর। 

হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা:

আপনাকে এ সত্যটি মেনে নিতে হবে যে, যখন পুরো সমাজ ই সংক্রমিত আপনি একা পুরো এলাকা জীবাণুমুক্ত করতে পারবেন না। কিন্তু কিছু সচেতনতা আপনাকে বিপদমুক্ত রাখতে এবং আপনার উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করবে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যাক্তির শ্বাস, প্রশ্বাস, হাঁচি, কাশির সময় নির্গত ড্রপলেটের মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে ৩ ফিট দূরত্বের মানুষকেও সংক্রমিত করতে পারে। তাই নিয়মিত বারাবার সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধৌত করুন অথবা ৭০% অ্যালকোহল সমৃদ্ধ স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। 

আপনার মানসিক সমস্যায় সাহায্যের জন্য মায়াতে প্রশ্ন করে আমাদের মনোসামাজিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সচেতন হন, সুস্থ থাকুন।