করোনা নিয়ে সকল প্রশ্নের উত্তর

করোনা বিষয়ক সব প্রশ্নের উত্তর আছে এখানেই!

 মায়ার প্লাটফর্মে করোনা নিয়ে গ্রাহকরা প্রচুর প্রশ্ন করছেন যার উত্তর দিয়েছেন মায়ার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ । চলুন সঠিক পরামর্শগুলো জেনে নেই-

প্রশ্ন-  সাধারণ ফ্লু এবং করোনা ভাইরাসের উপসর্গ মোটামুটি কাছাকাছি। আমার প্রশ্ন হল আমি কিভাবে বুঝব যে আমার সাধারণ ফ্লু হয়েছে নাকি করোনায় আক্রান্ত হয়েছি ? 

উত্তরঃ ভাইরাল ফ্লু এবং করোনা ভাইরাস এর লক্ষণগুলো কিছুটা কাছাকাছি। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে এই দুটি অসুখ এর মধ্যে আলাদা করা যায়। ভাইরাল ফ্লু হলে প্রথম ৩ দিন জ্বর বেশি থাকবে। এর সাথে সর্দি, নাক দিয়ে পানি পরা, দুর্বলতা, শরীর এ ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা থাকবে। অনেক সময় শুকনো কাশি দেখা যায় এবং শরীর এ ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব থাকে। তবে ৩-৫ দিনের মধ্যে এর লক্ষণ এর তীব্রতা কমতে শুরু করে। করোনা ভাইরাস এ আক্রান্ত হলেও জ্বর থাকবে। সাথে শ্বাসকষ্ট থাকতে পারে। তাছাড়া কাশি থাকে। ৩-৫ দিনের পরেও এর তীব্রতা থাকতে পারে। বিশেষ করে ৫ দিনের পর শ্বাসকষ্ট বেশি দেখা দেয়। তাছাড়া বুক ব্যথা, প্রসাব এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমতাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা নিতে হবে।  

প্রশ্ন – করোনায় আক্রান্ত হলে কি মৃত্যু নিশ্চিত? কোন উপায়েই কি বাঁচা সম্ভব না?

উত্তরঃ এটা ভুল ধারণা,করোনা আক্রান্ত হলেই মৃত্যু হবে এমন নয়। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এমন সংখ্যাই বেশি, তাই জরুরী হলো, উপসর্গ দেখা দিলে যথা সময়ে ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করা। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা এক্ষেত্রে বিশেষ জরুরী।    

প্রশ্ন – করোনা ভাইরাস নাকি ২২°-২৭° ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চলে আসলে মারা যায়, কারণ এটি গরম অঞ্চলে বাস করে না। এছাড়াও গরম পানি খেলে এবং সূর্যের আলোয় থাকলে করোনা ভাইরাস কার্যকর হতে পারে না। এই তথ্যটি কতটুকু সত্য? 

উত্তরঃ করোনা ভাইরাস গরম অঞ্চলে বাস করে না বা বিস্তার লাভ করে না হয় এটি একটি ভুল ধারণা . গরম পানি খেলে বা সূর্যের আলোতে থাকলে করোনা হবে না এটাও সঠিক নয় তবে সুস্থ থাকতে আপনি গরম পানি খেতে পারেন।

প্রশ্ন – অনেকের কাছে শুনছি যে বাজারে সার্জিক্যাল মাস্ক পাওয়া যায় তা করোনা প্রতিরোধে যথেষ্ট নয়। কথাটি কতটুকু সত্য?

উত্তরঃ করোনা ভাইরাস অন্যান্য ফ্লু ভাইরাস এর চেয়ে ভারী হওয়ায় এটা বাতাসে বেশি সময় থাকে না। সেই জন্য করোনা ভাইরাস এর সুরক্ষায় এখনও সবাইকে মাস্ক পরতে বলা হয়নি। শুধু যারা অসুস্থ বা যারা অসুস্থ রোগীর পরিচর্যা করবেন তারাই মাস্ক পরবেন। এবং যারা বয়স্ক বা যাদের ডায়াবেটিস, হাই প্রেসার বা কিডনি রোগে ভুগছেন তারা বাহিরে গেলে মাস্ক পরতে পারেন। বেশি গুরুত্বপুর্ণ হল বারবার হাত-মুখ সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলা, হাঁচি দিলে কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে হাঁচি দেওয়া, যেখানে সেখানে কফ-থুতু না ফেলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা। করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি এবং যারা সেবা দিচ্ছে তাদের জন্য N95 respiratory mask ব্যবহার করতে হবে। তবে ব্যাক্তিগত সুরক্ষার জন্য মাস্ক পরতে চাইলে সার্জিক্যাল মাস্কগুলাই যথেষ্ট। 

প্রশ্ন – শুনেছি করোনার কোন চিকিৎসা নাকি আবিষ্কৃত হয় নি। তাহলে, হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন করে আসলে কি ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়?

উত্তরঃ কোয়ারেন্টাইন অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথক থাকা। তবে কোয়ারেন্টাইন মানে এই নয় যে, আপনাকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়া হলো। যদি কোন ব্যক্তির করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়,  তাহলে তাকে জনবহুল এলাকা থেকে দূরে রাখতে এবং ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত ১৪ দিন আলাদা থাকতে বলা হয়।সংক্রমণ ঠেকাতে এটি করা হয়ে থাকে। কেননা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে সুস্থ মানুষও সংক্রমিত হতে পারে । আর এই সময়ের মধ্যে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিয়মিত সময়ে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা ও জ্বর কমাতে ওষুধ গ্রহণসহ ভালো স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন করানো হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ ভাগই নিজে নিজে ভাল হয়ে যায়।

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে এমনটি নিশ্চিত হলে সেক্ষেত্রে রোগীকে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেটিকে আইসোলেশন বলে। এটিও সংক্রমণ না ছড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা, উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। জরুরী উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাদের হাসপাতালে রাখা হয়। 

হাসপাতালে নেয়ার পর অবশ্যই তাকে “বেরিয়ার নার্সিং” বা যারা তার দেখাশোনা করবে যা চিকিৎসা সেবা দেবে তারা সব ধরণের সতর্কতা ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েই সেটি করতে হবে। কারণ তার মধ্যে যখন উপসর্গ দেখা দেয়, তখন তার থেকে অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়ায়। এক্ষেত্রে হাসপাতালে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হয়। 

প্রশ্ন – অনেক বলছেন যে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের পরীক্ষা নাকি নিজে নিজেই করা যায়। এর উপায় নাকি পরিচ্ছন্ন পরিবেশে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে সেটাকে দশ সেকেন্ডের কিছুটা বেশি সময় ধরে আটকে রাখতে হবে।যদি এই দম ধরে রাখার সময়ে আপনার কোনো কাশি না আসে, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব না হয়, মানে কোনো প্রকার অস্বস্তি না লাগে, তার মানে আপনার ফুসফুসে কোনো ফাইব্রোসিস তৈরি হয়নি অর্থাৎ কোনো ইনফেকশন হয়নি, আপনি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত আছেন। এই পদ্ধতিটি কি আদৌ সঠিক?

উত্তরঃ এই জাতীয় কোন গাইড লাইন এখন পর্যন্ত দেয়া হয় নি।  lung fibrosis সাধারনত lung function test , chest x-ray and CT scan সহ কিছু পরীক্ষা করে ডাক্তার নিশ্চিত করে থাকেন। নিজে নিজে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার কোন বিষয় নেই। করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণের পরীক্ষা বাংলাদেশে কেন্দ্রীয়ভাবে শুধুমাত্র আইইডিসিআর এ করা হয়ে থাকে। কেননা এই পরীক্ষা করার জন্য বিশেষ পারদর্শিতা সহ, কিছু বিশেষ সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। নাক, গলার ভিতর থেকে অভিজ্ঞ কর্মী দ্বারা স্যাম্পল সংগ্রহ করে, তা বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে (RT-PCR) করোনা ভাইরাসের উপস্থিতির পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে এবং সঠিকভাবে করা না গেলে রোগ নির্নয়ে যেমন ত্রুটি হতে পারে, তেমনি অসতর্কতার জন্য ভাইরাসের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুকিও থাকে। তাই এখনো এটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা রয়েছে। উপসর্গ থাকলে হটলাইন নাম্বারে ফোন করে জানাতে হবে।

প্রশ্ন – করোনা নিয়ে বর্তমানে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা কোনগুলো? 

উত্তরঃ  করোনা ভাইরাস ও এর সংক্রমণ নিয়ে মানুষ চিন্তিত, তবে কিছু ভ্রান্ত ধারণাও চলমান আছে। তাই সকলকে সঠিক তথ্য জেনে সচেতন থাকা জরুরী। কিছু কিছু উল্লেখযোগ্য ভ্রান্ত ধারণা আছে যেমন- বাদুড় ছাড়া অন্য কোন প্রাণী দ্বারা করোনা ভাইরাস ছড়াবে না, শুধুমাত্র সার্জিক্যাল মাস্ক পড়লেই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ হবে , অন্যদেশ থেকে জিনিস কিনলে করোনা ভাইরাস হবে , করোনা ভাইরাস এ আক্রান্ত হলেই মৃত্যু , করোনা ভাইরাস গরম আবহাওয়ার দেশে বিস্তার লাভ করতে পারে না , চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এ খাবার খেলেই করোনা ভাইরাস হবে ইত্যাদি আরো অনেক ভ্রান্ত ধারণা আছে এই ভাইরাস টি নিয়ে ।

তবে এগুলো সত্যি নয় পুরোপুরি অর্থে। এখনো সুনিশ্চিত করে বলা হয় নি কোন কোন প্রাণী থেকে এটি এসেছে। মাস্ক ব্যবহারের বিষয়টি একই, মাস্ক আসলে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা বেশি জরুরী, শুধুমাত্র মাস্ক ব্যবহারেও সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকা যাবে এমন নয় । আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ভাইরাসের সংক্রমন হলেই যে কেউ মারা যাবে এমন নয় বিষয়টি, এই রোগ থেকে ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই সঠিক তথ্য গুলো সরবরাহ করা সকলের দায়িত্ব।  

প্রশ্ন – করোনা কি শুধু নাক আর মুখের মাধ্যমেই আমাদের দেহে প্রবেশ করে?

উত্তরঃ করোনা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষ এ সংক্রমন হয়। সাধারনত আক্রান্ত ব্যক্তির ৬ ফুট এর মধ্যে থাকলে এই ভাইরাস সংক্রমন হয়। আবার আক্রান্ত ব্যক্তির হাচি কাশি থেকেই এটা সংক্রমন হতে পারে। এই ভাইরাস আমাদের দেহে নাক-মুখ দিয়েই প্রবেশ করে। 

এই ভাইরাস এ আক্রান্ত হওয়ার ২-১৪ দিনের মধ্যে লক্ষন দেখা দেয়। যাদের লক্ষণ এর মাত্রা বেশি তীব্র তাদের থেকে সংক্রমণ এর সম্ভাবনাও বেশি।    

আক্রান্ত ব্যক্তি এর মাধ্যমে ভাইরাস কোন পৃষ্ঠতলে সংক্রমিত হলে সেই পৃষ্ঠতল স্পর্শ করে অন্য ব্যক্তিও সংক্রমিত হতে পারেন। 

প্রশ্ন –  করোনা রোগের পরীক্ষার নাম কি বা ক্লিনিকে কোন টেস্ট এর মাধ্যমে এই রোগ সনাক্ত করবো?   

উত্তরঃ করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণের পরীক্ষা বাংলাদেশে কেন্দ্রীয়ভাবে শুধুমাত্র আইইডিসিআর এ করা হয়ে থাকে। কেননা এই পরীক্ষা করার জন্য বিশেষ পারদর্শিতা সহ, কিছু বিশেষ সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। নাক, গলার ভিতর থেকে অভিজ্ঞ কর্মী দ্বারা স্যাম্পল সংগ্রহ করে, তা বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে (RT-PCR) করোনা ভাইরাসের উপস্থিতির পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে এবং সঠিকভাবে করা না গেলে রোগ নির্ণয়ে যেমন ত্রুটি হতে পারে,তেমনি অসতর্কতার জন্য ভাইরাসের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুকিও থাকে। তাই এখনও এটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা রয়েছে। উপসর্গ থাকলে হটলাইন নাম্বারে ফোন করে জানাতে হবে।  

প্রশ্ন – আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। সম্প্রতি আমার ঠান্ডা লাগা, সর্দি, কাশি গলা ব্যথা এসব উপসর্গ দেখা দিয়েছে।করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টিভিতে বা সব গণ মাধ্যমেই এসকল উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু উপসর্গের কথা বলে ছুটি চাইতেই আমার বস রেগে মেগে একাকার। এখন আমি কি করব? কি করলে আমার সহকর্মীরা ও ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকবে?

উত্তরঃ আপনার বস শান্ত হলে উনাকে আবার আপনার স্বাস্থ্যের কথা, উদ্বিগ্নতার অনুভূতি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনার ঝুঁকির কথা জানিয়ে বলতে পারেন আপনার ছুটির চাওয়ার কারণ। সে সাথে অফিসের কলিগদের সুস্থতাও যে গুরুত্বপূর্ণ তাও জানাতে পারেন। আর আপনি যেহেতু জানেন করোনার উপসর্গ , এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সেই বিষয়গুলো আপনি সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। যার ফলে তারা নিরাপদ থাকতে পারবেন। 

প্রশ্ন – করোনা ভাইরাস উদ্ভব হয়েছে কিভাবে বা কোথা থেকে বা কিসের থেকে?

উত্তরঃ করোনা ভাইরাস এর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। ২০১৯-২০২০ সালের যে মহামারী দেখা দিয়েছে সেটা হয়েছে করোনা ভাইরাস এর SARS-CoV-2 প্রকারভেদ থেকে। এটার আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে COVID-19 ।এর উৎপত্তি স্থল নিয়ে এখনও গবেষণা করা হচ্ছে। তবে ধারনা করা হচ্ছে এটা বাদুড় এর মধ্যে দেখা দেয়। বাদুড় থেকে মানুষ এর স্পর্শে এসে এটি মানুষকেও আক্রান্ত করে এবং পরবর্তীতে মানুষ থেকে মানুষ সংক্রামণ দেখা দেয়।    

প্রশ্ন –  করোনা হলে কি করতে হবে? 

উত্তরঃ কারো জ্বর (১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট এর বেশী) , গলা ব্যাথা, কাশী, শ্বাসকষ্ট  ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে বিলম্ব না করে ডাক্তার দেখিয়ে নিতে হবে। এ সংক্রান্ত উপসর্গ দেখা দিলে অতিসত্বর সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করুন। 

এই ভাইরাস এর জন্য সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা বা ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। এক্ষেত্রে আইসোলেশন বা রোগীকে আলাদা রাখা বিশেষ জরুরী। কেননা এটি আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যের কাছে ছড়াতে পারে। 

কাজেই এই ভাইরাস যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে, হাঁচি কাশির মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। করোনা ভাইরাস নিয়ে খুব বেশি আতংকিত হবার প্রয়োজন নেই। কিছু সাধারন হাইজিন মেনে চললে এই রোগ সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যেমনঃ 

  •  জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসমাগম পরিহার করা, বাহিরে বের হলে গনপরিবহন এড়িয়ে চলা। 
  •  বাহিরে বের হলে মাস্ক পরিধান করা ,মানুষের সাথে করমর্দন ,আলিঙ্গন , চুম্বন বন্ধ রাখুন।
  • বারবার সাবান বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করে হাত মুখ ধৌত করা । অথবা এলকোহল বেসড স্যানিটাইজার সাথে রাখুন। 
  •  হাত না ধুয়ে চোখ,মুখ,নাক স্পর্শ না করা।
  •  অসুস্থ পশুপাখির সংস্পর্শে না আসা।
  • প্রচুর পানি পান করা এবং ভিটামিন সি যুক্ত ফলমূল , শাকসবজি , বেশি খাওয়া, মাছ মাংস  ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে।
  • হাঁচি কাশি দেয়ার পরে, রোগী সেবা দেয়ার পরে,মলত্যাগের পরে,খাবার খাওয়ার আগে এবং রান্নার আগে হাত ধুয়ে নেয়া।  

প্রশ্ন –  করোনা ভাইরাস কি? কেন হয়? 

উত্তরঃ করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। ভাইরাসটির আরেক নাম COVID-19 বা নভেল করোনাভাইরসা। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস।  করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, তার মধ্যে এটি একটি যা এখন চীন, ইতালি সহ বেশ কিছু দেশে সংক্রমিত হয়েছে। করোনা ভাইরাসটি মার্স ও সার্স সমগোত্রীয়। ভাইরাসটির অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে, হাঁচি কাশির মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে এর সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেরনি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সম্ভবত কোনও প্রাণী এর উৎস ছিল। প্রাণী থেকেই প্রথমে ভাইরাসটি কোনও মানুষের দেহে ঢুকেছে এবং তারপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে।

সাধারনত ভাইরাস এ আক্রান্ত হওয়ার ২-১৪ দিনের মধ্যে কিছু সাধারন লক্ষণ দেখা যায়। যেমনঃ

১। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বর। 

২। করোনাভাইরাস এ আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে, যা সাধারন ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশিতে দেখা যায়না।

৩। কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে মানুষকে নিয়মিত হাত ভালোভাবে ধোয়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং ঠান্ডা ও ফ্লু আক্রান্ত মানুষ থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কারো এধরনের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে ঘর থেকে বাইরে না যাওয়া, অন্যের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা, মাস্ক ব্যবহার করা, ডাক্তার দেখানো জরুরী। ডাক্তারদের পরামর্শ, বারবার হাত ধোয়া, হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা ও ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পড়া উচিত।   

আপনি যদি দেশ ভ্রমণ করে থাকেন তবে ফিরে আসার ১৪ দিনের মধ্যে এবং ভ্রমণ ছাড়াও  জ্বর (১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট এর বেশী) , গলা ব্যথা, কাশী, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বিলম্ব না করে ডাক্তার দেখিয়ে নিতে হবে। এ সংক্রান্ত উপসর্গ দেখা দিলে অতিসত্বর সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করুন।     

সচেতন হন, সুস্থ থাকুন। অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভীড় না করে মায়ার প্রেসক্রিপশন প্যাকেজ কিনে অনলাইনে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। বাসার ভিতরে থাকুন।