অফিসে কিভাবে নিজেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখব?

আপনি সপ্তাহে অন্তত ৫ দিনের, কমপক্ষে আট ঘন্টা অফিসে কাটান। আপনার মনে আছে কি শেষ কবে আপনার কাজের ডিভাইস, ডেস্ক টপ পরিষ্কার করেছেন? 

আপনার অজান্তেই আপনার কাজের স্থানের গলি ঘুপচি কিংবা অদৃশ্যমান জায়গায় লুকিয়ে থাকতে পারে জীবাণু। অফিসের ল্যাপটপের বাটনের ফাঁকে, লিফটের বাটনে কিংবা অফিসের ফ্রিজের হাতলে লুকিয়ে থাকতে পারে রোগ সংক্রামক জীবাণু।      

সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড হেলথ ওরগাজানাইজেশন (WHO) ঘোষিত বিশ্ব মহামারী সৃষ্টিকারী নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের অন্যতম মাধ্যম কিন্তু সংক্রামিত সারফেস বা জায়গা। 

এ পরিস্থিতিতে কিভাবে আপনি আপনার কর্মস্থলকে সংক্রমণ মুক্ত রাখবেন? চলুন জেনে নেই এ সংক্রান্ত কিছু টিপস। 

কাজের স্থান ও সামগ্রী এলকোহল সমৃদ্ধ ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেলা: কাজের শুরুতেই আপনার কাজের ডেস্কের উপরের অংশ, ল্যাপটপের বাটন , অফিসের ল্যান্ডফোনের বাটন ও ডায়াল, আপনার ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনের বাহ্যিক অংশটি এলকোহল যুক্ত ক্লিনার ওয়াইপ দিয়ে এমনভাবে মুছতে হবে যেন জায়গাগুলো কমপক্ষে ৩-৫ মিনিট ধরে এই দ্রবণটি দ্বারা ভেজা থাকে। আপনি এধরণের ওয়াইপ বাজারে সহজলভ্য না হলে একটি পরিষ্কার কাপড়ে অ্যালকোহল দ্রবণ বা জীবাণু প্রতিরোধী দ্রবণ নিয়ে ও কাজটি করতে পারেন। ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ক্ষেত্রে অবশ্যই সাবধানতা স্বরূপ এমনভাবে মুছতে হবে যেন শুধু উপরিপৃষ্ট ভিজে,কিন্তু কোন ভাবেই যেন দ্রবণটি ডিভাইসের ভেতরে না প্রবেশ করতে পারে। অফিসের ডেস্ক, মেঝে এগুলো নিয়মিতভাবে জীবাণুনাশক দ্রবণ দিয়ে মুছতে হবে।  

বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন: অফিসের বেসিনে বারবার যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন কারণ প্রতিবার দরজার নব ধরার পর, খাওয়ার আগে ও পরে, নাক মুখে হাত দেওয়ার পরে এরকম আরও অনেক বিষয়ের পরই আপনাকে সঠিক নিয়মে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। কোন কারণে হাত ধোঁয়া সম্ভব না হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে স্যানিটাইজারের চেয়ে সাবান বেশী কার্যকরী কারণ স্যানিটাইজার দিয়ে পুরোপুরি ধুলা ময়লা পরিষ্কার সম্ভব নয়।

হ্যান্ডসেক এড়িয়ে চলুন:  অফিসে হ্যান্ডসেক বা করমর্দন না করা এখন আর অভদ্রতা নয় বরং করমর্দন এড়িয়ে চলাই এখন কাম্য। কর্মস্থলে যথাসম্ভব শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। স্বাগত জানাতে সংস্কৃতি বুঝে দূর থেকেই হাই, হ্যালো, থামস আপ বা বাউ করুন।    

আপনার স্মার্টফোন টি পরিষ্কার করুন:  এত কিছু পরিষ্কার করলেন কিন্তু যে ফোনটি সারাদিন আপনি হাত দিয়ে ধরছেন সেই ফোনটি ই যদি পরিষ্কার বা ভাইরাস মুক্ত না করেন তবে পুরো ব্যাপারটি গলদ ঘর্ম হওয়া ছাড়া আর কিছুই না।        

আপনার এন্ড্রয়েড কিংবা অ্যাপল হ্যান্ডসেটটি একটি মাইক্রোফাইবার কাপড় হালকা সাবান পানিতে ভিজিয়ে ভালভাবে পানি নিংড়িয়ে সময় নিয়ে বাইরের অংশটি মুছে ফেলুন। এক্ষেত্রে ডিভাইসের ভেতর কোন ভাবেই যেন পানি না ঢুকে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।    

এক্ষেত্রে, ডিভাইসের দোকানে পাওয়া স্যানিটাইজিং ওয়াইপ্স বা  সল্যুশন নির্দেশনা মোতাবেক আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

একে অপরের স্পর্শ বাঁচিয়ে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন। নিরাপদ থাকুন।

এছাড়াও, এই ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে আপনাকে জানতে হবে পরিষ্কার করা, জীনাণুমুক্ত করা এবং স্যানিটাইজিং এর মধ্যে পার্থক্য। চলুন জেনে নেই এ বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য আসলে কি?

পরিষ্কার করা (Cleaning): পৃষ্ঠ থেকে জীবাণু এবং ময়লা অপসারণ করে। পৃষ্ঠতল পরিষ্কার করতে আপনি সাবান এবং পানি ব্যবহার করতে পারেন। এটি পৃষ্ঠতল কে ১০০% জীবাণুমুক্ত না করলেও তাদের অপসারণ করে তাদের সংখ্যা হ্রাস করে। পৃষ্ঠতলগুলিকে জীবাণুমুক্ত করার আগে এটিকে পরিষ্কার করা উচিৎ।    

জীনাণুমুক্ত করা (Disinfecting): জীবাণুমুক্তকরণ পৃষ্ঠতলের জীবাণু ধবংস করে।জীবাণুনাশক রাসায়নিকগুলি সাবানের চেয়ে শক্তিশালী তবে অগত্যা দৃশ্যমান ময়লা অপসারণ করে না। জীবাণু নিধণ সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত করার জন্য, এ জাতীয় পণ্যগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের (৩ থেকে ৫ মিনিট) জন্য একটি পৃষ্ঠের উপরে রাখা প্রয়োজন। 

স্যানিটাইজ করা (Sanitizing): বাজারে জীবাণু-নাশক হিসেবে যেসব পণ্য পাওয়া যায় সেগুলো স্যানিটাইজারের তুলনায় জীবাণু ধবংসে বেশী কার্যকর। তবে স্যানিটাইজারও সংক্রমণ রোধে যথেষ্ট কার্যকর। 

করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সচেতন হন, মায়াতে প্রশ্ন করুন। তথ্যসূত্র: সি এন এন

Leave a Reply