করোনা ভাইরাস: জেনে নিন মায়াতে সবচেয়ে বেশী জিজ্ঞেসিত ৫ টি প্রশ্নের সমাধান - মায়া

করোনা ভাইরাস: জেনে নিন মায়াতে সবচেয়ে বেশী জিজ্ঞেসিত ৫ টি প্রশ্নের সমাধান

নভেল করোনা বা করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। সম্প্রতি বাংলাদেশে এই ভাইরাস সংক্রমণের খবরে দেশবাসী আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। নানা রকম বিভ্রান্তিমুলক অথবা ভুল তথ্য সংবলিত প্রচার প্রচারণায় ভরে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। মায়ার অনেক গ্রাহক এসব বিভ্রান্তি দূর করতে এবং সঠিক পরামর্শের জন্য মায়ার প্লাটফর্মে প্রশ্ন করেছেন। চলুন জেনে নেই এসব প্রশ্নের মধ্যে থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে জিজ্ঞাসিত পাঁচটি প্রশ্নের উত্তরঃ  

প্রশ্ন ১: করোনা ভাইরাস কি?    

মায়া বিশেষজ্ঞের উত্তর: চীন সহ বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসটির সংক্রমন দেখা যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসটি মার্স ও সার্স সমগোত্রীয়। আপনি যদি এসব দেশে সম্প্রতি ভ্রমন করে থাকেন তবে ফিরে আসার ১৪ দিনের মধ্য জ্বর  (১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট এর বেশী),গলা ব্যথা,কাশি, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে আপনার দেহে করোনা ভাইরাস সংক্রামনের সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি অতিসত্বর সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অথবা প্রদত্ত হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করুন।      

প্রশ্ন ২: করোনা কিভাবে ছড়ায়?

মায়া বিশেষজ্ঞের উত্তর: করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায় নি। ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতিমধ্যেই ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে – যার ফলে এটি আরো বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। করোনাভাইরাস এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে পারে এবং একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে ছড়াতে পারে। এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে । 

প্রশ্ন ৩: করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক ভাবে কি কি উপসর্গ দেখা যায়? 

মায়ার বিশেষজ্ঞের উত্তরঃ করোনাভাইরাস এর সুনির্দিষ্ট লক্ষন বা উপসর্গ বেশি কিছু নেই। সাধারনত ভাইরাস এ আক্রান্ত হওয়ার ২-১৪ দিনের মধ্যে কিছু সাধারন লক্ষণ দেখা যায়। যেমনঃ

  • সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বর
  • করোনাভাইরাস এ আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে, যা সাধারন ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশিতে দেখা যায়না
  • কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে

প্রশ্ন ৪: করোনা প্রতিরোধের উপায় কি? 

মায়ার বিশেষজ্ঞের উত্তর: করোনা ভাইরাস নিয়ে খুব বেশি আতংকিত হবার প্রয়োজন নেই। কিছু সাধারন হাইজিন মেনে চললে এই রোগ সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যেমন:

  • জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসমাগম পরিহার করা, বাহিরে বের হলে গনপরিবহন এড়িয়ে চলা। 
  • বাহিরে বের হলে মাস্ক পরিধান করা ,মানুষের সাথে করমর্দন ,আলিঙ্গন , চুম্বন বন্ধ রাখুন।জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসমাগম পরিহার করা, বাহিরে বের হলে গনপরিবহন এড়িয়ে চলা। 
  • বারবার সাবান বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করে হাত মুখ ধৌত করা অথবা এলকোহল বেসড স্যানিটাইজার সাথে রাখা।   
  • হাত না ধুয়ে চোখ,মুখ,নাক স্পর্শ না করা।
  • অসুস্থ পশুপাখির সংস্পর্শে না আসা।
  • প্রচুর পানি পান করা এবং ভিটামিন সি যুক্ত ফলমূল , শাকসবজি , বেশি খাওয়া।
  • হাঁচি কাশি দেয়ার পরে,রোগী সেবা দেয়ার পরে,মলত্যাগের পরে,খাবার খাওয়ার আগে এবং রান্নার আগে হাত ধুয়ে নেয়া। 

প্রশ্ন ৫: করোনার প্রতিকারের উপায় আছে কি?  

মায়ার বিশেষজ্ঞের উত্তর: করোনাভাইরাস এ আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যারা বয়ষ্ক অথবা আগে থেকেই কোন জটিল অসুখ এ ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে । তাদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হবেনা।কিন্তু কোয়ারেন্টাইন বা আলাদা ভাবে মানুষের সংস্পর্শের বাইরে থাকতে হবে। ভাইরাসজনিত অসুখ হওয়ার কারনে এটার কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে কোন এন্টিবায়োটিক কাজ করে না। তবে এই ভাইরাস এর বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।করোনা ভাইরাস নিয়ে খুব বেশি আতংকিত হবার প্রয়োজন নেই। এ সংক্রান্ত উপসর্গ দেখা দিলে অতিসত্বর সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করুন। 

আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক এবং সচেতন থাকুন। অন্যকেও সচেতন করুন। করোনা সংক্রান্ত যে কোন প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানতে মায়াতে প্রশ্ন করুন,সুস্থ থাকুন।      

Leave a Reply