করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশ কতটুকু ঝুঁকিতে?

২০১৯-এনকোভি – যা নভেল করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত – সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের শিরোনামে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এশিয়ার বিভিন্ন অংশ এবং এর বাইরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।সম্প্রতি বাংলাদেশেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত তিন জন রোগীকে সনাক্ত করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল বাংলাদেশ কিংবা এ দেশের নাগরিকদের ঝুঁকি কতখানি?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য অসুস্থতার মতো এই ভাইরাসের ক্ষেত্রেও সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং জ্বরসহ হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে । কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।  

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্যানুযায়ী,বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ২৫ লক্ষ ১৭ হাজার ৩ শত ৬১ জন। এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ৮,২২৯ (প্রতি বর্গকিঃমিঃ)। এই বিপুল জনসংখ্যার অনেকের ই অফিস, আদালত, বাচ্চার স্কুলে যাওয়ার জন্য যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হল গণপরিবহণ। অফিস ও স্কুল টাইমে প্রায় প্রতিটি গ্ণপরিবহনেই প্রায় টাইটুম্বুর অবস্থা যা হুট করে কমিয়ে ফেলার মত কোন সুযোগ আমাদের নেই। এছাড়াও ঢাকার শহরের অনেক এলাকা ই ঘন বসতি পুর্ণ। যেখানে সংক্রামক ব্যক্তি থেকে ১ মিটার বা তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে সেখানে রাস্তা দিয়ে হাটতে গেলেও অনেক সময় হাটার জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যাক্তি উপসর্গ বুঝে নিজ উদ্যোগে বা ডাক্তার রেফার করলে  রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর হটলাইনে যোগাযোগ করলে তারা নমুনা সংগ্রহ করে ফলাফল নির্ণয় করে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে কোয়ারেন্টাইন করার আগ পর্যন্ত আরও অনেকেই ওই ব্যাক্তি দ্বারা সংক্রামিত হবার ভয় কিন্তু থেকেই যায়।      

জনসচেতনতার নামে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার নিজের প্রতি  অধিক সচেতনতার ফলে কেউ কেউ হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, লিকুইড হ্যান্ড ওয়াশের মত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্রয় করে জমিয়ে রাখার কারণে বাজারে এগুলোর সাময়িক ঘাটতি তৈরী হয়েছে।  

এই যদি হয় আমাদের সামগ্রিক অবস্থা তবে ঝুঁকি বাড়বে বই কমবে না। যেহেতু এই রোগের কোন প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, সেহেতু রোগের বিস্তার ঠেকাতে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই। আতঙ্কিত না হয়ে জনসচেতনতা তৈরী করাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান। তবে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রত্যেক ব্যাক্তির ই এই বিষয়টি জেনে রাখা ভাল যে, আপনার নিজের সুরক্ষার জন্যে হলেও আপনার আশেপাশের মানুষকে সচেতন করতে হবে। সবাই যেন প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন- সাবান, স্যানিটাইজার, হ্যান্ড ওয়াশ মাস্ক গুলো সহজে এবং হাতের নাগালের মধ্যে সুল্ভ মুল্যে পায় এবং সঠিক ভাবে ব্যবহার করে তা নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী ও সর্বোপরি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে। কারণ অন্যরা সুরক্ষিত না হলে আপনি নিজেও কিন্তু ঝুঁকিমুক্ত নন।    

জনসংখ্যা বহুল এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষগুলো সুস্থভাবে বেঁচে থাক, সংক্রামক মুক্ত থাক এটিই আমাদের কাম্য। করোনা সংক্রান্ত যে কোন প্রশ্নের উত্তর বা ভুল ধারণা দূর করতে মায়াতে প্রশ্ন করুন। কারণ, মায়া দিচ্ছে আপনার শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ডিজিটাল সমাধান।                    

Leave a Reply