সবার জন্য এক আইন

২০১৩ সালে রানা প্লাজা বিপর্যয়ের পর থেকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানায় পেশাগত স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষার উন্নয়নের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তথাপি শ্রমিকদের অধিকার এখনও সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত নয়, এবং অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিক সমিতির স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।    

ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপের মুখে বাংলাদেশ এখন তাদের শ্রম আইনটি সংশোধন করতে কাজ করছে। এর ফলাফল শ্রমিকদের জন্য আসেলেই  ফলপ্রসু হবে কিনা তা অবশ্য এখনও নিশ্চিত নয়।

রানা প্লাজার কারখানার ভবনটি এতটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল যে এটি ভেঙে পড়ে যায় এবং এর ধ্বংসস্তূপের নিচে জনসাধারণের ও  শ্রমিকদের জীবন্ত সমাধি রচিত হয়েছিল।এই ঘটনায় ১১০০ এরও বেশি লোক মারা গিয়েছিলেন এবং কমপক্ষে দ্বিগুণ আহত হয়েছিলেন।

কারখানার উৎপাদিত পোশাকগুলির মধ্যে একটি বড় অংশ উৎপাদিত হত ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকান ব্র্যান্ডের জন্য। এই দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইনের দায়িত্বজ্ঞান সহ  অমানবিক কর্ম পরিবেশ ও শোষণ নিয়ে দীর্ঘসময় ধরে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল।   

এই বিপর্যয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বৈশ্বিক এবং স্থানীয় উভয় ট্রেড ইউনিয়নের সাথে একত্রিত হয়। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের কারখানার পরিবেশ নিয়ে বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়, তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বিদেশি ক্রেতাদের পক্ষে কারখানার বিদ্যুৎ ও অগ্নি নিরাপত্তা, অবকাঠামো ঝুঁকি, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশ সহ বিভিন্ন বিষয় উন্নয়নে কার্যক্রম শুরু করে ক্রেতাদের দুটি জোট অ্যাকর্ড ও এলায়েন্স।রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকরী একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। অ্যাকর্ড কর্মপরিবেশের মান উন্নয়নে বাংলাদেশের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে স্বাধীনভাবে পরিদর্শনপূর্বক তাদের  বিভিন্ন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে সংশোধনের জন্য এবং তাদের উপলব্ধিগুলো জনসম্মুখে প্রচার করে। 

২০১৩ সাল থেকে, ২০ টিরও বেশি দেশের ২০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড আইনত বাধ্যতামূলকভাবে  অ্যাকর্ডের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। পাঁচ বছর ধরে চলার পর, আগামী বছর এটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অনেক অগ্রগতি সত্ত্বেও, দুঃখজনক সত্যটি হল, অ্যাকর্ড ঠিকাদারদের দ্বারা পরিদর্শন করা ১৬০০ টিরও বেশি কারখানা এখনও নির্ধারিত সময়ে তাদের কাজ শেষ করতে পারেনি। উদাহরণস্বরূপ, সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য কমিটিগুলি  এখনও অনেক জায়গায় পরিকল্পনা মতো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হ’ল স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী সামাজিক অবকাঠামোর অভাব যা এই প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক স্তর থেকে বাংলাদেশ স্থানান্তর করার পক্ষে ইঙ্গিত দিচ্ছে ।

পশ্চিমা হস্তক্ষেপ?

অ্যাকর্ড চুক্তিটি ২০১৮ এর পরও আরও তিন বছরের জন্য বাড়ানো হবে এমন সাম্প্রতিক ঘোষণা মোটেও  অবাক হওয়ার মতো ছিল না। এ চুক্তিতে স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কর্মসূচির অধীনে, চুক্তিকালীন সময়ে যে উন্নতি সাধিত হয়েছিল তা ঠিক মত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা হবে। নতুন চুক্তিটিতে পূর্বের চুক্তির  তুলনায় শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়গুলোতে অনেক বেশী উন্নতি সাধন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেঃ  

  • নিরাপত্তাজনিত কারণে কারখানা বন্ধ হওয়া বা স্থানান্তরের পূর্বে শ্রমিকদের বরাদ্দকৃত ভাতা প্রদান। 
  • শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের, যারা নিজে বা দলগতভাবে তাদের নিরাপত্তা জনিত ঘাটতি সম্পর্কে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কথা বলবে তাদের  নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।  

পূর্ববর্তী চুক্তির তুলনায়, নতুন অ্যাকর্ডের পরিধি পোশাক কারখানার বাইরেও স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলির হোম  টেক্সটাইল, সুতা, কাপড় এবং অন্যান্য পণ্য সরবরাহকারীদের পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে। দুই বছরের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন দল বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। একটি সফল ট্রান্সন্যাশনাল প্রতিষ্ঠান হিসাবে কেউ কেউ এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন; অন্যরা এটিকে পশ্চিমের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ হিসাবে দেখছেন। নিয়োগকর্তা এবং কারখানা মালিকরা, বিশেষত, এই বর্ধনের বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন। যখন তারা বর্ধিত অ্যাকর্ডের কেবলমাত্র আংশিক সদস্য হিসাবে গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তারা ঘোষণা করে যে তারা “shonman” (সম্মান) নামে একই ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তবে এর পর থেকে এ ব্যাপারে আর কিছুই শোনা যায়নি।  

নিয়োগকারীদের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগ করে আসছে যে, বহির্বিশ্বের শক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও প্রতিষ্ঠানগুলিতে হস্তক্ষেপ করছে। বাংলাদেশ বিশেষত,  EU এর ভুমিকাতে অস্বস্তি বোধ করছে কারণ বাংলাদেশ কারখানায় শ্রমিক অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত না করলে EU “Everything but Arms (EBA)” নীতিতে দুদেশের মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্যক চুক্তি গুলোর বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবে। এই নীতিতে EU তাদের মার্কেটে সমস্ত পণ্যসমূহ (অস্ত্র ও অস্ত্রশস্ত্র ব্যতীত) সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত এবং কোটা ফ্রি ভাবে প্রবেশাধিকার দিয়ে থাকে।           

বাংলাদেশ একটি তরুণ ও উদীয়মান দেশ। এটি ২০১৫ সালে স্বল্প মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অর্থনৈতিক ক্ষতি হবার ভয় পায় কারণ গার্মেন্টস উৎপাদন এখন পর্যন্ত  বাংলাদেরশের সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ শিল্প, যা দিয়ে বার্ষিক রপ্তানি আয় ২৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২০২১ সালের মধ্যে এই সংখ্যাটি দ্বিগুণ করার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।বর্তমানে সমস্ত টেক্সটাইল রপ্তানির ৬০% এরও বেশি ইউরোপীয় ইউনিয়নে যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পাদিত (EBA) চুক্তি, মূলত আমদানি শুল্ক এবং পরিমাণগত বিধিনিষেধকে শিথিল করে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রেখেছে। এটি হারালে বাংলাদেশ মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।  

শ্রম অধিকার লঙ্ঘন

যদিও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নজরদারীতে রয়েছে তথাপি শ্রম-অধিকার লঙ্ঘন বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে আশুলিয়ায় উৎপাদন কারখানায় শ্রমিক আন্দোলন এর একটি বড় উদাহরণ।  গত বছরের শেষদিকে, বিপুল সংখ্যক টেক্সটাইল শ্রমিক রাস্তায় নেমেছিল। তারা মাসিক সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধির দাবি করেছিল, যা ২০১৩ সাল থেকে ৫,৮০০ টাকা (প্রায় €৬০) হয়েছে। এর পরেই প্রায় ১,৫০০ শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ৩৫ জন ট্রেড-ইউনিয়ন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বরখাস্ত করা অনেকেই এখনও পুনর্বহাল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।  

স্ট্যান্ডার্ড প্রয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সম্মেলন কমিটি বারবার বাংলাদেশে শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উল্লেখ করেছে, বিশেষত সমিতির স্বাধীনতার ক্ষেত্রে। ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে লাল ফিতার দৌরাত্ম অনেকাংশে দায়ী। 

সরকারকে এই বিষয়গুলি অবশ্যই দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং ই ইউ যে ধরণের সংস্কার কর্মসূচি দাবি করেছে তা খসড়া করা উচিত।বাংলাদেশ যদি এটি করতে ব্যর্থ হয় তবে ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে যা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য বিধিগুলির ক্ষেত্রে অস্থায়ী স্থগিতাদেশের কারণ হতে পারে। বাংলাদেশের সাফল্য নির্ভর করবে অন্যান্য বিষয় যেমন  সংস্কারের পর শ্রম অধিকার প্রসারিত হয় কিনা তার উপর।   

১৬কোটি জনগণ অধ্যুষিত বাংলাদেশ, যার প্রায় অর্ধেক সংখ্যকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। অর্থনৈতিক ভাবে সক্রিয় জনসংখ্যা প্রায় ৬০ মিলিয়ন। প্রায় ৪.৪ মিলিয়ন লোক গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত, তবে তাদের পাঁচ শতাংশেরও কম সংখ্যক লোক শ্রমিক সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য অনেক শিল্পে, এই সংখ্যাটি আরও কম। প্রায় ৮০% লোক দ্রুত বর্ধমান অনানুষ্ঠানিক খাতে এবং ২০% লোক প্রথাগত খাতে নিযুক্ত রয়েছে।  

অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত কর্মীদের মধ্যে বেশীর ভাগই মহিলা কর্মী। সাধারণভাবে, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা শ্রম আইন দ্বারা সুরক্ষিত নয়, এমনকি আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের কর্মীরাও বিধিবদ্ধ কর্মসংস্থান অধিকার আইন দ্বারা উপকৃত হন না। কিছু কর্মী “শ্রমিক” বিভাগের আওতার মধ্যে আসে না। তদুপরি, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলিতে (ইপিজেড) সম্পূর্ণ ভিন্ন আইন প্রয়োগ হয়, যেখানে ইউনিয়নীকরণ আইনত অসম্ভব।  

ট্রেড ইউনিয়নগুলি তাই এই দাবি উত্থাপন করে: “সকল শ্রমিকের জন্য একটি আইন”। এমন একটি  জাতীয় আইন যা সমস্ত শিল্প এবং সারা দেশে প্রয়োগ করা হবে। এছাড়াও একটি বিবেচনার বিষয় হল, বাংলাদেশে এরূপ আরও ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিকল্পনাধীন রয়েছে। তবে ইউনিয়ন কর্মীদের প্রত্যাশা বেশি নয়। বাহ্যিক চাপ স্বতেও কোনও বড় অগ্রগতি প্রত্যাশিত নয়।

পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা 

সংস্কার প্রক্রিয়া সমর্থন করার জন্য ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে নিয়োগকর্তা, শ্রম ও সরকারের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তথাপি, কমিটি টি কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য সমাজব্যাপী  পুনরায় চিন্তাভাবনা করা দরকার। আজ অবধি, ট্রেড ইউনিয়নগুলি, যাদের স্মমিলিত প্রচেষ্টায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রচার সম্ভব হতে পারে তাদের, সামাজিক সমস্যা গুলো সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কখনও বিবেচনা করা হয় না।   

ট্রেড ইউনিয়নগুলিকে সমাজে তাদের পূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম করার জন্য, বাংলাদেশে কারখানাগুলোতে আইএলওর মূল শ্রম মানগুলির যেগুলো সরকার অনুদিত সেগুলো অনুসরণ করে সম্পূর্ণ কমপ্লায়েন্স প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যদিকে,ইউনিয়নগুলিকেও তাদের আরও বৃহত্তর সাস্টেইনেবিলিটি জন্য প্রচেষ্টা করতে হবে। তারা বিভক্তি, রাজনীতিকরণ ও মারামারি করে অকেজো হয়ে রয়েছে।সাস্টেইনেবিলিটি নিশ্চিতকরণ করার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তারা ভবিষ্যতে তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং মহিলাদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে পারে। অনেকক্ষেত্রে, পুরুষদের ট্রেড ইউনিয়নগুলিতে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে যদিও বেশীর ভাগ সেক্টর মহিলা কর্মী দ্বারাই পরিচালিত হয়। গার্মেন্টস শিল্পে, উদাহরণস্বরূপ, ৬০% এর ও বেশী মহিলা কর্মী রয়েছে। 

বাংলাদেশকে তার সফলতার পথ অব্যাহত রাখতে আরও অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। অ্যাকর্ডের সম্প্রসারণ এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এই প্রতিশ্রুতি নির্দেশ করে  যে, তারা বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে বিশ্বস্ত মনে করে এবং তারা সেখানে স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা মানগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করে যাবে। এটি অবশ্যই সার্বিক আত্নবিশ্বাস উন্নয়নে ভুমিকা রাখবে যেখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হ’ল আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি আরও সস্তা এবং দ্রুত উৎপাদনশীল দেশে চলে যাবে।   

বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অবশ্যই তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। টেকসই অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এবং ব্র্যান্ডগুলির সাপ্লাই চেইনের সাথে সংযুক্ত শ্রমিকদের অধিকার উন্নয়নে তাদের সহায়তার উপর অনেকাংশে নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে, বহুজাতিক সংস্থাগুলির গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনগুলির দায়িত্ব সম্পর্কে চলমান বিতর্কটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো অগ্রনী ভুমিকা পালন করবে।   

মূলকথা হল, বড় সংস্থাগুলিকে তাদের সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত কর্মীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের এবং কর্ম পরিবেশের ঝুকিসমুহ চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হতে হবে। তাদের তখন অবশ্যই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্থ হলে তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। ফ্রান্স এই বিষয়গুলি নিশ্চিত করার জন্য একটি আইন পাস করেছে। অন্যান্য দেশগুলিকে অবশ্যই এটিকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে অনুসরণ করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবী পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, সুতরাং টেকসই সাফল্য নির্ভর করবে মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে আইনের যথাযথ প্রয়োগের উপর।

Leave a Reply