বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শ্রমমান

আইএলও তার বাংলাদেশী অংশীদারদের সাথে আন্তর্জাতিক শ্রম মান অনুসরণে কমপ্লায়েন্স প্রতিষ্ঠায়  বাংলাদেশের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করার এবং নীতিমালা পরামর্শ প্রদানের কাজ করছে। 

আইএলও কনভেনশনস: বাংলাদেশ ২২ জুন ১৯৭২ সাল থেকে আইএলওর একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সক্রিয় সদস্য রাষ্ট্র। আজ অবধি, আইএলও ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত সাতটি মৌলিক কনভেনশন সহ বাংলাদেশ ৩৩ টি আইএলও কনভেনশনকে অনুমোদন দিয়েছে।আইএলও অফিস তার ত্রিপক্ষীয় সদস্যদের এবং সামাজিক অংশীদারদের সাথে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য অর্জনের জন্য একযোগে কাজ করছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন (২০১৩): বাংলাদেশ সরকার ২০০৬ সালের শ্রম আইন আরও সংশোধন করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম মানের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ করার জন্য।  

সরকার ২০১৩ সালের নতুন শ্রম আইনে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা,অ্যাসোসিয়েশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার, পেশাগত স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষার অবস্থার উন্নতি করার জন্য  ৮৭ টি ধারাতে সংশোধনী এনেছে।  

আইএলও এই নতুন আইন কে আন্তর্জাতিক শ্রম মানের পর্যায়ে আনার জন্য কি কি সংশোধনী লাগবে তা প্রদান করেছে।বাংলাদেশ সরকার এই মর্মে মত প্রকাশ করেছে যে, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ত্রিপক্ষীয় অংশীদারদের সাথে পরামর্শ করে এবং আইএলওর সহায়তায় যথাযথভাবে বাংলাদেশ শ্রম আইন আরও সংশোধন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন কার্যবিধি: ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ শ্রম আইনের বাস্তবায়ন বিধি জারি করে। আইএলও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে খসড়া বিধি সম্পর্কে মন্তব্য করেছে এবং সক্রিয় ভাবে উৎসাহিত করেছিল এই বলে যে এই বিধিগুলি আন্তর্জাতিক শ্রমের মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।  

রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) সম্পর্কিত আইন: বাংলাদেশ সরকার “বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৩” শিরোনামে ইপিজেড সম্পর্কিত একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইএলও এই খসড়া আইনের বিষয়ে মতামত প্রদান করছে এবং উৎসাহিত করছে যে আইনটি আন্তর্জাতিক শ্রম মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষত আইএলও কনভেনশনস এর ফ্রিডম অফ অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড প্রোটেকশন রাইট টু অর্গানাইজড কনভেনশন, ১৯৪৮ (নং ৮৭) এবং রাইট টু অর্গানাইজড এবং কালেক্টেড বারগেইনিং কনভেনশন, ১৯৪৯ (নং ৯৮) অংশটি।

জাতীয় শ্রম নীতি (২০১২): আইএলও জাতীয় শ্রম নীতি (২০১২) এর উন্নয়নে প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সহায়তা সরবরাহ করেছে।

জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি(ওএসএইচ) নীতিমালা-২০১৩: আইএলও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি(ওএসএইচ) নীতিমালা তৈরিতে আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে। প্রক্রিয়াটির অংশ হিসাবে আইএলও সরকারী কর্মকর্তা, নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সুশীল সমাজের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। 

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি-২০১১: ইউরোপিয়ান কমিশনের অর্থায়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য একটি জাতীয় আইন (TVET) প্রণয়ন এবং স্কীল ডেভেলপমেন্ট বাস্তবায়ন আই এল ও এর একটি বড় কাজ ছিল। প্রকল্পের মূল কাজগুলোর মধ্যে ছিল একটি জাতীয় নীতি প্রণয়ন এবং প্রাসঙ্গিক আইন ও নীতি প্রণয়নের  জন্য একটি সংস্কার প্রস্তাব এবং কার্যবিধির অবস্থানের উন্নতির জন্য একটি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মাইগ্রেশন: আইএলও শ্রম মাইগ্রেশন সম্পর্কিত আইন ও নীতি কাঠামো, সিস্টেম এবং সেবার মান উন্নয়নে কাজ করেছে।বিদেশী কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ এবং সংশোধিত বিদেশী কর্মসংস্থান নীতি (২০১৩) গঠনে সহায়তা করা হয়েছে। প্রাইভেট এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি কনভেনশন, ১৯৯৭(নং ১৮১) এর বাংলাদেশ কর্তৃক অনুমোদনের বিষয়েও আইনী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।  

Leave a Reply